বিদ্যুতের তারে পুড়ে আহত বানরদের রক্ষায় লিগ্যাল নোটিশ

0

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বিদ্যুতের তারে পুড়ে আহত হওয়া বানরসহ বন্যপ্রাণীদের সুরক্ষায় বৈদ্যুতিক সংযোগ বন্ধ ও আহত বানরগুলোকে সুচিকিৎসা দিতে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট ১০ জনের প্রতি এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) পিপল ফর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের পক্ষে ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান এ নোটিশ পাঠান। গত বেশ কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্ট সংযুক্ত করে এ নোটিশ পাঠানো হয়।

ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান জানান, নোটিশ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বানরের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে।

এ তথ্য নিশ্চিত করে পিপল ফর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা স্থপতি রাকিবুল হক এমিল জানান, মধুপুর বনাঞ্চলঘেঁষা ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ও নাওগাঁও ইউনিয়নে ২,৮৬৩.১৪ একর এলাকাজুড়ে রয়েছে প্রাকৃতিক বনাঞ্চল। এক সময় এই বনে হরিণ, মেছোবাঘ, ভালুক, হনুমান, সজারু, শিয়াল, খরগোশসহ নানা প্রজাপতির বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য ছিল। গাছ কে’টে বন উজাড় করায় দিন দিন বন্য প্রাণীগুলো প্রায় হারিয়ে গেছে।

সন্তোষপুর বনাঞ্চলে সাড়ে ৩ শতাধিক বানর রয়েছে। স্বভাবগতভাবে বানর সংঘ-বদ্ধ প্রাণী। একটি বানর আহত হলে অন্য বানররা তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসে। কিন্তু এই বনের ভেতর কভারবিহীন উন্মুক্ত তারে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ায় বিদ্যুৎস্পর্শে পুড়ে যাচ্ছে বানররা। যখন একটি বানর আহত হচ্ছে তখন অন্য বানররা তারে রক্ষা করতে গিয়ে তারাও আহত হচ্ছে। প্রতিদিনই বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে মুখ, হাত, পা ও শরীর ঝ’লসে যাচ্ছে বানরদের। গত কয়েক দিনে অন্তত ২০টি বানর বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছে।

ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ ফুলবাড়িয়া জোনাল অফিসকে বিষয়টি জানালেও এ ব্যাপারে তারা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। সন্তোষপুর বনের ভেতরে অসংখ্য বন্যপ্রাণী থাকার পরও পল্লী বিদ্যুতের লাইন ডিজাইন করার সময় বিষয়টি আমলে নেয়া হয়নি।

গত ১৫ ডিসেম্বর সন্তোষপুর বনাঞ্চলের আশপাশে ও বিট অফিসে পল্লী বিদ্যুতের নতুন সংযোগ উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য মোসলেম উদ্দিন। ওই সময় তিনি পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের বন এলাকার ভেতরে উন্মুক্ত তারের পরিবর্তে দ্রুত কভারিং ক্যাবল দিয়ে বিদ্যুৎ লাইন টানার নির্দেশ দেন। কিন্তু পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া আহত বানরদের ছবি ছড়িয়ে পড়লে ক্ষু’ব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান সমাজের বিভিন্ন স্তরের সচেতন এবং সহানুভূতিশীল মানুষ। সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার জন্য তাদের শা’স্তির আওতায় আনার দাবি জানান।

ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সন্তোষপুর শালবনে বানরের খাবার নিয়ে বেশ কয়েকটি ভ্রাম্যমাণ দোকান বসা। খাবারের দোকানগুলো ঘিরে রয়েছে প্রায় দেড় শতাধিক বানর। বানর দেখতে আসা ২৫-৩০ জন দর্শনার্থী দোকানগুলো থেকে কলা, মুড়ি, বাদাম, চানাচুর, বিস্কুটসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার কিনে দিচ্ছেন।

সেখানে অন্তত ছোট-বড় ৫টি বানরকে ঝ’লসানো অবস্থায় দেখা গেছে। একটি বানরের হাত, আরেকটির পা পুড়ে ঝুলে রয়েছে। বানরগুলোর মুখ, হাত, পা ও শরীরের ক্ষ’তস্থানে প’চন ধরেছে। জরুরি ভিত্তিতে আহত বানরগুলোর চিকিৎসার প্রায়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

শেয়ার করুন !
  • 271
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply