অন্য দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিজের দিকে টানছেন মেয়র প্রার্থীরা

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বাকি আর মাত্র ৬ দিন। আগামী ১ ফ্রেব্রুয়ারি ঢাকা দুই সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনের প্রচারণা এবং ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাওয়া ছাড়াও নির্বাচনে জয়ের জন্য নানা কৌশল গ্রহণ করছেন প্রধান দুই দলের মেয়র প্রার্থীরা।

সেই কৌশলের একটি অংশ হয়ে দাড়িয়েছে, ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের নিজেদের পক্ষে ভেড়ানো। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ওয়ার্ড কাউন্সিলররা একটি বড় ফ্যাক্টর। ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনা এবং ভোটারদের ভোটে উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে ওয়ার্ড কাউন্সিলররাই মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।

কারণ একটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলররাই নিবিড়ভাবে ঘুরে বেড়ান আর তারা ওই ওয়ার্ডের নাড়ি নক্ষত্র সবই জানেন। এক্ষেত্রে দুই দলই মনে করছে, ওয়ার্ড কাউন্সিলররা যদি তাদের পক্ষে থাকেন তাহলে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া অনেক সহজ হবে। এই নির্বাচনে দুই দলেরই বিদ্রোহী প্রার্থীর ছড়াছড়ি। প্রতিটা ওয়ার্ডেই আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। আওয়ামী লীগের দলীয় একটি সূত্রে জানা গেছে, উত্তরে মোট ৫৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৪০ জন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ৫৪টি ওয়ার্ডেই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। এই বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে অনেকেই জনপ্রিয়। বিদ্রোহী প্রার্থীরা যেহেতু আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পাননি তাই দলের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ভালো নেই। সেজন্য নির্বাচনে জয়ী হতে মরিয়া তারা। আর এই সুযোগটি নিতে চাইছেন উত্তরে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তাবিথ আউয়াল।

বিভিন্ন সূত্র প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, ইতোমধ্যেই তাবিথ আউয়াল আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে যোগযোগ শুরু করেছেন। তাবিথকে সমর্থন দিলে বিএনপির ভোটগুলো বিদ্রোহী প্রার্থীরা পাবেন আর এতে তাদের জয় সুনিশ্চিত হবে। এ রকম একটি প্র’লোভন দিয়ে তাবিথ বিদ্রোহী প্রার্থীদের দলে ভেড়াতে চাচ্ছেন।

এই কৌশলে পিছিয়ে নেই আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলামও। ৫৪টি ওয়ার্ডের সবকটিতেই বিএনপিরও বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। বিদ্রোহী প্রার্থীদের অনেকেই অভিযোগ করেছেন মনোনয়ন বাণিজ্যের কারণে তারা দলীয় মনোনয়ন পাননি। আতিকুল ইসলামের পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। আর এই বিদ্রোহী প্রার্থীদের দলে ভেড়ানোর জন্য আওয়ামী লীগ সাধ্যমত সব চেষ্টাই করছে।

আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বলা হচ্ছে, তারা যদি নৌকার পক্ষে কাজ করেন এবং নৌকার পক্ষে ভোটারদের উৎসাহিত করেন, তাহলে নৌকার ভোটগুলোও বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে যাবে। এরপর তারা যদি শেষ পর্যন্ত কাউন্সিলর নির্বাচিত হয় তাহলে আওয়ামী লীগ তাদেরকে সব ধরণের সহযোগিতা করবে।

একই কৌশল দেখা যাচ্ছে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনেও। দক্ষিণে ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৭২টি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। এদের বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থীও রয়েছে। এই সমস্ত বিদ্রোহী প্রার্থীদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন ইশরাক হোসেনের এজেন্টরা। তারা বিদ্রোহী প্রার্থীদের বোঝাচ্ছে তারা বিএনপির সমর্থন পেলে এবং বিএনপির ভোটগুলো তাদের জন্য অনেকটা সহজ হবে।

এরকম যুক্তি দেখিয়ে তারা বিদ্রোহী প্রার্থীদের সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে ভালো ফলাফল করার চেষ্টা করছে। একই কৌশল অবলম্বন করছে শেখ ফজলে নূর তাপসের নির্বাচনী প্রচারণা টিম।

তবে আওয়ামী লীগের মাঝে বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে বেশি মাথাব্যথার কারণ বিএনপির থেকে। কারণ আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা সবাই ক্ষমতাবান। তারা প্রকাশ্যে প্রচারণা করছেন। এই বিদ্রোহী প্রার্থীদেরকে হয় স্থানীয় এমপি নাহলে স্থানীয় প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতারা মদদ দিচ্ছেন। তাদের মদদের কারণে তারা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াতে পেরেছেন। প্রশাসনের সাথেও তাদের নানারকম সখ্যতা রয়েছে বলে জানা গেছে।

এই বিদ্রোহী প্রার্থীরা যদি শেষ পর্যন্ত নিজেদের বিজয়ের জন্য বিএনপির ভোট ব্যাংকের ভোট পেতে বিএনপির সাথে আঁতাত করে, তাহলে সেটা আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর জন্য একটা বড় ধরণের সমস্যার কারণ হতে পারে। কারণ বিএনপি থেকে যে বিদ্রোহী প্রার্থীরা দাঁড়িয়েছেন, তাদের নিজস্ব কোন ভোটব্যাংক নেই এবং বিএনপির ভোটাররা আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে ভোট দেবেনা। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের যে বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে, তাদের একটা নিজস্ব বলয় এবং গ্রুপ রয়েছে। তাদের নির্দেশিত পথেই ভোট দেবে।

তবে নির্বাচনী প্রচারণার সঙ্গে যুক্ত আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেছেন, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিজস্ব ভোটব্যাংক এবং গ্রুপ রয়েছে তারা যদি মনস্থির করে যে তারা তাদের কাউন্সিলরকে জেতাবে এবং সেই কাউন্সিলরকে জয়ী করার বিনিময়ে তারা আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে সমর্থন দিবে- এমনটা তারা করতে পারে।

তবে শেষ বিচারে এই গোপন আঁতাতে কে বিজয়ী হয় সেটা দেখার বিষয়। কারণ সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীর একক শক্তির তুলনায় ওয়ার্ড কাউন্সিলদের শক্তি এবং প্রচারণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর এই বিদ্রোহী প্রার্থী দুই দলের জন্যই বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শেয়ার করুন !
  • 29
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!