ধ-র্ষকদের ক্রসফায়ার করলে বেহেশতে যাওয়া যাবে: নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি

0

সময় এখন ডেস্ক:

‘ধ-র্ষকদের ক্রসফায়ার করলে বেহেস্তে যাওয়া যাবে, কোনো অসুবিধা হবে না’- এমনটাই জানালেন সাংসদ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি।

সারাদেশে হঠাৎ করে বেড়ে গেছে ধ-র্ষণের ঘটনা। এ নিয়ে সাধারণ জনগণের মত সংসদ সদস্যদের মনেও অ’সন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিচারের দীর্ঘসূত্রিতার কারনে এসব অপরাধ সহজে দূর করা যাচ্ছে না বলে তাদের অভিমত। আর তাই এই অপরাধ দূরীকরণে ক্রসফায়ারের কথা বলেছেন সাংসদরা।

দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থার উ’দ্বেগের মধ্যেই ধ-র্ষকদেরকে ক্রসফায়ার করার দাবি তুলেছেন সাসংদরা। নিয়মিত কার্যক্রম বন্ধ রেখে এ বিষয়ে আলোচনার সিদ্ধান্ত হয়।

বিরো’ধীদল জাতীয় পার্টির একজন সদস্য সংসদে এ প্রস্তাব তুলেছেন, তার দলের এক নেতার পাশাপাশি আওয়ামী লীগের একজন জ্যেষ্ঠ নেতাও তাতে সমর্থন জানিয়েছেন। আর তরিকত ফেডারেশনের নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি বলেছেন, এদের ক্রসফায়ার করলে ‘বেহেস্তে যাওয়া যাবে’, কোনো ‘অসুবিধা হবে না’।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে অ’নির্ধারিত আলোচনায় দেশে ধ-র্ষণের ঘটনা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এমন প্রস্তাব করেন। এক্ষেত্রে মা’দকের বিরু’দ্ধে অভিযানে ক্রসফায়ারের প্রসঙ্গ টানেন তিনি।

পুলিশ সদর দপ্তরের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে চুন্নু বলেন, গেল বছর ১৭ হাজার ৯০০টি নারী নির্যা’তনের মামলা হয়। এরমধ্যে ধ-র্ষণ হয়েছে ৫ হাজার ৪০০ জন। এর মধ্যে ১৮৫ জন শিশু হয়েছে। ২০১৮ সালে এ সংখ্যা ছিল ৭২৭। ধ-র্ষণের পর গেল বছর মা’রা যান ১২ শিশু ও ২৬ নারী। এ বছর মা’রা যায় ১৪টি শিশু। তার মানে বিগত বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২০১৯ সালে ধ-র্ষণ হয়েছে।

এ বিষয়টা যদি আমরা গুরুত্ব না দেই তাহলে জাতির সামনে প্রশ্নের জবাব দিতে পারব না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে যে ধ-র্ষণ করা হল, যদিও সরকার জরুরি ব্যবস্থা নিয়ে গ্রেপ্তার করেছে। এরপরও জনমনে গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন আছে, নানা কারণে মানুষ বিশ্বাস করছে না। এরপরই সাভারে ধামরাইতে ধ-র্ষণের ঘটনা ঘটে।

ধ-র্ষণের সর্বোচ্চ শা’স্তি যাবজ্জী’বন থেকে বাড়িয়ে মৃ’ত্যুদ’ণ্ডের দাবি জানিয়ে সাবেক বিচারক মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলব, আপনার সরকার, মন্ত্রণালয় এত ঘটনা ঘটছে মা’দকের জন্য এত ক্রসফায়ার হচ্ছে, ধ-র্ষণের মতো জঘন্য ঘটনার জন্য কেন একটা ক্রসফায়ার হয় না, আমি জানি না। সরকারের কাছে অনুরোধ থাকবে, এই বিষয়টা সরকার যদি গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা না নেয় তাহলে কোনোক্রমেই এটা কন্ট্রোল হবে না।

ধ-র্ষণের ঘটনা ঘটলে সংবাদমাধ্যম যে গুরুত্ব দিয়ে খবর প্রকাশ করে সাজার ক্ষেত্রে সেই গুরুত্ব দেয় না মন্তব্য করে এদিকে নজর দিতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

মুজিবুল হক চুন্নুর এই প্রস্তাব সমর্থন করে তার পক্ষে যুক্তি হিসেবে বাংলাদেশে বিচারে দীর্ঘ সময় লাগার কথা তুলে ধরে জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, সাম্প্রতিকালে ধ-র্ষণ মহামা’রি রূপ নিয়েছে। ছাত্রী, শিশু, নারী শ্রমিক প্রতিব’ন্ধী নারী ধ-র্ষিত হচ্ছেন। কেউ রক্ষা পাচ্ছেন না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর ধ-র্ষকসহ বিভিন্ন জায়গায় আসামিরা গ্রেপ্তার হওয়ার কথা তুলে ধরে এই সংসদ সদস্য প্রশ্ন করেন, তাহলে বিচার হচ্ছে না কেন? বিচার কিন্তু যখন হয় তখন দেশের মানুষ মনে রাখতে পারে না। ১৫ বছর ২০ বছর পর একটা বিচার হয়।

এই বক্তব্যের পক্ষে দৃষ্টান্ত হিসেবে শাজনীন ধ-র্ষককাণ্ডের বিচারের কথা তুলে ধরে বলেন ফিরোজ রশিদ বলেন, ১৬ বছর লেগেছে সেই একটি বিচার করতে এবং তার পিতা এদেশের স্বনামধন্য একজন শিল্পপতি। তার মেয়ের জন্য কোর্ট কাচারি করতে করতে ১৬ বছর পার করছে, ৮ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। একজনের মাত্র ফাঁ’সি হয়েছে।

আমরা মনে করি এই যে, ধামরাইয়ে বাসে ধ-র্ষণের ঘটনায় বাস চালককে গ্রেপ্তার করা হল। কী বিচার হবে? কোনো সাক্ষী নাই। এখন পুলিশের কাছে বলবে, ১৬৪ করবে। যখন মামলায় যাবে সাক্ষী থাকবে না। তাহলে কী করতে হবে?

আমাদের কিছু লোক আছে, মাননীয় স্পিকার বলতে বাধা নেই, মানবাধিকার সংগঠন। তারা বলে গণতন্ত্র, আইনের শাসন- এই ধ-র্ষকদের কী আইন আপনি করবেন? তার কোনো ফাঁ’সি হবে না, জেলও হবে না এক সময় ১ বছর পর বেরিয়ে যাবে, কেউ খবরও রাখবে না। একমাত্র এই মুহূর্তে যদি এই সমাজকে ধ-র্ষণমুক্ত করতে চান, তাহলে ‘এনকাউন্টার মাস্ট’। তাকে গু’লি করে মা’রতে হবে।

এই সংসদ সদস্য বলেন, আইন লাগে না। পুলিশের আইন আছে তো। মা’দকের আসামি পরশুদিনও মা’রা হয়েছে, কোন আইনে মা’রা হয়েছে? এই যে বাসে ধ-র্ষণ করে যে মেয়েটিকে মে’রে ফেলল, ধ-র্ষক ধরা পড়ল। তাকে কী করব আমরা? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে ছাত্রী ধ-র্ষিত হল, সারা জীবনের জন্য সে কারও কাছে মুখ দেখাতে পারবে? এখন যদি বিচারের আওতায় আনেন, কোনো সাক্ষী নাই। এই মেয়েকে কাঠগড়ায় আনা হবে। সাক্ষী দিতে হবে কীভাবে ঘটনা ঘটেছে। এর চেয়ে লজ্জাজনক কিছু নেই। সারা জীবন তাকে এই ক’ষ্ট সহ্য করতে হবে।

মানবাধিকার কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি মানবাধিকার কর্মীদের বলব, আপনারা যদি ধ-র্ষিত হতেন, আপনার স্ত্রী, আপনার মা, আপনার বোন, আপনার কারো সাথে যদি হত, কী হত? আমরা কী চাই? আমরা চাইছি, এই সংসদ আমরা মনে করি যে, এদের ত্বরিৎ বিচার। ত্বরিৎ বিচারে কোনো আইন হবে না। ১ মাসের মধ্যে বিচার করা যাবে না। রূপাকে মা’রল। ভাই বগুড়া থেকে বাসে তুলে দিল। ধ-র্ষণের পর ঘাড় মটকে মে’রে ফেলল। পুলিশ সবাইকে গ্রেপ্তার করল। সেদিন পুলিশ যদি এই ৫ জনকে গু’লি করে মধুপুরে নিয়ে মা’রা হত, তাহলে পরে বাসে টাঙ্গাইলের পথে কেউ ধ-র্ষিত হত না।

এখান থেকে স্পষ্ট বলতে চাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে, ধ-র্ষণ করা হল আসামি ধরা পড়েছে, মেয়ে বলছে যে সেই আসামি। বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে যাক না। সে তো পুলিশের কাছে আছে। জিজ্ঞাসা’বাদের নামে তাকে নিয়ে যাক ওখানে, নিয়ে গু’লি করে মারুক। দেখুক তার লা’শ পড়ে আছে।

ফিরোজ রশীদ বলেন, এই মুহূর্তে চাই, এখান থেকে এই ম্যাসেজটা দিতে চাই, আমরা এমনভাবে বলতে চাই আর কোনো ধ-র্ষক যেন সাহস না পায়। কারও যদি ফাঁ’সি হয় কেউ খবর রাখে না। এখনই যদি ১ সপ্তাহ ২ সপ্তাহ ৩ সপ্তাহের মধ্যে যদি বিচার করতে পারি, বিচার কী? একমাত্র শা’স্তি এনকাউন্টারে মে’রে ফেলা। ১০টা ২০টা মা’রা হোক ধ-র্ষণ বন্ধ হয়ে যাবে। স্পষ্ট বলতে চাই, একমাত্র ও’ষুধ পুলিশ ধরার পর ওখানে নিয়ে গু’লি করে মে’রে ফেলা।

পরে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদও জাতীয় পার্টির এই দুই আইনপ্রণেতার বিচার-বহি’র্ভূত এই দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, মা’দকের ব্যাপারে যদি সাথে সাথে শেষ করে দেয়, তাহলে মা’দকের থেকেও খারাপ জিনিস বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী, গার্মেন্ট শ্রমিককে ধ-র্ষণ করেছে, সুতরাং… ভারতে একজন ডাক্তার মেয়ে বাস থেকে নামার পর ৪ জনে তাকে নিয়ে গ’ণধ-র্ষণ করেছে। দু’দিন পর ক্রসফায়ার দিয়ে তাদের শেষ করা হয়। এ ঘটনার পর ভারতে আর কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমি ফিরোজের সঙ্গে একমত। আইন কানুনতো আছেই, তারমধ্যেও একটা চিহ্নিত লোক, ওয়ারির একটা বাচ্চা মেয়ে ৬ বছর বয়স তাকে ধ-র্ষণ করেছে। আমাদেরও ছোট নাতি- নাতনি আছে। এটা হতে পারে না।

তোফায়েল বলেন, এখানে দরকার কঠোর আইন করা। আর দ্বিতীয়ত হল, আমি চিনি যে এ এই কাজ করেছে তার আর এই পৃথিবীতে থাকার কোনো অধিকার নেই।

তরিকত ফেডারেশনের নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি বলেন, চুন্নু ও কাজী ফিরোজ রশীদ যে কথা বলেছেন, আমি টুপি দাঁড়ি মাথায় নিয়ে আল্লাহকে হাজির নাজির জেনে বলছি, এদের ক্রসফায়ার করলে বেহেস্তে যাওয়া যাবে কোনো অসুবিধা নাই।

শেয়ার করুন !
  • 1.3K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply