সাবমেরিন বেসের কাজ চলছে, বহরে যুক্ত হবে আরও সাবমেরিন

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

সম্প্রতি মিয়ানমারের একটি জনপ্রিয় সামরিক ফেসবুক পেজ (মানসম্পন্ন ও অথেন্টিক) প্রকাশ করেছে, “মিয়ানমার ২০৩০ সালের মধ্যে বেশ কয়েকটি আপগ্রেডেড কিলো ক্লাস সাবমেরিন তাদের বহরে রাখবে।” মর্ডানাইজেশন প্ল্যান হিসাবে সেটি আসলেও কার্যকর এবং ইতিমধ্যেই তারা ভারত থেকে একটি পুরাতন কিলো ক্লাস সাবমেরিন কিনেছে যা মুলত তারা ট্রেনিং পারপাসে ব্যবহার করা হবে।

সব দেশই তাদের সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়নের প্রতি মনোযোগী এবং বাংলাদেশও এর ব্যাতিক্রম নয়। বাংলাদেশ চীন থেকে ২টি Upgraded Ming Class Submarine ক্রয় করেছে। যা ২০১৭ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত হয়েছে।

একটা বিষয় লক্ষ্যণীয়, মিয়ানমারের ডেলিগেশন যেখানেই যাক না কেন সেখানে তারা এমনভাবে ছবি তুলে পাবলিসিটি করে, যেন তারা কিনে ফেলেছে। বাংলাদেশ কিন্তু সে রকম পাবলিসিটি কখনই করে না। ইনফ্যাক্ট সামরিক তথ্য প্রকাশ করা হয় বুঝে শুনে।

যারা বেশ আগে থেকেই বিভিন্ন ফেসবুকের সামরিক পেজ বা গ্রুপের কমিউনিটিতে যুক্ত আছেন, তারা নিশ্চয়ই জানেন বাংলাদেশ সাবমেরিন কেনার আগে ঢাকঢোল বাজায়নি। সম্ভবত ২০১৪ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা করেন- “বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে সাবমেরিন যুক্ত হবে।”

ঠিক তার পরের বছরেই চীনের সাথে Ming Class সাবমেরিন কেনার চুক্তি করে নৌবাহিনী। যার আপগ্রেড শেষে ২০১৭ সালে বহরে যুক্ত হয়। একইভাবে ২০১৮ সালে মহামান্য রাষ্ট্রপতি আরো ২টি মিসাইল ফ্রিগেট কেনার ঘোষণা করেন এবং সে বছরের জুলাই মাসেই বাংলাদেশ নৌবাহিনী ২টি Type-053H3 ফ্রিগেটের অফিশিয়াল ডিলে স্বাক্ষর করে।

মূল প্রসঙ্গে আসা যাক। বাংলাদেশ নৌবাহিনী সাবমেরিন কেনার পরে গত বছর আনুষ্ঠানিকভাবে চীনের সাথে ১.২ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করে কক্সবাজারে সাবমেরিন বেস নির্মাণের জন্য। যার কাজ পুরোদমে এগিয়ে যাচ্ছে।

২০১৮ সালে জাতীয় সংসদে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, “নৌবাহিনীর জন্য সার্ভে ভ্যাসেল, সাবমেরিন রেস্কিউ শিপ, কর্ভেট, ফ্রিগেট ইত্যাদি কেনা হচ্ছে।” সাবমেরিন রেস্কিউ শিপ মূলত সাবমেরিন উদ্ধার, সাপোর্ট ও অন্যান্য কাজে ব্যবহার করা হয়। এগুলো কি নির্দেশ করে না যে, বাংলাদেশ আরো সাবমেরিন কিনবে?

এখন প্রশ্ন আসতে পারে, তাহলে সাবমেরিনগুলো রাখা হবে কোথায়?

পটুয়াখালীতে বাংলাদেশের ও দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ নেভাল বেস শের-ই-বাংলা স্থাপিত হচ্ছে। যেখানে সাবমেরিন রাখার বন্দোবস্ত থাকবে। বর্তমানে যেভাবে চট্টগ্রামের ঈশা খাঁ বেসে রাখা হয়েছে।

বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশ নেভির সাবমেরিনারদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। দেশে নিজেদের সাবমেরিনেও প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়া, জার্মানি, তুরস্ক এসব দেশ থেকেও সাবমেরিনারদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এসব কিন্তু শুধু শুধু নয়। বড় একটি পরিকল্পনার অংশ।

নৌবাহিনী নিজস্ব ASW Helicopter fleet স্থাপন করেছে। যার আওতায় AW-159 (AgustaWestland AW159 Wildcat) হেলিকপ্টার আসবে।

আর এসব দেখে কপিক্যাট মিয়ানমার বাংলাদেশকে কপি করে সাবমেরিন কিনতে শুরু করবে নিশ্চয়। সেজন্যই তো এতো আয়োজন…..ডেডিকেটেড ASW LPC Squadron (Durjoy-class semi-stealth large patrol craft) সেজন্যই গঠিত হচ্ছে।

অপেক্ষা করুন। শীঘ্রই আরো সাবমেরিন আসবে। উন্নত দেশ থেকেও আসার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না। ব্লু ইকোনমি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর শক্তিমত্তা বাড়ানো অবশ্য কর্তব্য। আর সরকার সেটিই করছে এবং করবে।

© ডিফেন্স রিসার্চ ফোরাম

শেয়ার করুন !
  • 368
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!