বাংলাদেশ ফ্রিগেট নির্মাণ করে জেনেও ভারত চায় বেচতে, আগ্রহী নয় সরকার

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

বাংলাদেশ নৌবাহিনী চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড (CDDL) এর যাবতীয় উন্নয়ন সাধন করছে ৬টি ফ্রিগেট দেশে তৈরীর অংশ হিসেবে। ভারত বরাবরই চাইছে তাদের “Make in India” ইনিশিয়েটিভ এর আওতায় ভারত থেকে যাতে অ’স্ত্র ক্রয় করে বাংলাদেশ।

ভারত পূর্বে শুধুমাত্র ভারতীয় অ’স্ত্র ক্রয়ের জন্য লাইন অব ক্রেডিট প্রদান করলেও তা বাংলাদেশ সশ’স্ত্র বাহিনীর সাথে না সমসাময়িক না হওয়ায় পরবর্তীতে তার সাথে ভারতের বন্ধু রাষ্ট্র রাশিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়।

কোস্টগার্ডের জন্য পেট্রল জাহাজ থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র সমরা’স্ত্র, রাডার, লাইট হেলিকপ্টারসহ নানা কিছুই ভারত অফার করেছে, যা চীন থেকে প্রাপ্ত সামরিক অ’স্ত্রের মানের ধারে কাছেও আসেনি। বরাবরের মত রিজেক্টেড হয়ে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ২০১৯ সালে ৫০০ মিলিয়ন ডলার লাইন অফ ক্রেডিট এর আওতায় বাংলাদেশকে সামরিক সরঞ্জাম কেনার অনুরোধ করেন।

দুঃখজনক হলেও সত্য, চীন থেকে সাবমেরিন কেনার পর ভারতীয় এক নির্ধারক তড়িঘড়ি করে “চপ্পল” (স্যান্ডেল) পরে বাংলাদেশে চলে এসেছিলেন। ভারত বাংলাদেশের জন্য কিছু ফ্রিগেট ভারতের ডকে বানাতে চেয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে যার ট্রান্সফার অব টেকনোলজিও দেয়া সম্ভব। যদিও চীন থেকে কেনা সরঞ্জামাদির চাইতে তা বরাবরই ডাউনগ্রেডেড।

মনে রাখতে হবে, ভারত নিজ থেকে বাংলাদেশকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার লাইন অব ক্রেডিট দিয়েছে যা এখনো অ’ব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। ভারতীয় থিংক ট্যাংকরা প্রায়শঃ একটি কথা বলে থাকেন, বাংলাদেশকে ভারতীয় কোস্টাল সার্ভেইল্যান্স এর অন্তর্ভুক্ত করা। বাংলাদেশের সাথে “স্ট্র্যাটেজিক” সামরিক চুক্তি সম্পাদন। ভারত বেশ কয়েক বার অনুরোধ এমনকি চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে।

ভারতের নৌবাহিনীর সক্ষমতা যাই হোক, “Make in India” ইনিশিয়েটিভ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিরই নেয়া। আর এজন্য ভারত দক্ষিণ এশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে কাস্টমার খুঁজছে।

কে না চায়, প্রতিবেশীকে কিছু অ’স্ত্র দিয়ে পলিটিক্যালি নিজের স’ক্ষমতা জাহির করতে! ভারত এবার বাংলাদেশের ফ্রিগেট প্রোগামে অংশগ্রহণে আগ্রহী। যদি ওয়েস্টার্ন বা ভারতীয় ডিজাইনের অন্তত ১টি ফ্রিগেট “Make in India” ইনিশিয়েটিভ এর আওতায় ভারতীয় ডকে তৈরী হয়, তাতে ভারতের দুটো লাভ। তাদের মিডিয়ায় এটি হট নিউজ হবে। এবং একই সাথে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের মত ক্রেডিটের আওতায় বিশ্বের অন্যান্য দেশকেও ভারত সহজভাবে এমন ফ্রিগেট নিজে নির্মাণে অফার করতে সক্ষম হবে।

আরেকটি বিষয় মনে রাখতে হবে, সামরিক খরচের হিসেবে ৫০০ মিলিয়ন ডলার বিশাল কিছু নয়। ৫০০ মিলিয়ন ডলারের আওতায় ভারত বাংলাদেশের ফ্রিগেট প্রোগ্রামে যুক্ত হবার সুযোগ পাবে; অবশ্যই যদি বাংলাদেশ সেই সুযোগ দেয়।

যদিও বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী এখনো ভারতীয় সরঞ্জাম কেনার ব্যাপারে আগ্রহ দেখায়নি। কারন অফার করবার মত ভারত তেমন শক্তিশালী কিছুই দেখায়নি বাংলাদেশকে। বারবার ব্যর্থ হওয়া সত্ত্বেও ৫০০ মিলিয়ন ডলারের মত মামুলি অর্থের জিনিস কিনতে ভারতীয় প্রতিনিধিরা বাংলাদেশকেই বরাবর অনুরোধ জানিয়েছেন এবং এখনো জানিয়ে যাচ্ছেন।

৫০০ মিলিয়ন ডলার লাইন অব ক্রেডিটের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল নয়। ভালো কিছু অফার করা ছাড়া ভারতের কিছুই বাংলাদেশে আসবে না, যতক্ষণ না তা সামরিক বাহিনী গ্রহণ করতে চায়।

ভারতেরও মনে রাখা উচিত, ভূ-রাজনৈতিক বিবেচনায় ভাল কিছু অফার ছাড়া বাংলাদেশ কিছুই নিতে আগ্রহী নয়। সামরিক বাহিনীর প্রয়োজনমত না হলে এবং প্রধানমন্ত্রীর গ্রিন সিগন্যাল ছাড়া ভারতীয় টাটা স্টাফ কার, ঘোড়া আর কোস্টগার্ডের সার্ভেইল্যান্স রাডার বাদে কিছু নেয়া হবেও না।

চাইলে সেই ৫০০ মিলিয়ন ডলার ফিক্সড ডিপোজিট হিসেবে ব্যাংকে রেখে ১০ বছর পর ১ বিলিয়ন ডলার লাইন অফ ক্রেডিট এর মাধ্যমে ভাল কিছু অফার করতে পারে ভারত।

* ছবিতে ভারতীয় আকাশ স্যাম সিস্টেমের সাথে বাংলাদেশী ডেলিগেশন টিম।

© ডিফেন্স রিসার্চ ফোরাম

শেয়ার করুন !
  • 392
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply