বগুড়ায় ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে সহকারী কর কমিশনার ধরা

0

বগুড়া প্রতিনিধি:

বগুড়ায় ঘুষ লেনদেনের সময় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তাদের হাতে ধরা পড়েছেন সহকারী কর কমিশনার অভিজিৎ কুমার দে। তিনি সার্কেল-১৪ কর অঞ্চলে কর্মরত ছিলেন।

মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে দুদক বগুড়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একটি দল তাকে ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে আটক করে।

দুদক সূত্র জানায়, জেলার নন্দীগ্রাম উপজেলার ব্যবসায়ী ইউনুছ আলী কয়েক বছর আগে বেশ কিছু জমি বিক্রি করেন। এ বছর তার আয়কর ফাইলে জমি বিক্রির বিষয়টি দেখাতে চান। এজন্য তিনি কর অফিসে যোগাযোগ করলে গত ৬ মাস ধরে তার ফাইলটি আটকে রাখা হয়। এক পর্যায়ে সহকারী কর কমিশনার অভিজিৎ কুমার দে ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন।

অসহায় ইউনুছ আলী কোনো কুলকিনারা না করতে পেরে বিষয়টি নিয়ে দুদকের কাছে অভিযোগ করেন। অভিযোগ পেয়ে দুদক বগুড়া জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মনিরুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে একটি দল কর অফিসে (সার্কেল-১৪) ফাঁ’দ পাতে।

মঙ্গলবার দুপুরে অভিযোগকারী ইউনুছ আলী সহকারী কর কমিশনারের কক্ষে প্রবেশ করে ঘুষের ৫০ হাজার টাকা দেন। এ সময় দুদকের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে দুদকের দলটি তার কক্ষে প্রবেশ করে অভিজিৎ কুমার দের টেবিলের ড্রয়ার থেকে ঘুষের ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করেন। পরে দুদকের দল সহকারী কর কমিশনার অভিজিৎ কুমারকে আটক করেন।

দুদক বগুড়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম বলেন, আটক অভিজিৎ কুমারের টেবিলের ড্রয়ার থেকে ঘুষের ৫০ হাজার টাকা উদ্ধারের পর তিনি স’ন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। তার বিরু’দ্ধে দুদক আইনে মামলা করা হবে। একই সঙ্গে তার অ’নিয়মের বিভিন্ন কাগজপত্র জ’ব্দ করা হয়েছে।

দুদকের ফাঁ’দে পড়ে ১০০ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী গ্রেপ্তার

প্রায় সাড়ে ৩ বছরে ফাঁ’দ মামলায় প্রায় ১শ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যখন ঘুষখোরদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, তাতে অন্য ঘুষখোররা হয়তো শ’ঙ্কিত হচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।

মঙ্গলবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে কমিশনের পাবলিক প্রসিকিউটরদের (২য় ব্যাচ) বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান তিনি।

তিনি জানান, ঘুষ খাওয়ার অভিযোগে কমিশন অনেককেই গ্রেপ্তার করছে। বিগত সাড়ে ৩ বছরে ৮০টি ফাঁ’দ মামলা পরিচালনা করে প্রায় ১শ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাতে কি ঘুষ খাওয়া একেবারে বন্ধ হয়েছে? হয়তো হয়নি। কিন্তু যখন ঘুষখোরদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, তাতে অন্য ঘুষখোররা হয়তো শ’ঙ্কিত হচ্ছে। এটাই প্রদর্শন প্রভাব। কমিশন এ কাজটিই করছে।

শেয়ার করুন !
  • 443
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply