চীন বাঁচাতে পারলো না বন্ধুরাষ্ট্র মিয়ানমারকে

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

মিয়ানমারকে রক্ষা করতে পারলো না বন্ধুরাষ্ট্র চীন। বিশ্বের হাতে গোনা যে ক’টি দেশ প্রকাশ্যে মিয়ানমারের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে চলে চীন তাদের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে।

সেনা শাসন, রোহিঙ্গা নি’ধন প্রতিটি পর্যায়েই মিয়ানমারের প্রতি সমর্থন দিয়ে গেছে বেইজিং। বলা হয়, চীনের এই অবিরাম সমর্থনের কারণেই আন্তর্জাতিক সব আইন-কানুনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রোহিঙ্গাদের বিতা’ড়িত করতে পেরেছে মিয়ানমার।

এবার যখন গাম্বিয়ার করা মামলায় আদালতের কাঠগড়ায় মিয়ানমার, তখনও ভাবা হচ্ছিল, প্রভাব খাটিয়ে মিয়ানমারকে বাঁচিয়ে দেবে ‘বড় ভাই’ চীন। আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের দিন কয়েক আগে চীনা প্রেসিডেন্টের ঐতিহাসিক মিয়ানমার সফর সেই শ’ঙ্কাই জাগাচ্ছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) গতকালের বক্তব্য এবং আদেশ আপাতত ন্যায় বিচারের আভাসই দিচ্ছে।

চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এ সপ্তাহেই মিয়ানমার সফর করেছেন। এই সফরে দু’দেশের মধ্যে ৩৩টি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। যেই রাখাইন রাজ্যে ঘটে যাওয়া গণহ’ত্যা নিয়ে আদালতে মামলা চলছে, সেখানেও গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের প্রকল্প হাতে নিয়েছে চীন। অথচ রাজ্যের রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় একটি কথাও বলেননি চীনা প্রেসিডেন্ট।

মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি ঘোষণা করেছেন, পৃথিবীর শেষ দিন পর্যন্ত চীনের পাশে থাকবে মিয়ানমার। সু চি হয়তো আশা করেছিলেন, চীনের সঙ্গে এই বন্ধুত্বের ওপর ভর করেই পার পেয়ে যাবেন তিনি। কিন্তু সু চির আশা আদালত আজ এক তুড়িতে উড়িয়ে দিয়েছেন।

মিয়ানমারের আবেদন এক বাক্যে খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। আইসিজের বিচারক প্যানেলের প্রেসিডেন্ট বিচারপতি আবদুল কায়ি আহমেদ ইউসুফ স্পষ্ট করেই বলেছেন, রাখাইনে যা হয়েছে তাতে গণহ’ত্যার উদ্দেশ্য প্রমাণিত। এর দায় মিয়ানমার কোনভাবেই এড়াতে পারে না। আদালতের বক্তব্য গাম্বিয়া তথা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য এক বিশাল জয়।

আমাদের কারোরই অজানা নয়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শক্তিধর দেশগুলোর নির্দেশনাতেই চলে সবকিছু। এমনটাও দেখা যায়, পর্দার আড়ালের ডিপ্লোমেসিতে ঘুরে যায় বিচারের রায়। রোহিঙ্গা গণহ’ত্যার বিচারের ক্ষেত্রেও তেমনটা ঘটবে কিনা সে প্রশ্ন উঠছিল শুরু থেকেই। বিশেষতঃ বিচারক প্যানেলের ভাইস প্রেসিডেন্ট চীনের নাগরিক হওয়ায় অনেকেই শ’ঙ্কা প্রকাশ করে বলছিলেন, হয়তো আন্তর্জাতিক বিচার আদালত আজ পক্ষ’পাতমূলক আদেশ জারি করবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটা হয়নি।

অন্তবর্তীকালীন আদেশে মিয়ানমারের পরাজয় স্পষ্ট। কিন্তু চূড়ান্ত রায় আসতে এখনও অনেকটা পথ বাকি।

বাংলাইনসাইডার

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!