‘১৫ আগস্ট, ২১ আগস্টের মাস্টারমাইন্ডদের সাথে কীভাবে সহাবস্থান সম্ভব’

0

সময় এখন ডেস্ক:

রাজনীতির অল’ঙ্ঘনীয় দেয়াল সামনে এনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে আজকে একটা অল’ঙ্ঘনীয় দেয়াল উঁচু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই দেয়াল আমাদের কর্ম সম্পর্কের পথে গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বাধা হয়ে ‌দাঁড়িয়েছে। এই দেয়ালের সৃষ্টি করেছে ৭৫-এর ১৫ আগস্ট জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপরিবারের নৃশং’স হ’ত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে। এই হ’ত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে যারা ছিল ইতিহাস থেকে তাদের সেই ভূমিকাকে বাদ দিয়ে ইতিহাস লেখার উপায় নেই।

শনিবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের শরিক জাতীয় পার্টি-জেপির ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

বঙ্গবন্ধুর খু’নিদের পুরস্কৃত করার নিন্দা জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, সেদিন কারা বঙ্গবন্ধুর খু’নিদের পুরস্কৃত করেছিল? নিরাপদে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিল? বিদেশি দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেছিল? কারা দায়মুক্তি অধ্যাদেশ জারি করে বঙ্গবন্ধু হ’ত্যার পর বিচারের পথ রু’দ্ধ করেছিল? কারা পঞ্চদশ সংশোধনীতে এই ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্সকে সংযুক্ত করে আইনে পরিণত করেছিল যাতে বঙ্গবন্ধুর হ’ত্যার খু’নিদের বিচার না হয়। ইতিহাস তাদের ভুলে যাবে না।

রাজনীতিবিদদের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সম্পর্কের এই অল’ঙ্ঘনীয় দেয়াল সেখান থেকেই উঁচু হয়েছে। সেই দেয়াল উঁচু হতে হতে আরো উঁচু হয়েছে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হাম’লার প্রাইম টার্গেট শেখ হাসিনা। সেই ইতিহাস বেশিদিন আগের নয়। কারা তখন ক্ষমতায়, কারা প্ল্যানার, কারা মাস্টারমাইন্ড সবাই জানে। ইতিহাসের এই নি’র্মম অ-সত্য অ’স্বীকার করা উপায় নেই।

রাজনীতির অল’ঙ্ঘনীয় দেয়া ভাঙা সম্ভব হচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই অল’ঙ্ঘনীয় দেয়াল কীভাবে ভাঙব? আমাদের চেষ্টার কমতি ছিল না। এত কিছুর পরও খালেদা জিয়ার সন্তানের মৃ’ত্যুর পর শেখ হাসিনা তার বাড়িতে ছুটে গিয়েছিলেন সন্তানহা’রা মাকে সান্ত্বনা দিতে। ঘরের দরজা, বাইরের দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। শেখ হাসিনার মুখের ওপর এই অল’ঙ্ঘনীয় দেয়াল আরও উঁচুতে উঠল। সেদিন যদি শেখ হাসিনা শোকাতুর মাকে সান্ত্বনা দিতে সেই গৃহে প্রবেশ করতে পারতেন, রাজনীতিতে কর্ম সম্পর্কের নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হতে পারত।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ২০১৪ সালের আগে এত কিছুর পরও শেখ হাসিনা গণভবনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন বেগম জিয়াকে। তিনি ঘৃ’ণাভরে গা’লাগাল করে যে ভাষা প্রয়োগ করেছিলেন আপনার কি তা শোনেননি? টেলিফোনের আলাপে এত অ’শ্রাব্য ভাষা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি উচ্চারণ, কী করে এখানে কর্ম সম্পর্ক গড়ে উঠবে? কীভাবে আমরা বিএনপির সঙ্গে সহাবস্থান করব? কী করে সম্ভব? তারা ১৫ আগস্টের হ’ত্যার নেপথ্যে ছিল, তারা ২১ আগস্ট হ’ত্যার মাস্টারমাইন্ড ছিল। এই অবস্থা হলো বাস্তবতা।

রাজনীতিবিদদের দৈ’ন্যতা নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আজকে সামাজিক অনুষ্ঠানেও কে, কী মনে করে, কারো মৃ’ত্যুর পর জানাজায় যাব কি না; এই দ্বিধাও আমাদের মাথায় কাজ করে। এসব বিষয় রাজনীতির জন্য শুভ নয়। এই কনফ্রেনটেশনাল পলিটিক্স গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়। গণতন্ত্র ১ চাকার বাইসাইকেল নয়, গণতন্ত্র ২ চাকার বাইসাইকেল।

এটা আমাদের মনে রাখতে হবে সরকারি দলের পাশাপাশি বিরো’ধী দলও গণতন্ত্রের বিকাশে অ-পরিহার্য শক্তি। বিরো’ধীদলকে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে বিরো’ধী দলকেও শক্তিশালী করতে হবে।

শেয়ার করুন !
  • 514
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!