সাব-হান্টার, এন্টি সাবমেরিন হেলিকপ্টার যুক্ত হবে নৌবাহিনীর বহরে

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

ফোর্সেস গোল-২০৩০ এর আওতায় প্রাথমিকভাবে ২টি সাবমেরিন সংগ্রহের পরিকল্পনা বেশ পুরনো। এরই আওতায় চীন থেকে সর্বপ্রথম ২০৩ মিলিয়ন ডলারে ট্রেনিং পারপাসে দুটো সাবমেরিন সংযুক্ত হয়। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সম্মান জানিয়ে তা ১৯৩ মিলিয়ন ডলারে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে বুঝিয়ে দেয় চীন।

মনে রাখা প্রয়োজন, সাবমেরিনগুলো কেনার ঘোষণা দেয়ার পর ভারত তাৎক্ষণিক কোন প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। তবে সাবমেরিন ডেলিভারি পাওয়ার আগে এবং পরে ভারতের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মত। যার অর্থ হলো, ভারতের কর্তাব্যক্তিরা নিজেই এই সাবমেরিন কেনার আগে অথবা সময়ে তা নিয়ে জানত না অথবা বাংলাদেশের সাবমেরিন কেনার বিষয়টি তারা গ্রাহ্য করেনি।

সাবমেরিন কেনার পর ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো চমকে উঠেছিল এবং ‘কেন ভারতীয় প্রতিবেশি দেশ সাবমেরিন সংগ্রহ করছে’ শীর্ষক বিভিন্ন সংবাদ সে সময় ভারতের শীর্ষ পত্র পত্রিকা এবং টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে প্রচারিত হয়।

সাবমেরিন সংযোজনের পর প্রতিরক্ষা চুক্তি, ৫০০ মিলিয়ন ডলারের ক্রেডিট লোনের জন্য চাপ দেয়া, হাই প্রোফাইলদের বাংলাদেশ সফরসহ নানা আলোচনা চলে। এখনো চীন থেকে ফ্রিগেট, কর্ভেট ক্রয় করাকে ভারত ভালো নজরে দেখেনা। যার ফলাফল বাংলাদেশের ফ্রিগেট প্রোগ্রামে যুক্ত হবার চেষ্টা তাদের।

এরই মধ্যে ভারত বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় বেশ কয়েকবার সাবমেরিন নিয়ে অনু-প্রবেশের চেষ্টা করেছে। যার মূল কারন ছিল বাংলাদেশী সাবমেরিন তাদের অবস্থান শনাক্ত করতে পারে কি না তা জানা। তাদের জন্য অ’প্রত্যাশিত হলেও বাংলাদেশের সাবমেরিন তাদের অবস্থান বেশ সহজেই শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। সেই সাথে তাদেরকে সতর্কও করে দেয়।

ভবিষ্যতে মিয়ানমারের সাবমেরিনও এমন করতে পারে। যে কারনে বাংলাদেশ নৌবাহিনী এন্টি সাবমেরিন হেলিকপ্টার সংযোজন করতে যাচ্ছে বহরে। একইসাথে ভবিষ্যতে যদি সাবমেরিন হান্টার এয়ারক্রাফটও সংযোজিত হয় অবাক হবার কিছুই থাকবে না।

মনে রাখতে হবে পাকিস্থানের পর চীনের অন্যতম বড় অ’স্ত্রের ক্রেতা বাংলাদেশ। এছাড়াও বাংলাদেশ নৌবাহিনী নিজেই চীনা সামগ্রীর অন্যতম বড় ক্রেতা।

সোনাদিয়ার কাছে নির্মিতব্য শেখ হাসিনা সাবমেরিন বেস নির্মাণ একটি সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া হলেও তা চলমান রয়েছে। যা ২০২৪-২৫ সাল নাগাদ সম্পন্ন হতে পারে।এক্ষেত্রে আরো মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশে সাবমেরিনগুলো বাংলাদেশ নৌবাহিনী অপারেট করলেও চীনা টেকনিক্যাল টিমের উপস্থিতি একদম সীমিত হলেও থাকবে।

যদিও বাংলাদেশ বলে চীনা সাবমেরিন কখনোই বাংলাদেশের সীমায় নোঙ্গর করবে না। তবে ভবিষ্যতে চীনা-বাংলাদেশী সাবমেরিন একসাথে সামরিক মহড়া চালালে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। নতুন সাবমেরিন সংযোজনে সময় লাগলেও তা নিশ্চিতভাবেই আসবে।

© ডিফেন্স রিসার্চ ফোরাম

শেয়ার করুন !
  • 67
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply