ছাত্রীদের শরীরে হাত দেয়ার ছুতো খোঁজা প্রধান শিক্ষককে শো-কজ

0

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

চট্টগ্রামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের সাথে যৌ’ন হয়রা’নির ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। কিছুদিন আগে নগরীর চকবাজার এলাকার কাপাসগোলা স্কুলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বহু ছাত্রীর অভিযোগের পর এবার একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে উত্তর পতেঙ্গার ৪০ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার মাইজপাড়া মাহমুদুন্নবী চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেমর বিরু’দ্ধে।

ছাত্রীরা জানান, তিনি মেয়েদের শরীরের সেনসিটিভ স্থানে হাত দেন। কথায় কথায় গায়ে হাত দেওয়ার অজুহাত খোঁজেন এবং আ’জেবাজে মন্তব্য করেন। ওই স্কুলের অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী এ অভিযোগ করলেন।

সরেজমিনে ওই বিদ্যালয়ে গেলে ১০ম শ্রেণির বিজ্ঞান শাখার একজন ছাত্রী অকপটে বলেন, গত ২৬ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে স্কুলে কোচিং করতে গেলে দেখি স্কুলের গেট বন্ধ। ওই সময় প্রায় ১ ঘন্টা ধরে অপেক্ষা করার পর আমরা সবাই বাসায় চলে যাই। এরপর শনিবার স্কুলে গেলে সবাইকে মা’রধর করেন প্রধান শিক্ষক। আমি একটু দূরে ছিলাম। কারন, নানা অজুহাতে মেয়েদের সেনসিটিভ স্থানে হাত দেওয়া তার স্বভাব। তাই দূর থেকেই স্যারের কথার উত্তর দিলে তেড়ে এসে আমার মুখ হাত দিয়ে চেপে ধরে খামচি দেন। এ সময় স্যারের নখের আঘা’তে আমার মুখে দাগ বসে যায়।

ওই ছাত্রী আরও বলেন, আমার দুই হাত ধরে টেনে ব্ল্যাকবোর্ডের সামনে নিয়ে যান। সেখানে দেয়ালের সাথে মাথায় বাড়ি দেন। এ সময় আমাকে খারাপ ভাষায় গা’লাগাল করেন। তখন আমাকে বলেন- আমি নাকি চরিত্র’হীন এবং ক্লাসের খারাপ মেয়ে। আরও বলেন- তোরা কীভাবে পরীক্ষায় পাস করিস আমি দেখে নেব।

ওই শিক্ষক একই আচরণ করেছেন ২০২০ সালের অন্তত দু’জন এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ অন্যান্য শ্রেণির আরও অনেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে।

একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করে জানান, একজন প্রধান শিক্ষকের এমন আচরণ কোনও সভ্য সমাজ মেনে নিতে পারে না। কথায় কথায় শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত তোলা, ছাত্রীদের সেনসিটিভ জায়গায় হাত দেওয়া ও বা’জে মন্তব্য করা কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা তার শা’স্তি চাই। অন’তিবিলম্বে এই শিক্ষককে চাকরি’চ্যুত করা না হলে আন্দোলনের ঘোষণা দেন তারা।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাইজপাড়া মাহমুদুন্নবী চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এমএ আবুল কাশেমের মুঠোফোনে পর পর ৩ দিন কল করা হলে প্রতিবারই ফোন ধরেন তার স্ত্রী। তিনি (আবুল কাশেম) অসুস্থ উল্লেখ করে সংযোগ বিচ্ছি’ন্ন করে দেন।

বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির দাতা সদস্য মোহাম্মদ লোকমান বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির পূর্বনির্ধারিত জরুরি সভায় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক এমএ কাশেমকে শো-কজ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৭ দিনের মধ্যে এই রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বরাবরে তাকে অপ’সারণের জন্য সুপারিশ করা হবে।

বিদ্যালয়ের পরিচালনা সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, প্রধান শিক্ষক এমএ কাশেমের বিরু’দ্ধে কয়েকজন শিক্ষার্থীর আনা অভিযোগ নিয়ে পরিচালনা কমিটির সদস্যরা ক্ষু’ব্ধ। ছাত্রীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করার কারনে ইতিপূর্বে বেশ কয়েকবার তাকে সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু বার বার তার এ ধরনের ঘটনায় পরিচালনা কমিটি খুবই বি’ব্রত। গত বছরও এই ধরনের একটি ঘটনা নিয়ে নানা সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল আমাদের।

উল্লেখ্য, এর আগেও আরেক ঘটনায় আলোচনায় এসেছিলেন অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম। ২০১৮ সালের ২০ নভেম্বর বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রী বোরকা পরে বিদ্যালয়ে আসলে তাকে ক্লাসে প্রবেশ করতে দেননি প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম।

পর দিন ছাত্রীর মা নুপুর বেগম বোরকা পরে ক্লাস করার অনুমতি চাইতে গেলে তিনি মা’রমুখি হয়ে তেড়ে যান ওই অভিভাবকের দিকে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে ওই শিক্ষকের বিরু’দ্ধে।

শেয়ার করুন !
  • 64
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!