আসামি হলো পাগ’লা মিজান, কারাগা’রে তোতলা মিজান!

0

যশোর প্রতিনিধি:

বি’স্ফোরক মামলার আসামি পাগ’লা মিজান। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে না পেয়ে দিনমজুর তোতলা মিজানকে গ্রেপ্তার করেছে। পরে তাকে কারাগা’রেও পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) যশোর সদর উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে।

গ্রেপ্তার দিনমজুর তোতলা মিজান যশোর সদর উপজেলার খোলাডাঙ্গা গ্রামের নূরুল ইসলামের ছেলে। আর বো’মা বি’স্ফোরণ মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি পাশের গ্রাম সুজলপুর হঠাৎপাড়ার নূরুল হাওলাদারের ছেলে মিজানুর রহমান ওরফে পাগ’লা মিজান।

এর আগেও গত বছর ১৭ ফেব্রুয়ারি যশোরে মিঠু শেখ হ’ত্যা মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি জনির পরিবর্তে সবুজ বিশ্বাস নামে নিরাপরাধ এক যুবককে ধরে জেলে দেয় পুলিশ। সবুজের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে আদালতের বিচারক এ ঘটনায় তদন্ত কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিলেন।

এছাড়া গেল ৯ ডিসেম্বর যশোরের চৌগাছায় আসামির সঙ্গে নামের মিল থাকায় মরহুম আহাদ আলী দফাদারের ছেলে আব্দুল আজিজকে কারাভো’গ করতে হয়। নামের মিল থাকায় পুলিশ মূল আসামিকে না ধরে বৃদ্ধ আজিজকে ধরে কারাগা’রে পাঠায়। আর সর্বশেষ গ্রামের নাম আলাদা হলেও পুলিশ মিজান নামে একজনকে বো’মা বি’স্ফোরণ মামলায় কারাগা’রে প্রেরণ করেছে।

মামলা সূত্র মতে, ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি শহরতলীর সুজলপুর জামতলা আকবর মিয়ার রড ফ্যাক্টরির সামনে খোলাডাঙ্গা গ্রামের সাগর, তাহের, সুজলপুরের হঠাৎপাড়ার মিজানুর রহমান ওরফে পাগ’লা মিজান, নাজু, জাহাঙ্গীর, রিপন, রনি ও রবিউলসহ ১০/১২ জনে না’শকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে লেখা কিছু পোস্টার টানাতে যান। এ সময় সুজলপুর গ্রামের আব্দুস সালাম মিঠু তাদের পোস্টার লাগাতে নি’ষেধ করেন। এতে তারা ক্ষি’প্ত হয়ে আব্দুস সালাম মিঠুকে লক্ষ্য করে কয়েকটি বো’মা নিক্ষেপ করে। মিঠুর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে সাগর ও তাহেরকে দু’টি বো’মাসহ আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

এ ঘটনায় আব্দুস সালাম মিঠু বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অ’জ্ঞাতনামা আরও ২ জনের বিরু’দ্ধে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। প্রথমে মামলাটি তদন্ত করেন কোতোয়ালি থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) সোলায়মান আক্কাস। সর্বশেষ মামলাটি তদন্ত করে ৮ জনের বিরু’দ্ধে ২০১৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন উপপরিদর্শক (এসআই) হায়াৎ মাহমুদ খান।

মামলার এজাহারে এবং চার্জশিটে আসামির নাম মিজানুর রহমান ওরফে পাগ’লা মিজান। বাবার নাম নূরুল হাওলাদার ও গ্রামের নাম সুজলপুর হঠাৎপাড়া উল্লেখ করা হয়। অথচ মঙ্গলবার ভোররাতে খোলাডাঙ্গা গ্রামের নূরুল ইসলামের ছেলে মিজানুর রহমান ওরফে তোতলা মিজানকে গ্রেপ্তার করেন কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের এএসআই আল মিরাজ খান। এ সময় মিজান জাতীয় পরিচয়পত্র দেখাতে চাইলেও তিনি শুনেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভিক্টিম মিজান বিকেলে আদালতের বারান্দায় সাংবাদিকদের জানান, তিনি স্যানিটারি মিস্ত্রির কাজ করে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে দিনাতিপাত করেন। তার বিরু’দ্ধে কোনো দিন মামলা হয়নি। কিন্তু পুলিশ কোনো কথাই না শুনে তাকে গ্রেপ্তার করেন।

এ ব্যাপারে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!