চীনে আটকা পড়া বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

0

সময় এখন ডেস্ক:

চীনের উহান প্রদেশে আটকে থাকা শিক্ষার্থীসহ সেখানে অবস্থানকারী বাংলাদেশের অন্য নাগরিকদের মধ্যে যারা দেশে ফিরতে ইচ্ছুক, তাদেরকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আর এক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর নতুন কেনা সি-১৩০ কার্গো বিমানে করে তাদেরকে দেশে আনা হতে পারে। এমনটাই জানিয়েছে বাংলাদেশ সামরিক বাহিনী সংশ্লিষ্ট একটি মাধ্যম- ডিফেন্স রিসার্চ ফোরাম।

দেশে আসতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের তালিকা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় মেডিকেল টেস্টের ব্যবস্থা করা সাপেক্ষে তাদেরকে দেশে আনা হবে। এক্ষেত্রে তাদেরকে কিছুদিন দেশে মেডিকেল অবজার্ভেশনে রাখার দরকার হবে।

একই সাথে চীনের বিভিন্ন প্রদেশের স্থানীয় প্রাদেশিক সরকার এবং চীনা সরকারের সাথে আলোচনার প্রেক্ষিতে বাকি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। চীনের বাংলাদেশ দূতাবাসকে বলা হয়েছে আটকে পড়া বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য খাবার, অর্থসহ মানবিক সরঞ্জাম সরবরাহের ব্যবস্থা করা।

প্রসঙ্গত, চীনের করোনা ভাইরাস আক্রা’ন্ত শহর উহানে প্রায় ৫শ’ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আটকা পড়েছেন। তারা নিজেদের নিরাপদ ভাবতে পারছেন না। দেশে ফেরারও সুযোগ নেই। ওই শহর থেকে বহির্গামী সব বাস-ট্রেন ও বিমান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ছাত্ররা দেশে ফেরার আকুতি জানিয়ে পোস্ট দিচ্ছেন।

রাকিবিল তুর্য নামের এক ছাত্র সর্বশেষ পরিস্থিতি জানিয়েছেন এক পোস্টে। বাংলায় লেখা পোস্টে বলেছেন- সম্প্রতি চায়নাতে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসে আক্রা’ন্ত শহর উহানে আমরা বাস করছি। এখানে প্রায় ৫০০ জনেরও অধিক বাংলাদেশি ছাত্র উহানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রামে অধ্যয়নরত। উহান থেকে বহির্গামী সব বাস-ট্রেন এবং বিমান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। করোনা ভাইরাসে আক্রা’ন্ত হয়ে এ পর্যন্ত অন্তত ২৫ জন মা’রা গেছে এবং ৬০০-এরও বেশি মানুষ এতে আক্রা’ন্ত হয়েছে। আমরা চাইলেও এখন নিজ দেশে ফিরে যেতে পারছি না। বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে আমাদের খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে এমন নিউজ বালাদেশের মিডিয়াতে প্রচার করা হলেও এ খবর ভিত্তি’হীন। আমাদের এখন পর্যন্ত কোন প্রকার খোঁজ-খবর নেয়া হয়নি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর পাঠানো এক বার্তায় ড. রেজা সুলতানুজ্জামান একই অভিযোগ করেছেন। বলেছেন, দূতাবাসের কেউ এখন পর্যন্ত যোগাযোগ করেনি। ড. রেজা এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশি ছাত্ররা বলছেন, খাদ্যের মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। উহান শহরের বেশির ভাগ সুপারস্টোর এখনো বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় উ’দ্বেগের মধ্যে রয়েছেন তারা। ১ কোটি ১০ লাখ মানুষের এই শহর কার্যত অ’চল হয়ে আছে। সব যাত্রীবাহী ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে বিমানবন্দরে। শহরের সব প্রধান সড়কের চেকপয়েন্ট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। উহান শহরের কাছে আরো কমপক্ষে ১০টি শহরে একই রকম অ’চলাবস্থা আরোপ করেছে কর্তৃপক্ষ।

হুবেই ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে অধ্যয়ন করেন আসিফ আহমেদ সৌরভ। তিনিও একই অবস্থার শি’কার। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমেটরিতে অবরু’দ্ধ হয়ে পড়া অন্য এক ছাত্র সাহায্য চেয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। তার মতে, শুধু তার বিশ্ববিদ্যালয়েই আছেন কমপক্ষে ১৪০ জন বাংলাদেশী শিক্ষার্থী। কিন্তু তাদের খোঁজখবর বাংলাদেশি মিশন অথবা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোন কর্মকর্তা নেননি।

বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে কেউ আক্রা’ন্ত হননি। কেউ যাতে আক্রা’ন্ত না হন তা নিশ্চিত করতে অধিক নজরদারি করা হচ্ছে। ছাত্রদের চলাচল সীমিত করা হয়েছে। একটি রেজিস্ট্রার বইয়ে নাম স্বাক্ষর করতে হয়। এর মাধ্যমে জানাতে হয় কোথায় যাচ্ছি। এরপরই যেতে দেয়া হয়। অন্যদিকে সব দোকানপাট বন্ধ। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে পারছি না।

এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, করোনা ভাইরাসে এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আক্রা’ন্ত হননি।

যে কোনো সমস্যা মোকাবেলায় বেইজিং মিশন ২৪ ঘণ্টাব্যাপী হটলাইন সেবা চালু করেছে। উহানের বাংলাদেশি যে কোনো ভিক্টিমকে +৮৬১৭৮০১১১৬০০৫ এই নম্বরে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়।

এক বার্তায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জানান, দূতাবাসে হটলাইন খোলার পাশাপাশি উইচ্যাট গ্রুপ খোলা হয়েছে। দূতাবাসের কর্মকর্তা খায়রুল বাসার এবং আসিফ বাংলাদেশিদের করা ২৪৫ সদস্যের উইচ্যাট গ্রুপে অন্তর্ভূক্ত হয়েছেন।

শেয়ার করুন !
  • 1.7K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply