ছাত্রলীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের কাছে ক্ষমা চাইলেন রাব্বানী

0

সময় এখন ডেস্ক:

ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত পুনর্মিলনীতে থাকার সুযোগ হয়নি নানা অভিযোগে অপ’সারিত সংগঠনটির সাবেক সভাপতি রেজুওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর।

গতকাল শনিবার বিকালে ছাত্রলীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজন করা হয় পুনর্মিলনীর।

অনুষ্ঠানে সাবেক নেতাদের নাম ঘোষণার সময়ও স্থান হয়নি তাদের। এরপর রাতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ক্ষমা চান গোলাম রাব্বানী।

নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে রাব্বানী লেখেন, ছাত্ররাজনীতির গুণগত পরিবর্তনের অভিলাষ নিয়ে ছাত্রলীগকে ‘ইতিবাচকতার ব্রান্ড অ্যাম্বাসেডর’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার এক বুক স্বপ্ন নিয়ে যাত্রাটা শুরু হয়েছিল। চলার পথের নানা বন্ধুরতা, অ’সাবধানতা, ত্রু’টি-বিচ্যু’তি, আর বোধ করি শতভাগ প্রচেষ্টার অভাবে স্বপ্নটা অ’সম্পূর্ণ রয়ে গেছে।

তিনি আরও লেখেন, স্নেহ-ভালোবাসার প্রিয়মুখ জয়-লেখকের হাত ধরে সে আজন্ম লালিত স্বপ্ন পূর্ণতা পাক, এই প্রত্যাশা। অন্তর্নিহিত দোয়া, শুভকামনা আর পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে তোদের জন্য।

শিক্ষা-শান্তি-প্রগতির পতাকা হাতে পথ চলতে গিয়ে ছাত্রলীগ পরিবারের কাউকে ব’ঞ্চিত করে থাকলে, কারো মনে ক’ষ্ট দিয়ে থাকলে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করছি, নিজ গুণে ক্ষমা করে দেবেন। ভালো থাকুক প্রাণের প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ভালো থাকুক আমার আত্মার পরম আত্মীয়, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ পরিবারের সকল সদস্য।

ছাত্রলীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে যোগ দিতে গতকাল বেলা আড়াইটার দিকে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানস্থলে আসেন। এ সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দলীয় সভাপতিতে স্লোগান দিয়ে স্বাগত জানায়। ‘জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘শুভ শুভ শুভ দিন-ছাত্রলীগের জন্মদিন’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে গোটা উদ্যান।

উত্তরীয় পরিয়ে শেখ হাসিনাকে বরণ করে নেন ছাত্রলীগের নেতারা। পরে জাতীয় সংগীত ও দলীয় সংগীতের মাধ্যমে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা হয়। এরপর দেশাত্মবোধক গান বাজানো হয়।

অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নানা রঙের ব্যানার-ফেস্টুন হাতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়েছেন। দুপুর হওয়ার আগেই সংগঠনটির সাবেক-বর্তমান নেতাকর্মীদের মিলনমেলায় রূপ নিয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান।

অনুষ্ঠানে সংগঠনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক পরিচিতি পর্বে সবার নাম বললেও শোভন-রাব্বানীর নাম বলেননি।

জানা গেছে, ছাত্রলীগের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানেও আমন্ত্রণ পত্রও পর্যন্ত দেয়া হয়নি শোভন-রাব্বানীকে।

ছাত্রলীগের সব কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নাম বলার সময় কেন তাদের দু’জনের কথা বলা হয়নি এ বিষয়ে কাউকে মন্তব্য করতেও শোনা যায়নি।

প্রসঙ্গত ১৯৪৮ সালের এদিনে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান উপমহাদেশের বৃহৎ এ ছাত্রসংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুতে সংগঠনটির নাম ছিল ‘পূর্ব পাকিস্থান ছাত্রলীগ’।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এটি ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ’ নামে কার্যক্রম শুরু করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ভাষা আন্দোলন ও মহান স্বাধীনতা সংগ্রামসহ সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংগ্রামে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিয়েছে ঐতিহ্যবাহী এ ছাত্রসংগঠনটি।

শেয়ার করুন !
  • 1.1K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply