বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, মিশন- ব্লু ইকোনমি

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

স্বাধীনতা যু’দ্ধের সময় ঐতিহাসিক পলাশ এবং পদ্মা’র হাত ধরেই গড়ে উঠেছে বর্তমান ত্রিমাত্রিক বাংলাদেশ নৌবাহিনী। দেশের সবচাইতে বড় ইকোনমিক করিডোর Bay Of Bengal। ভারতীয় মহাসাগরের প্রেক্ষিতে আমাদের অর্থনীতির অগ্রদূত বঙ্গোপসাগর। আর এই সাগরই ভারতীয় মহাসাগরে প্রবেশের প্রথম দ্বার আমাদের জন্য। সে বিচারে অদূর ভবিষ্যতে শ’ত্রুরা বিলিয়ন ডলার খরচ করে যু’দ্ধ আকাশে নয়, বরং করবে সমুদ্রে।

তিন দিকে ভারত, এবং কোণার একটি অংশে মিয়ানমার নিয়ে বেষ্টিত এ দেশটিতে নেভাল ব্লকেডই বাংলাদেশের ইকোনমির জন্য ম’রণফাঁদ হয়ে দাঁড়াবে। সে অর্থ বিবেচনায় সাগরের গুরুত্ব আমাদের অর্থনীতি এবং জীবনধারায় অন’স্বীকার্য।

আমাদের সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ, অর্থনীতি, সম্ভাবনাময় তেল, গ্যাস সবকিছুই লুকিয়ে আছে বঙ্গোপসাগরে। সে গুরুত্ব বিবেচনায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে যুগের সাথে তাল মিলানোর পাশাপাশি ব্লু ওয়াটার ইকোনমি রক্ষায় আধুনিক নৌবাহিনী গড়ে তোলার কোন বিকল্প নেই।

বিবেচনা করে দেখা যায়, আমাদের টাইপ ৫৩ এইচথ্রি ফ্রিগেটগুলোর ডিসপ্লেসমেন্ট যেখানে ২৪০০ টনের মত, সেখানে দেশে নির্মিত OPV গুলোর ডিসপ্লসমেন্ট ২০০০ টন। দেশে ভবিষ্যৎকালে নির্মিত ফ্রিগেটগুলোর ডিসপ্লেসমেন্ট হবে ৪৫০০+ টন।

সক্ষমতার ক্ষেত্রে তাদেরকে লাইট ডেস্ট্রয়ারের সাথে তুলনা করাও যেতে পারে। বঙ্গবন্ধু নেভাল একাডেমীর আধুনিকায়ন সহ নৌবাহিনী সদস্যদের আধুনিক ট্রেনিং এবং শিক্ষা প্রদানকেই গুরুত্ব দিচ্ছে নৌবাহিনী।

ইতোমধ্যে Friend and Foe আইডেন্টিফিকেশনসহ নিয়মিত জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক মহড়া, নতুন নতুন জলযান সংগ্রহ এবং নিজস্বভাবেই ফ্রিগেট, কর্ভেটসহ যাবতীয় সমর জাহাজ কেনার দিকে মনোনিবেশ করছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। Buyer Navy ধারণা থেকে সরে গিয়ে বিদ্যমান শিপ ইয়ার্ডসমুহের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং Builder Navy হিসেবে পূর্ণাঙ্গভাবে আত্ম প্রকাশ করাই বাংলাদেশ নৌবাহিনীর মূল লক্ষ্য।

ইতিপূর্বে নৌবাহিনীর জন্য সাবমেরিন কেনার পর ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো চমকে উঠেছিল এবং ‘কেন ভারতীয় প্রতিবেশি দেশ সাবমেরিন সংগ্রহ করছে’ শীর্ষক বিভিন্ন সংবাদ সে সময় ভারতের শীর্ষ পত্র পত্রিকা এবং টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে প্রচারিত হয়। এখনো চীন থেকে ফ্রিগেট, কর্ভেট ক্রয় করাকে ভারত ভালো নজরে দেখেনা।

এরই মধ্যে ভারত বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় বেশ কয়েকবার সাবমেরিন নিয়ে অনু-প্রবেশের চেষ্টা করেছে। যার মূল কারন ছিল বাংলাদেশী সাবমেরিন তাদের অবস্থান শনাক্ত করতে পারে কি না তা জানা। তাদের জন্য অ’প্রত্যাশিত হলেও বাংলাদেশের সাবমেরিন তাদের অবস্থান বেশ সহজেই শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। সেই সাথে তাদেরকে সতর্কও করে দেয়।

ভবিষ্যতে মিয়ানমারের সাবমেরিনও এমন করতে পারে। যে কারনে বাংলাদেশ নৌবাহিনী এন্টি সাবমেরিন হেলিকপ্টার সংযোজন করতে যাচ্ছে বহরে। একইসাথে ভবিষ্যতে যদি সাবমেরিন হান্টার এয়ারক্রাফটও সংযোজিত হয় অবাক হবার কিছুই থাকবে না।

মনে রাখতে হবে পাকিস্থানের পর চীনের অন্যতম বড় অ’স্ত্রের ক্রেতা বাংলাদেশ। এছাড়াও বাংলাদেশ নৌবাহিনী নিজেই চীনা সামগ্রীর অন্যতম বড় ক্রেতা।

সোনাদিয়ার কাছে নির্মিতব্য শেখ হাসিনা সাবমেরিন বেস নির্মাণ একটি সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া হলেও তা চলমান রয়েছে। যা ২০২৪-২৫ সাল নাগাদ সম্পন্ন হতে পারে।এক্ষেত্রে আরো মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশে সাবমেরিনগুলো বাংলাদেশ নৌবাহিনী অপারেট করলেও চীনা টেকনিক্যাল টিমের উপস্থিতি একদম সীমিত হলেও থাকবে।

যদিও বাংলাদেশ বলে চীনা সাবমেরিন কখনোই বাংলাদেশের সীমায় নোঙ্গর করবে না। তবে ভবিষ্যতে চীনা-বাংলাদেশী সাবমেরিন একসাথে সামরিক মহড়া চালালে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। নতুন সাবমেরিন সংযোজনে সময় লাগলেও তা নিশ্চিতভাবেই আসবে।

শেয়ার করুন !
  • 41
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!