আজ যদি আটককৃত ধ-র্ষকের রাজনৈতিক পরিচয় থাকতো!‍

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ধ-র্ষণের প্রধান আসামি মজনুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার মাত্র ২ দিনেই আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা প্রমাণ করলেন তারা কতটা দক্ষ। এর মাধ্যমে তারা আরেকটা বিষয় প্রমাণ করলেন, আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করলে তারা অপরাধীকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ধ-র্ষণের ঘটনার পরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পাশাপাশি নানারকম ফিসফাস, গুঞ্জন, আলাপ আলোচনা শুরু হয়েছিল। বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, যে কোনো ঘটনার একটি রাজনৈতিক মোড়ক দেওয়ার। ঢাবি ছাত্রীর সাথে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটির পর বিভিন্ন টিভি চ্যানেল, টকশোতে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এসে বিচারহীনতার সংস্কৃতির কথা বলেছেন, দাবী করেছেন রাজনৈতিক মদদ এবং পৃষ্ঠপোষকতায় ধ-র্ষণ বেড়েছে। এমনকি কেউ আকার ইঙ্গিতে এই অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে বলেও কথা তুলেছেন।

দেখা গেছে, বিগত দিনগুলোতে যখনই এমন ঘটনা ঘটেছে বা যে কোনো ঘটনা ঘটেছে, সেটাকে রাজনৈতিক পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। রিফাত ও নুসরাত হ’ত্যার মতো ঘটনাগুলোতেও একটা রাজনৈতিক মোড়ক দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এর মধ্যে ছাত্রলীগের ইঙ্গিত পেলে তো কথাই নেই, একেবারে হৈ হৈ রৈ রৈ পড়ে যায়। এতে যে সর্বনা’শটা হয়েছে, অপরাধের আইনি প্রক্রিয়া এবং অপরাধের সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়াটা ব্য’হত হচ্ছে। একইসাথে রাজনৈতিক ডামাডোলে ঘটনার কারণ, অপরাধীদের চিহ্নিতকরন এবং সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়াও ব্য’হত হয়েছে।

রিফাত হত্যা’র সময় দেখা গেছে খু’নিদের খোঁজার চেয়ে এর রাজনৈতিক আবরণ এবং রাজিনৈতিক মোড়কটাই বেশি আলোচিত ছিল। ফলে ঘটনার পর তদন্ত ও আইনি তৎপরতা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। একইভাবে নুসরাত হ’ত্যার পর নুসরাতের পাশে দাঁড়ানোর চেয়ে এর রাজনৈতিক সূত্র খোঁজার এক ধরণের নি’র্লজ্জ প্রতিযোগিতা চলেছে।

অপরাধী অপরাধীই। সে যে দল, মতের অনুসারীই হোক না কেন, তার একটাই পরিচয়- সে অপরাধী। কিন্তু অপরাধীকে একটি রাজনৈতিক ব্রাকেটে আটকে সরকারের সমালোচনা করার একটি নোং’রা কৌশল গত কিছুদিন ধরেই লক্ষ্য করা গেছে।

গতকালই বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু বলেছেন, সু’শাসনের অভাবেই এই ধ-র্ষণগুলো ঘটছে। এখন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা যখন মজনুকে গ্রেপ্তার করলো, তখন সাধারণ নাগরিক যারা রাজনৈতিক মোড়কের বাইরে, আইনের নিরপেক্ষ এবং সুষ্ঠু প্রয়োগ চায় তারা যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। এই মজনু কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় এবং সে একজন সিরিয়াল-রেপিস্ট আর নিম্ন আয়ের মানুষ।

এর মাধ্যমে একটি জিনিস স্পষ্ট হলো, আমাদের যে সামাজিক অবক্ষ’য়, তার কারণেই এই অপরাধগুলো ঘটছে এবং সব অপরাধের রাজনৈতিক মোড়ক দেয়া উচিত নয়। কারণ অপরাধ অপরাধই। তার রাজনৈতিক মোড়ক দিলে অপরাধের তদন্ত এবং অপরাধীদের বিচার বাধাগ্রস্ত হয়।

সাধারণ মানুষ আশা করে, মজনুকে গ্রেপ্তারের পর এইসব বিত’র্কের অব’সান ঘটবে এবং আইনের সুষ্ঠ প্রয়োগের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ধ-র্ষণ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার হবে।

শেয়ার করুন !
  • 383
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!