কর্মমুখী প্রশিক্ষণ সহায়তা দিয়ে হিজড়াদের পাশে আছে সরকার

0

সময় এখন ডেস্ক:

হিজড়া জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যারই একটি অংশ। সমাজসেবা অধিদপ্তরের জরিপ মতে, বাংলাদেশে হিজড়ার সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। আবহমানকাল থেকে সমাজে বৈ’ষম্যমূলক আচরণের শি’কার এ জনগোষ্ঠীর পারিবারিক, আর্থসামাজিক উন্নয়নসহ শিক্ষাব্যবস্থা, বাসস্থান, স্বাস্থ্যগত উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে সমাজের মূল স্রোতধারায় সামিল করতে ‘হিজড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচি’ নামক একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ কর্মসূচির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে, স্কুলগামী হিজড়া শিক্ষার্থীদের শিক্ষিত করে গড়ে তোলা। এ জন্য ৪ স্তরে (জনপ্রতি মাসিক প্রাথমিক ৭০০, মাধ্যমিক ৮০০, উচ্চ মাধ্যমিক ১০০০ এবং উচ্চতর ১২০০ টাকা হারে) উপবৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে।

এছাড়া ৫০ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের অ’ক্ষম ও অ’সচ্ছ্বল হিজড়াদের বিশেষ ভাতা জনপ্রতি মাসিক ৬০০ টাকা, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মক্ষম হিজড়াদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও আয় বর্ধনমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করে তাদেরকে সমাজের মূল স্রোতধারায় আনয়ন এবং প্রশিক্ষণোত্তর আর্থিক সহায়তা হিসেবে ১০ হাজার টাকা প্রদান করা হচ্ছে।

১৮ বছরের বেশি বয়সী কর্মক্ষম হিজড়াদের ট্রেড ভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয় এবং প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণোত্তর অ-ফেরতযোগ্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় জানায়, ২০১২-১৩ অর্থবছর থেকে পাইলট কর্মসূচি হিসেবে দেশের ৭টি; যেমন- ঢাকা, চট্টগ্রাম, দিনাজপুর, পটুয়াখালী, খুলনা, বগুড়া ও সিলেটে ‘হিজড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচি’ শুরু হয়।

২০১২-১৩ অর্থবছরে অর্থ বরাদ্দ ছিল ৭২ লাখ ১৭ হাজার টাকা। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে নতুন ১৪টি জেলাসহ মোট ২১টি জেলায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়েছে। নতুন অন্তর্ভুক্ত জেলাগুলো হলো- গাজীপুর, নেত্রকোণা, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, জয়পুরহাট, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া ও পিরোজপুর। ওই অর্থবছরে (২০১৩-১৪) মোট বরাদ্দ ছিল ৪ কোটি ৭ লাখ ৩১ হাজার ৬০০ টাকা।

এর পরের বছর ২০১৪-১৫ অর্থবছরের এ কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ ছিল ৪ কোটি ৫৮ লাখ ৭২ হাজার টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এ কর্মসূচিকে ৬৪টি জেলাতেই সম্প্রসারিত করা হয়। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৬৪ জেলায় বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ১১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। তবে ২০১৯-২০ অর্থবছরে মোট বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ কমে দাঁড়ায় ৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকায়।

২০১২-১৩ থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছরে শিক্ষাভাতার ক্ষেত্রে উপকারভোগী হিজড়ার সংখ্যা হচ্ছে সর্বমোট ৮ হাজার ২৯২ জন, হিজড়া ভাতাভোগী ১৪ হাজার ৬৫১ জন, প্রশিক্ষণ ভাতাভোগীর সংখ্যা ১ লাখ ১০ হাজার ৭০০ জন এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছর পর্যন্ত প্রশিক্ষণোত্তর ভাতাভোগী হিজড়া ছিল ৭৪ হাজার ৩০০ জন।

শেয়ার করুন !
  • 159
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply