দুদকের ফাঁ’দে পড়ে ১০০ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী গ্রেপ্তার

0

সময় এখন ডেস্ক:

প্রায় সাড়ে ৩ বছরে ফাঁ’দ মামলায় প্রায় ১শ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যখন ঘুষখোরদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, তাতে অন্য ঘুষখোররা হয়তো শ’ঙ্কিত হচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।

মঙ্গলবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে কমিশনের পাবলিক প্রসিকিউটরদের (২য় ব্যাচ) বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান তিনি।

তিনি জানান, ঘুষ খাওয়ার অভিযোগে কমিশন অনেককেই গ্রেপ্তার করছে। বিগত সাড়ে ৩ বছরে ৮০টি ফাঁ’দ মামলা পরিচালনা করে প্রায় ১শ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাতে কি ঘুষ খাওয়া একেবারে বন্ধ হয়েছে? হয়তো হয়নি। কিন্তু যখন ঘুষখোরদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, তাতে অন্য ঘুষখোররা হয়তো শ’ঙ্কিত হচ্ছে। এটাই প্রদর্শন প্রভাব। কমিশন এ কাজটিই করছে।

তিনি বলেন, দুর্নীতি সর্বগ্রা’সী, সর্ব’ভুক এবং ধ্বং’সাত্মক অপরাধ। এটি এমন অপরাধ যার প্রভাব সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতির ঘটনা ঘটলে, অসংখ্য প্রতিষ্ঠানে এর প্রভাব পড়ে। কমিশন মামলা করছে, গ্রেপ্তার করছে এবং কোনো কোনো মামলায় সাজাও হচ্ছে। এগুলোকে দুর্নীতিবিরো’ধী কার্যক্রমের প্রদর্শন বলা যেতে পারে। যাতে অন্যরা দুর্নীতি করতে সাহস না পায়।

তাত্ত্বিকভাবে বলা যায়, কমিশনের মামলায় শতভাগ সাজা হওয়া উচিত। কারণ, কমিশনের প্রতিটি মামলা দালিলিক সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে দায়ের করা হয়। এখানে শোনা কথার সাক্ষীর প্রয়োজন নেই। তারপরও কেন শতভাগ মামলায় সাজা হচ্ছে না? গ’লদটা কোথায়?

আইনজীবীদের উদ্দেশে ইকবাল মাহমুদ বলেন, মামলায় হেরে যাওয়ার পিছনে অভিযোগপত্রের ত্রু’টি, নাকি প্রসিকিউশনের ত্রু’টি, না অন্য কিছু? এগুলো আপনারা চিহ্নিত করবেন। আপনারা নামি-দামি আইনজীবী, সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আপনাদের যোগ্যতা ও কাজের অনুপাতে কমিশন থেকে অর্থ দেয়া হয় না। এ কথা ঠিক। তবে সমাজ, দেশ ও জাতির স্বার্থে আপনারা দুর্নীতির মতো সর্ব’ভুক অপরাধের বিরু’দ্ধে ল’ড়াই করছেন।

আমি সবসময় বলি দুর্নীতিকে সম্পূর্ণভাবে দূরীভূত করা হয়তো সম্ভব নয়। তবে জন-আকাঙ্ক্ষার মাত্রায় কমিয়ে আনা সম্ভব। এটা করতে হলে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন। এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন আইনজীবীরা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত, লিগ্যাল অনুবিভাগের মহাপরিচালক মো. মফিজুর রহমান ভূইয়া, প্রশিক্ষণ ও আইসিটি বিভাগের অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ কে এম সোহেল প্রমুখ।

শেয়ার করুন !
  • 359
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!