মেধাবী প্রতিব’ন্ধী শিশুকে ‘ধানের বস্তা’ বললেন প্রধান শিক্ষক!

0

যশোর প্রতিনিধি:

যশোরের মণিরামপুরে হাত-পা ছাড়া জন্ম নেওয়া অ’দম্য মেধাবী লিতুনজিরা প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। কিন্তু মা ও শিক্ষক বাবার সামনে প্রতিব’ন্ধী মেধাবী জিরাকে পঙ্গু বলে এবং একই সাথে ধানের বস্তার সঙ্গে তুলনা করেন মণিরামপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হায়দার আলী।

এমন বি’দ্রুপ করার প্র’তিবাদে ভর্তি পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়েও সরকারি সেই স্কুলে ভর্তি হয়নি মেধাবী মেয়েটি।

সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে পড়ার প্রবল ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ভর্তি হয়েছে স্থানীয় একটি বেসরকারি স্কুলে। বাবার সামনে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের এমন বি’দ্রুপ মেনে নিতে না পেরে বেসরকারি স্কুলে ভর্তি হয়েছে অদম্য মেধাবী লিতুনজিরা।

প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি প্রকাশ না পেলেও একে একে এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সোমবার পরিবারটির সাথে কথা বলে গণমাধ্যম। সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ভর্তি যুদ্ধে জয়ী হলেও শেষ পর্যন্ত ভর্তি না হবার নেপথ্যের চাঞ্চল্যকর ঘটনা দেরিতে হলেও প্রকাশ পেয়েছে। আর এ ঘটনাটি জানাজানি হলে শিক্ষার্থী-শিক্ষক, অভিভাবকসহ এলাকাবাসীর মধ্যে চরম অ’সন্তোষ ও ক্ষো’ভের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, উপজেলার শেখপাড়া খানপুর গ্রামের প্রভাষক হাবিবুর রহমানের মেয়ে লিতুনজিরা মুখে ভর দিয়ে লিখে এবার প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। অ’দম্য মেধাবী লিতুনজিরার প্রবল ইচ্ছা ছিল মণিরামপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে ভর্তি হবে। সে অনুযায়ী ২৩ ডিসেম্বর মা-বাবার সাথে হুইল চেয়ারে করে সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে আসে। লিতুনজিরার সিট পড়ে দোতলার একটি কক্ষে।

লিতুনজিরার বাবা হাবিবুর রহমান ও মা জাহানারা বেগম জানান, প্রতিব’ন্ধী মেয়েকে নিয়ে উপরে উঠতে ক’ষ্ট হবে জানিয়ে নিচের যে কোনো একটি কক্ষে লিতুনজিরার পরীক্ষার ব্যবস্থা করে দিতে কেন্দ্র সচিব হিসেবে প্রধান শিক্ষক হায়দার আলীকে অনুরোধ করেন তারা।

মা-বাবার অভিযোগ, এ অনুরোধ করতেই প্রধান শিক্ষক হায়দার আলী তেলেবেগুনে জ্ব’লে ওঠেন। এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষক লিতুনজিরার সামনে তার মা-বাবার উদ্দেশ্যে বলেন, প্রতিব’ন্ধী মেয়েকে কোলে নিয়ে উপরে যান। বস্তাভর্তি ধান যদি নাড়াচাড়া করা যায়, তাহলে তাকে নিয়ে উপরে উঠতে সমস্যা কোথায়? পঙ্গু মেয়ের জন্য পৃথক কক্ষে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়। অন্য স্কুলে ভর্তি করার পরামর্শ দেন লিতুনের মা-বাবাকে।

লিতুনজিরার অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকের এমন অনাকা’ঙ্ক্ষিত আচরণে লিতুনজিরা ও তার বাবা-মা হতবাক হয়ে অ’ঝোরে কাঁদতে থাকেন।

লিতুনজিরার বাবা জানান, উপায়ান্ত না পেয়ে শেষ পর্যন্ত তারা দু’জনে ক’ষ্ট করে মেয়েকে দোতলায় পরীক্ষার কক্ষে বসিয়ে দেন। পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মেয়ে মেধার স্বাক্ষর রাখে। সে কৃতিত্বের সাথে ভর্তিযু’দ্ধে উত্তীর্ণ হয়।

লিতুনজিরা আ’ক্ষেপ নিয়ে জানান, প্রধান শিক্ষক যদি তার সাথে এমন আচরণ করে, তাহলে সহপাঠীরা তার সাথে কী আচরণ করবে? প্রধান শিক্ষকের এ আচরণের প্র’তিবাদে ওই সরকারি স্কুলে ভর্তি না হয়ে সে উপজেলার গোপালপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে ১ জানুয়ারি ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়।

বাবা হাবিবুর রহমান জানান, প্রধান শিক্ষকের সেদিনের আচরণে লিতুনজিরাকে সরকারি স্কুলে ভর্তির জন্য রাজি করাতে পারেননি তারা।

তবে প্রধান শিক্ষক হায়দার আলী তার বিরু’দ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, লিতুনজিরার ভর্তি না হবার কারণ তিনি জানেন না।

শেয়ার করুন !
  • 902
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply