বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠরা কেমন আছেন মুজিববর্ষে?

0

ফিচার ডেস্ক:

আগামী ১৭ মার্চ থেকে মুজিববর্ষ ঘোষণা করেছে সরকার। আর এই মুজিববর্ষের ক্ষণগণনা শুরু হলো আজ থেকে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে যারা রাজনীতি করেছেন, তারা অনেকেই এখন আওয়ামী লীগে নেই, অনেকেই গত হয়েছেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর রাজনীতির সহচর অনেকেই এখনো জীবিত আছেন এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতি করছেন। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তারা বিভিন্ন কারণেই কোণঠাসা। বঙ্গবন্ধুর এমন সহযোগী কয়েকজনকে নিয়েই এই প্রতিবেদন।

তোফায়েল আহমেদ

বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সচিব ছিলেন এবং বঙ্গবন্ধুর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ রাজনীতিবিদদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন তিনি। তোফায়ের আহমেদ এখন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য। আওয়ামী লীগে তিনি প্রভাবশালী নেতা না হলেও জাতীয় পর্যায়ে তোফায়েল আহমেদ- তোফায়েল আহমেদই। আওয়ামী লীগের তোফায়েল আহমেদ- এটাই তার সবচেয়ে বড় পরিচয়। ২০১৯ সালের মন্ত্রিসভায় তিনি জায়গা পাননি। কিন্তু এখন তিনি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন পরিচালনার জন্য দায়িত্ব পালন করছেন।

ড. ফরাসউদ্দিন আহমেদ

ড. ফরাসউদ্দিন আহমেদ বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠদের মধ্যে একজন ছিলেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ৭৫ এর ১৫ আগস্টের আগে তিনি দেশ ত্যাগ করেছিলেন এবং এখনো তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও তেমন সুবিধা করতে পারছেন না। গত নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন চেয়েছিলেন, কিন্তু মনোনয়ন পাননি।

জেনারেল কে এম শফিউল্লাহ

জাতির পিতার আরেকজন ঘনিষ্ঠজন ছিলেন জেনারেল কে এম শফিউল্লাহ। জিয়াউর রহমানকে ডিঙিয়ে জেনারেল শফিউল্লাহকে সেনাপ্রধান করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কিন্তু ৭৫ এর ১৫ আগস্টের পর তার কাপু’রুষোচিত ভূমিকার কারণে তিনি রাজনীতিতে এখন একজন নি’ন্দিত ব্যক্তি। তিনি খন্দকার মোশতাকের মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের পর তাকে সমর্থন জানিয়ে ইতিহাসের আস্তা’কুঁড়ে নিক্ষি’প্ত হয়েছেন। এরপরও তিনি আওয়ামী লীগের টিকিটে এমপি হয়েছিলেন। এখন রাজনৈতিক কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তিনি যুক্ত নন।

এয়ার ভাইস মার্শাল এ.কে. খন্দকার

এ.কে. খন্দকার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নিয়োগকৃত বিমান বাহিনীর প্রধান ছিলেন। ৭১ এর মহান মুক্তিযু’দ্ধের সময়ে তিনি উপ-সেনাপ্রধান ছিলেন। ৭৫ এর পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে তিনি পরিকল্পনামন্ত্রী হয়েছিলেন। কিন্তু একটি গ্রন্থ লিখে তিনি বিত’র্কিত হন। এখন তিনি রাজনীতিতে ফিরে আসার চেষ্টা করলেও আওয়ামী লীগের সঙ্গে তার সেই আগের সম্পর্কটি নেই। যদিও সেই বইটিতে তিনি মিথ্যাচার করেছেন স্বীকার করে জাতির কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন। তবুও অবস্থার পরিবর্তন হয়নি তার।

সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী

বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠদের মধ্যে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী অন্যতম। ৭১ এর মুক্তিযু’দ্ধের পর বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের সঙ্গে তাকেও বীরাঙ্গনা নারী মুক্তিযো’দ্ধাদের পুনর্বাসনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সে সময় তিনি রাজনীতিতে অতটা আলোচিত ছিলেন না। তবে ৭৫ এর ১৫ আগস্টের পরে যারা আওয়ামী লীগের পুনর্গঠনের দায়িত্বে ছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। আর এ কারণেই তিনি আওয়ামী লীগের অনেকের শ্রদ্ধাভাজন। বর্তমানে অসুস্থ থাকায় তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে একরকম গুটিয়েই নিয়েছেন।

এছাড়াও জাতির পিতার অনেক ঘনিষ্ঠরাই বিভিন্ন অবস্থায় এখন ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন। তৃণমূলের রাজনীতি যারা করেন, তাদের অনেকেই বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ ছিলেন। কিন্তু রাজনীতির বিভিন্ন বাঁক পরিবর্তনে তারা তাদের অবস্থান ধরে রাখতে পারেনি। আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনীতি করেছেন এমন অনেককেই; যেমন- ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিকের মতোদের ধাপে ধাপে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভূক্ত করে সম্মানিত করেছিলেন।

তবে মুজিববর্ষের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ যে দিকটি তুলে ধরা দরকার, তা হলো বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে যারা রাজনীতি করেছেন, তাদের অনেকেই এখন আর নেই। এই ব্যক্তিদের কাছে বঙ্গবন্ধুর অ’মূল্য তথ্যভাণ্ডার রয়েছে। সেই তথ্যভাণ্ডার যদি গবেষণার মাধ্যমে তুলে আনা যায়, তাহলে হয়ত জাতির পিতাকে নতুনভাবে আবিস্কার করা সম্ভব হবে।

শেয়ার করুন !
  • 31
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply