কুমিল্লায় বঙ্গবন্ধুর ৬ হ’ত্যাকারীর প্রতীকি ফাঁ’সি কার্যকর

0

কুমিল্লা প্রতিনিধি:

কুমিল্লার চান্দিনায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হ’ত্যা মামলায় পলাতক ৬ খু’নীর প্রতীকি ফাঁ’সি কার্যকর করা হয়।

আজ ১১ জানুয়ারি, শনিবার সন্ধ্যায় চান্দিনা পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মো. মফিজুল ইসলামের উদ্যোগে পুরাতন গরু বাজার মাঠে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

ফাঁ’সির মঞ্চ তৈরি করে সেখানে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হ’ত্যায় দায়ের করা মামলায় ফাঁ’সির দ’ণ্ডাদেশপ্রাপ্ত পলাতক আসামি কর্নেল (অব.) খন্দকার আবদুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম, এস এইচ এম বি নুর চৌধুরী, এ এম রাশেদ চৌধুরী, আবদুল মাজেদ ও মোসলেম উদ্দিনকে প্রতীকি ফাঁ’সিতে ঝুলানো হয়।

এ সময় ফাঁ’সির মঞ্চের সামনে অনতিবিলম্বে খু’নীদের গ্রেপ্তার করে দেশে এনে ফাঁ’সির রায় কার্যকর করার দাবি জানান আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ‌এ সময় সেখানে মঞ্চ দেখতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও উৎসুক জনতা ভিড় করে।

অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- চান্দিনা পৌরসভার মেয়র মো. মফিজুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগ স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক এবি সিদ্দিক, চান্দিনা পৌর আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পৌর কাউন্সিলর মো. সুরুজ ভূঁইয়া, বাড়েরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. সেলিম ভূইয়া,

চান্দিনা পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল হক, দপ্তর সম্পাদক আবদুল হান্নান স্বপন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক প্রভাষক মাসুমুর রহমান মাসুদ, আওয়ামীলীগ নেতা মো. মিজানুর রহমানর, মো. মনির হোসেন, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি কাজী ইয়াসিন অভি, পৌর যুবলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ওমর ফারুক প্রমুখ।

জিয়ার জন্য তোফায়েল তদ্বির না করলে ১৫ আগস্ট ঘটতো না

পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের অন্যতম ষড়’যন্ত্রকারী ছিলেন জিয়াউর রহমান। তিনি ছিলেন উপ সেনাপ্রধান। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জানতেন যে, জিয়াউর রহমান সেনাবাহীনিতে নানা রকম উ’স্কানি এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। এ কারণেই জিয়াউর রহমানকে চুয়াত্তরের শেষদিকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে বিদেশে বদলি করা হয়েছিল। এই বদলি হলে সেনাবাহিনীতে বি’শৃঙ্খলা কমে যেত এবং শফিউল্লাহর সঙ্গে জিয়াউর রহমানের দ্ব’ন্দ্বের অবসান ঘটতো।

কিন্তু জিয়াউর রহমানের এই বদলি আদেশের পর জাতির পিতার কাছে এই বদলি আদেশ বাতিলের জন্য যারা তদ্বির করেছিলেন তাদের অন্যতম ছিলেন, তোফায়েল আহেমদ। বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত ঘনিষ্ট ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাস উদ্দীন আহমেদের সাম্প্রতিক একটি সাক্ষাৎকার থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায়।

মূলত তোফায়েল আহমেদের সেই তদ্বিরের কারণেই বঙ্গবন্ধু শেষ পর্যন্ত তার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। জিয়াউর রহমানের ওই বদলির আদেশ বাতিল করা হয়েছিল।

যদি জিয়াউর রহমান বিদেশে রাষ্ট্রদূত হয়ে যেতেন, তাহলে হয়তো বাংলাদেশের ইতিহাস আজ অন্যভাবে লেখা হতো। ১৫ আগস্টের ক’লুষিত ইতিহাস রচিত হতো না। তবে কেন তোফায়েল আহমেদ সেই তদ্বির করেছিলেন সেই প্রশ্নের উত্তর আজও মেলেনি।

শেয়ার করুন !
  • 372
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!