আমদানিকৃত নিম্নমানের পচা পেঁয়াজ বাংলাদেশকে গছাতে চাইছে ভারত!

0

অর্থনীতি ডেস্ক:

সাম্প্রতিক সময়ে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে রপ্তানি নি’ষিদ্ধের পাশাপাশি ভারতকে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানিও করতে হয়েছিল। তবে এখন বেশিরভাগ রাজ্যেরই চাহিদা না থাকায় আমদানির পেঁয়াজ নিয়ে বি’পাকে পড়েছে দেশটি।

আর এরইমধ্যে টেম্পার (গুণগত মান) চলে যাওয়ায় পচনশীল এসব পেঁয়াজ বাংলাদেশকে গছাতে চাইছে দেশটির সরকার।

ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার রকিবুল হকের সঙ্গে এক বৈঠকে সেসব পেঁয়াজ বাংলাদেশকে কেনার প্রস্তাব দেন বলে দেশটির ইংরেজি দৈনিক দ্য প্রিন্ট খবর দিয়েছে।

বৈঠকে ছিলেন ভারতের এমন একজন জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের চাহিদার ভিত্তিতে পেঁয়াজ আমদানি করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ৩৬ হাজার টন পেঁয়াজ কেনার চুক্তি হয়, যার মধ্যে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৮ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে।

কিন্তু বিভিন্ন রাজ্য সরকার আমদানি করা পেঁয়াজের মাত্র ৩ হাজার টন নিয়েছে। অবশিষ্ট পেঁয়াজ মুম্বাইয়ের জওহরলাল নেহরু বন্দরে খালাসের অপেক্ষায়। কোনও রাজ্য না নেয়ার ফলে এই পেঁয়াজ নিয়ে বি’পাকে পড়েছে সরকার- দ্য প্রিন্টকে বলেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভারতীয় ওই কর্মকর্তা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চমূল্যে আমদানি করা আর স্বাদের ভিন্নতার কারণে রাজ্যগুলি সেসব পেঁয়াজ নিতে রাজি নয়। একারণে আমদানিকৃত পেঁয়াজ পচে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

ওই কর্মকর্তা জানান, প্রতি টন ৫০ হাজার থেকে ৫৯ হাজার (৬০০ থেকে ৭০০ ডলার) টাকায় আমদানি করা পেঁয়াজ ভারত বাংলাদেশকে প্রতি টন ৫৫০ থেকে ৫৮০ ডলারে কিনে নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।

দ্য প্রিন্ট বলছে, বৈঠকে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার রকিবুল হক বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে চীন থেকে পেঁয়াজ আমদানি করেছে। নেপাল হয়ে আরও পেঁয়াজ বাংলাদেশে ঢোকার অপেক্ষায়। তাই এই পেঁয়াজ বিক্রি করতে চাইলে বাংলাদেশকে বিনামূল্যে পরিবহনসহ ভারতের কিছু প্রণোদনা দেয়া উচিত।

তবে দ্রুত পচনশীল পন্য হওয়ার কারণে ভারতের কেনা পেঁয়াজের গুনগত মান ইতোমধ্যে ন’ষ্ট হয়ে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাছাড়া ভারতের বেশি দামে কেনা সেই পেঁয়াজ বাংলাদেশের আমদানি করেও লাভ নেই।

ঢাকার বড় পাইকারি বাজার শ্যামবাজারের আমদানিকারক শংকর চন্দ্র ঘোষ বলেন, পেঁয়াজ দ্রুত পচনশীল পণ্য। ভারত যে পেঁয়াজ বাংলাদেশকে কিনতে বলছে সেগুলির টেম্পার ন’ষ্ট হয়ে গেছে। এগুলো বাংলাদেশের কারও আমদানি করা ঠিক হবে না।

উল্লেখ্য, গত বছরের সেপ্টেম্বরে ভারত হুট করেই বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি নি’ষিদ্ধ করে। এর ফলে পেঁয়াজের বাজারে অ’স্থিরতা শুরু হয়। বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে বিভিন্ন দেশ থেকে জরুরি ভিত্তিতে বিমানে করে পেঁয়াজ আমদানির কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বর্তমানে বাজারে দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজে ভরে উঠেছে। এছাড়া চীন, মিশর ও মিয়ানমার থেকে আমদানি করা পেয়াঁজেও বাজার ভরপুর।

শেয়ার করুন !
  • 157
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!