আতিকুল ইসলাম সম্পর্কে যা জানেন না || নির্বাচনী বিজ্ঞাপন নয়, শুধু সত্যের সন্ধান

0

মুক্তমঞ্চ ডেস্ক:

প্রকৌশলী তীর্থক আহসান রুবেল ডুয়েটে পড়াশোনাকালে জড়িত ছিলেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে। ছাত্রাবস্থার শেষ দিকে দেশে শুরু হয় যু’দ্ধাপরাধীদের বিচার। সে সময় বিচার বাধাগ্রস্ত করতে তার আদর্শের দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির অবস্থান দেখে আজীবনের জন্য ত্যাগ করেন সেই রাজনীতি। তার কাছে মুক্তিযু’দ্ধের আদর্শের পক্ষে থাকাটা হয়ে দাঁড়ায় জীবনের রাজনীতির প্রথম শর্ত।

এ নিয়েই বাকি জীবনটা কাটাতে চান তিনি। জড়িত ছিলেন শাহবাগ আন্দোলনে। বর্তমানে সক্রিয় রাজনীতিতে সম্পৃক্ত নন। কাজ করেন একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে অনুষ্ঠান প্রযোজক হিসেবে। এছাড়াও ফ্রি-ল্যান্স চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে কাজ করছেন। ব্যক্তিগতভাবে মুক্তিযু’দ্ধের বিভিন্ন দুর্লভ তথ্য-উপাত্তের আর্কাইভিং করেন।

শুধুমাত্র মনের তাড়না থেকে তিনি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদপ্রার্থী ও সাদা মনের মানুষ হিসেবে স্বীকৃত আতিকুল ইসলামকে সম্পর্কে তুলে এনেছেন কিছু পুরনো কথা। যা অনেকের কাছে হয়ত নতুন। তিনি এই আর্টিকেলকে নির্বাচনী বিজ্ঞাপন হিসেবে না দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন। – বিভাগীয় সম্পাদক।

(১)

নিজের কারখানায় শ্রমিকদের সাথে মাটিতে বসে তাদের সাথে তাদের খাবার ভাগ করে খান তিনি। সে হিসেবে ধরে নিতে পারেন, শ্রমিকের খাবারও ‘কেড়ে’ খান এই ‘ভয়াবহ’ মানুষটি! আবার ভাবতে পারেন, শ্রেণী বৈ’ষম্যহীন একজন মানুষ।

বিএনসিসি, স্কাউটস এবং লিওক্লাব করার কারণে অনেক রকম ট্রেইনিং করতে হয়েছে ছাত্রজীবন ও পরবর্তীতে। সাথে ছিল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ট্রেইনিংও।

ফলে রানা প্লাজা ধ্ব’সের পর বিজিএমইএ’র সভাপতি হিসেবে শুধুমাত্র স্যুট-টাই পরে নজরদারি করতে পারেননি, বরং নিজেই নেমে গিয়েছিলেন সুড়ঙ্গ বেয়ে। বেশ অনেক সময় পর ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা তাকে খুঁজে পান অনেক ভেতরে একটা দেয়াল সরানোর চেষ্টারত অবস্থায়। এক প্রকার জোর করেই তাকে বের করে আনতে হয়।

সারা পৃথিবীতে বাংলাদেশ গার্মেন্টসবিরো’ধী ক্যাম্পেইন শুরু হয়। যার পেছনে কাজ করে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চক্র। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদসহ ছুটে বেড়ান সারা পৃথিবীর নানা প্রান্তে ক্লায়েন্টেদের বোঝাতে।

যেখানেই যান সেখানেই দেখেন স্টোরগুলোতে লেখা “No Bangladeshi Product”। সবচেয়ে বড় প্রতিরো’ধের মুখে পড়েন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশে বিত’র্কে/ জবাবদিহিতায় অংশ নিতে গিয়ে লিখিত বক্তব্য প্রস্তুত করেন। কিন্তু হাজার হাজার মানুষের প্র’তিবাদের মুখে বুঝতে পারেন, ফরমাল লিখিত বক্তব্যে চলবে না। তাই মন থেকে কথা বলা শুরু করেন। ছোট্ট দুটো কথা বলেন তিনি।

(২)

ছোট্ট দুটো কথা বলেন তিনি-

১. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শ্রমিক সুরক্ষা আইন করেছে দুর্ঘটনার ২১ বছর পর। সেখানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করেছেন রানা প্লাজা দুর্ঘটনার মাত্র ৯২ দিনের মধ্যে। আমরা কি জাতি হিসেবে আপনাদের চেয়ে বেশী আন্তরিক এবং মানবিক নই?

২. একজনের একটা অপরাধের শা’স্তি বাংলাদেশ সরকার আইনগতভাবে দিচ্ছে। কিন্তু আপনারা সেই অপরাধের শা’স্তি আমার দেশের লক্ষ লক্ষ শ্রমিককে কেন দেবেন? আজ যদি আমাদের প্রতিষ্ঠান না চলে, আপনারা যদি পণ্য না নেন, তাহলে এই শ্রমিকদের ভবিষ্যত কী হবে? তাদের পরিবার, সন্তানেরা খাদ্য-শিক্ষা-চিকিৎসার খরচ চালাবে কীভাবে?

এই দুটো কথাতেই মার্কিন সিনেট তাদের জনগণের সামনে প্রশ্নের মুখে পড়ে এবং তারা বাংলাদেশকে সমর্থন দেন। সবশেষে বিজিএমইএ’র সভাপতি আতিকুল ইসলাম কথা দেন, বাংলাদেশের প্রতিটি গার্মেন্টস হবে শ্রমিকবান্ধব এবং নিরাপদ।

আগে বাংলাদেশের পোশাকে লেখা থাকতো “Made in Bangladesh”। সেখানে আজ লেখা থাকে “Made in Bangladesh with PRIDE”। বিশ্বের সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন এবং নিরাপদ গার্মেন্টস কারখানার তালিকার বেশিরভাগই বাংলাদেশের।

বাংলাদেশের গার্মেণ্টস মালিকদের বাধ্য করা হয়েছে শ্রমিকবান্ধব কমপ্লায়েন্ট গার্মেন্টস গড়তে। এখনো হয়ত টুকটাক সমস্যা কিছু আছে বা থাকবে। কিন্তু অ’নিরাপদ গার্মেন্টস বাংলাদেশে নেই। সেই ঘটনার পর প্রতিটি গার্মেন্টস মালিককে বাধ্য করা হয়েছে পরিবেশ উন্নয়নে।

(৩)

২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর মেয়র আনিসুল হকের মৃ’ত্যুর পর ২০১৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারী (প্রায় দেড় বছর বা বেশী সময়। কারণ আনিসুল হক চিকিৎসাধীন ছিলেন) নতুন মেয়র নির্বাচিত হন মোঃ আতিকুল ইসলাম। ৭ মার্চ, ২০১৯ তারিখে শপথ গ্রহণ করেন। সেদিন ছিল বৃহস্পতিবার। ১০ তারিখ অফিস শুরু।

১৯ তারিখ বসুন্ধরায় শিক্ষার্থী আবরার মা’রা যায় সড়ক দুর্ঘটনায়। সেই বি’পর্যয় সামাল দিতে দিতেই ২৮ মার্চ বনানীর এফ আর টাওয়ারে আগুন লাগে। ২৯ মার্চ গুলশান ডিএনসিসি মার্কেটে আগুন। এতগুলো দুর্যোগ এত দ্রুত সামনে আসার পরও মনোবল না হারিয়ে গোছাতে গোছাতে মহা বি’পর্যয় হিসেবে সামনে আসে ডেঙ্গু।

এত দ্রুত একটার একটার বিপদ আসতে থাকে যে, নিজেকে সামলানো কঠিন। কিন্তু সেই যে ছাত্রজীবন থেকে স্ট্রাগল এবং ট্রেইনিং ছিল।

মশা মা’রার ওষুধ নিয়ে পরীক্ষা চালালেন। দেখলেন ওষুধে ভেজাল। তারচেয়েও ভ’য়ঙ্কর বিষয় হচ্ছে, ওষুধ সরবরাহকারী ২টি প্রতিষ্ঠান সিন্ডিকেটের কাছে জি’ম্মি সিটি কর্পোরেশন। সাথে সাথে সিন্ডিকেট ভেঙে দিলেন, একটি প্রতিষ্ঠানকে ব্যান করলেন এবং ওপেন টেন্ডার আহবান করলেন।

তখনো কাজ শেষ হয়নি। এক প্রভাবশালী ব্যাক্তি (বিএনপির সিনিয়র নেতা) তার বাড়িতে ঢুকতে না দিলেও এক প্রকার জোর করে সেখানে ঢুকে দেখেন আতিকুল। বাড়ির পেছনে গরুর বিশাল খামার এবং সেখানে নানা জায়গায় পানি জমে আছে। সেটা নিজেই দলসহ পরিস্কার করতে গিয়ে পিছলে পড়ে যান এবং পা মচকে যায়।

ডাক্তার কমপ্লিট রেস্ট দিলেও, এত মৃ’ত্যু মেনে নিতে না পেরে হুইল চেয়ারেই কার্যক্রম চালিয়ে যান। ডেঙ্গুর সিজন শেষ, এবার আসলো কিউলেক্স মশা। কিউলেক্স মশার আস্তানা মূলত কচুরিপানা।

ঢাকা উত্তরের খাল পরিস্কার করতে গিয়ে পড়লেন আরেক বিপদে। খাল পরিস্কারের অধিকার সিটি কর্পোরেশনের নেই। খাল ওয়াসার আওতাধীন। ফলে খাল পরিস্কার করতে যে খরচ তা অডিট মানবে না। এটা দুর্নীতিতে পড়বে।

সমন্বয়ে মনোযোগ দিলেন। ইতিমধ্যে জলাব’দ্ধতা নি’রসনে হাত দিলেন খাল উদ্ধারে। সেখানেও ভয়াবহ চিত্র। ৬০ ফুটের খাল ২০ ফুট হয়ে উত্তরায় গিয়ে তা ২ ফুট হয়ে গেছে। সেই খাল প্রথমে পরিস্কার করতে গিয়ে ৮০টি জাজিম, টেলিভিশন, ফ্রিজ, চেয়ারসহ মোট ৮০ ট্রাক ডাবের খোসা পাওয়া গেল। অডিট আ’পত্তি সত্ত্বেও নিজ দায়িত্বে এই কাজটা করেন।

অতঃপর ওয়াসা, রাজউক এবং সিটি কর্পোরেশনকে সমন্বয় করে উদ্যোগ নিলেন সকল অ’বৈধ স্থাপনা উ’চ্ছেদ করে সব ক’টা খাল উদ্ধারে। উদ্যোগ নিলেন স্মার্ট সিটি গড়ার। দালাল আর ঘুষ-হয়রা’নি থেকে নাগরিকদের রক্ষায় অনলাইনে হোল্ডিং ট্যাক্স প্রদান এবং ট্রেড লাইসেন্স আপডেট করার প্রকল্প চালু করার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।

ইতিমধ্যে সিটি কর্পোরেশনের দুর্নীতিবাজ চক্রের অন্যতম প্রধান দুই হোতাকে সাময়িক বরখা’স্ত করে দুদকে তাদের নামে অভিযোগ দিয়েছে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ। যার মামলার কার্যক্রম চলছে।

একটি অ্যাপ এর কার্যক্রম প্রায় শেষের দিকে। যেখানে আপনি চলার পথে বাতি নেই, স্যুয়ারেজের ঢাকনা নেই থেকে শুরু করে যে কোন সমস্যা ছবি তুলে অ্যাপে জানাবেন। ৪৮ ঘন্টার মধ্যে তার সমাধান না হলে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেয়রের ইনবক্সে জমা হয়ে যাবে। ফলে মেয়র দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জবাবদিহিতায় আনতে পারবেন।

এর বাইরে ১০ কিলোমিটার ডেডিকেটেড বাইসাইকেল লেইনের কাজ চলমান। ইতিমধ্যে কিছু অংশ চালুও হয়েছে আগারগাঁওয়ে।

ঢাকা উত্তর সিটিতে মোট ২৮টি স্মার্ট মাল্টিপারপাস মাঠ চালু হবে, যার কাজ প্রক্রিয়াধীন। অর্থ বরাদ্দ হয়ে গেছে। সেখানে পর্যাপ্ত আলো, হাঁটার রাস্তা, আধুনিক ওয়াশরুম, বসা এবং আড্ডা দেয়ার জায়গা, সাধারণ ও এক্সক্লুসিভ জিম থাকবে। সবচেয়ে বড় ব্যপার বৃষ্টি হলে মাঠে পানি জমবে না। থাকবে উন্নত ড্রেনেজ সিস্টেম।

এছাড়াও নতুন যে ১৮টি ওয়ার্ড যুক্ত হয়েছে, সেখানে আধুনিক সকল ব্যবস্থার পাশাপাশি ব’র্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সহ স্মার্ট সিটির সকল কার্যক্রমের পাইলট প্রকল্প শুরু হচ্ছে।

এরকম আরো অংসখ্য প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন। এখন যদি জিজ্ঞেস করেন সবই তো প্রক্রিয়াধীন, তাহলে মেয়র করেছে কী! তার জবাবে এটুকু বলবো, এই প্যারাগ্রাফটা আবার পড়ুন। যা যা দেখছেন তার সবই মেয়রের মোট কার্যদিবস অর্থাৎ ৯ মাসের কাজ। যদি ৫ বছর সময় পেতেন, তাহলে অনেক কিছুর বাস্তবায়ন দেখতে পাওয়া যেত।

(৪)

আতিকুল ইসলাম প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের সাথে মাটিতে বসে ভাত খান, মজা করে চা বানিয়ে কর্মীদের খাওয়ান, রাস্তায় হাতে তালি দিয়ে গান করেন, ওয়াজে কিংবা মাদ্রাসায় গিয়ে স্বপ্ন দেখায় শিক্ষার্থীদের জানান তার জীবনের স্ট্রাগলের গল্প। পূজা মন্ডপে ঢোল বাজান, গলা ছেড়ে গান করেন মনের আনন্দে। এগুলো কোন স্ট্যান্টবাজি বা লোকদেখানো কিছু না। উনি মানুষটাই এমন। যারা তাকে চেনেন, তারা জানেন।

উনি আমাদের সেই ফেলে আসা সবাই মিলে একটি পরিবারের যুগের মানুষ। সেই যে একটি মহল্লা, একটি গ্রাম পুরোটা মিলে একটি পরিবার। সেই যে ফেলে আসা ৮০/৯০ সাল।

ব্যাক্তিগতভাবে একবারই দেখা হয়েছিল উনার সাথে। বললাম, এমন হলে তো টিকতে সমস্যা হবে। আমরা এই যুগে খুব বেশী শ্রেণী বি’দ্বেষ লালন করি। আমরা মনে করি এমপি-মেয়র-মন্ত্রী এরা হবে ধরা ছোঁয়ার বাইরের কেউ। তার একটা দর্শন পাওয়া শত জনমের ভাগ্য। আমরা মনে করি, অমুক কিসের মেম্বার হইব! বাজারে মাইনসের লগে চা খায়, সারাদিন কামলাগো লগে গপ্প করে।

কিংবা এলিট শিক্ষিত পশ বাবুরা তো একজন শিক্ষক বা এমন কাউকে এমপি-মেয়র ইত্যাদি হিসেবে দেখতে আগ্রহী না। তারা মনে করে এইটা কোন কথা! অমুকে এমপি/ মেয়র হইব আর আমি তারে ভোট দিমু! উনাকে আরেকটু খোঁচা দিয়ে বললাম, আমার মনে হয় গাড়িতে হাত নাড়া আর ড্রেন-রাস্তা-বাতি-মশা এই পর্যন্তই কথা সীমাবদ্ধ রাখলে ভাল হয়। এইসব স্মার্ট সিটি, অ্যাপভিত্তিক সেবা এইসব ভোটের পাবলিকে খায় না।

উনি হেসে বললেন, এসব না খাওয়া জিনিসগুলোই খাওয়াতে হবে। এগুলো না খেলে যে নরকে যুগের পর যুগ পড়েছিল, সেখানেই পড়ে থাকতে হবে তাদের। গুলশান-বনানীর সৌন্দর্য আর নিরাপত্তা বাড়িয়ে ঢাকার উন্নতি হবে না। ঢাকাকে বাঁচাতে হলে, ঢাকাকে আদর্শ শহর বানাতে হলে গুলশান-বনানীর বাইরের যে ঢাকা তাকে ঠিক করতে হবে আগে।

সেই ঢাকা ঠিক হলে আমি, আমরা গুলশান বনানী যেখানেই থাকি না কেন ভাল থাকবো-নিরাপদ থাকবো। উত্তরখানের স্যুয়ারেজের ঢাকনা না থাকায় এক্সিডেন্টে আমিও পড়তে পারি। মিরপুরের মশার ভিসা লাগবে না গুলশানে এসে কামড় দিতে।

(৫)

এমন অনেক কথায় এক সময় বুঝলাম এই আতিকুল ইসলাম আর যাই হোক টিপিক্যাল রাজনীতিক হতে পারবেন না হয়ত। এই মানুষটা হবেন পাড়া মহল্লার সেই বড় ভাই যে ক্লাবে আড্ডা দেয়, আবার কেউ অসুস্থ হলে সবার আগে ছুটে আসেন হাসপাতালে নিতে বা রক্ত যোগাড়ে।

কিংবা মনে করেন মহল্লার সেই অ’সহায় পিতার সহায়, সে নানা বাড়ি থেকে চাঁদা তুলে মেয়ের বিয়ের যোগাড়যন্ত্র করে দেয় কিংবা নানাভাবে যোগাড় করে কারো পরীক্ষার ফি দিয়ে দেয়।

এবার আপনারা সিদ্ধান্ত নেন, কেমন মেয়র চান? যিনি আপনার পাকের ঘরে পাটিতে বসে ভাত খেতে খেতে আপনি কেমন আছেন জানতে চাইবে তেমন? নাকি যার মুখ দেখতে পাওয়াটা সৌভাগ্যের ব্যপার তেমন!

কেমন মেয়র চান? যিনি আপনার হাত ধরে বলবেন, আমি আছি, বলো- তোমাদের কী চাই! আমার সাধ্যের সব তোমাদের জন্য নিয়োজিত।

কেমন মেয়র চান? নাটক-সিনেমার মতো মুখোশধারী? নাকি বাস্তব এক আপনজন, যার মনে কোন লুকোচুরি নেই। যিনি ভাবেন, সবাই মিলে সবার ঢাকা, সুস্থ, সচল, আধুনিক ঢাকা।

যিনি বলেন, চেয়ার একটা বলে আমি বসেছি আপনাদের ইচ্ছায়, কিন্তু মেয়র আপনারা সবাই, আমিও।

আসুন সুন্দরের সাথে থাকি। নিরাপদ ঢাকা গড়ি, আধুনিক ঢাকা গড়ি, বাসযোগ্য ঢাকা গড়ি, নদীমাতৃক ঢাকা গড়ি, সবুজের ঢাকা গড়ি, বিশুদ্ধতার ঢাকা গড়ি, আতিক ভাইকে সাথে নিয়ে আমাদের ঢাকা গড়ি।

বি. দ্র. ৫ম পর্বে বলা অনেক কথার তথ্য-প্রমাণের সংক্ষিপ্ত রূপ এই ভিডিওতে পাবেন। গত রাতে মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম এর পেজে এই ভিডিওটি পেয়েছি।

লেখক: প্রকৌশলী তীর্থক আহসান রুবেল
পরিচিতি: সাবেক ছাত্রদল নেতা, ডুয়েট, টিভি অনুষ্ঠান প্রযোজক ও ফ্রিল্যান্স ফিল্মমেকার

শেয়ার করুন !
  • 155.2K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!