আজাহারীর হাতে ধর্মা’ন্তরিত ১২ ভারতীয় পাসপোর্টধারী নাগরিককে ফেরত পাঠাবে পুলিশ

0

সময় এখন ডেস্ক:

মিজানুর রহমান আজহারীর লক্ষ্মীপুরের একটি ওয়াজ মাহফিলে সম্প্রতি ১২ জন নারী-পুরুষের ইসলাম গ্রহণের ঘটনাটি নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে জটিলতা। এর প্রেক্ষিতে পুলিশ খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারে এই পরিবারের সদস্যরা ভারতীয় নাগরিক। গতকাল শনিবার রাতে তাদেরকে আটক করা পর বিজ্ঞাসা’বাদে তাদের কাছে ভারতীয় পাসপোর্ট থাকার কথা স্বীকার করেছে।

রোববার লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশের এসপি এ এইচ এম কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, আটকদের কাছে বৈধ ভারতীয় পাসপোর্ট পাওয়া যাওয়ায় তাদেরকে আটক করা হয়েছে, এবং যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদেরকে সে দেশে ফেরত পাঠানো হবে।

জানা গেছে, গত সপ্তাহে লক্ষ্মীপুরে আজহারীর মাহফিলে মনির হোসেনকে ‘শঙ্কর অধিকারী’ সাজিয়ে তাকে ও তার পরিবারের ১১ সদস্যকে কালেমা পড়ানো হয়। পরে ফাঁস হয়, শঙ্কর অধিকারী নামের ওই ব্যক্তি রামগঞ্জ উপজেলার ডাক্তার বাড়ির মজিবুল হকের ছেলে মনির হোসেন।

মনির হোসেনের মা ফাতেমা মেম্বার জানান, ২০ বছর আগে তার ছেলে মনির ঢাকার টঙ্গী এলাকায় তার খালার (ফাতেমার বোন হালিমা) কাছে থাকতো। ওইসময় সে ঝালমুড়ি বিক্রি করতো। বিশ্ব ইজতেমায় একদিন মুড়ি বিক্রির সময় মনির হারিয়ে যায়। এরপরে আর তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

বহু বছর পর পরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে ফাতেমার পরিবার জানতে পারে মনির হোসেন কলকাতায় থাকে। পরিবারের সদস্যদের সন্ধান পেয়ে কয়েক বছর আগে বাংলাদেশে আসেন মনির এবং জানান তিনি ভারতে ২টি বিয়ে করেছেন, তার বেশ কিছু সন্তানও আছে।

এ বিষয়ে ফাতেমা মেম্বারের ছেলে ও মনিরের ছোট ভাই জহির উদ্দিন জানান, মনিরের সন্ধান পাওয়া যায় ২০১৬ সালে। তখন তিনি একা বাংলাদেশে এসেছিলেন এবং চেষ্টা করছিলেন কলকাতায় থাকা তার সন্তানসহ পরিবারকে নিয়ে একেবারে বাংলাদেশে চলে আসতে।

২০১৬ সালে বড় ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ হওয়ার বিষয়ে জহির বলেন, আমরা তখন জানতে পারি সে ওখানে কাজকর্মের সুবিধার্থে হিন্দু নাম ধারন করেছে। ইজতেমার সময় অন্যদের সাথে ভিড়ে সে ভারতে ঢুকে পড়েছিল। সীমান্তে কড়াকড়ি থাকায় সে বাংলাদেশেও ফিরতে পারেনি। ভারতীয়রা বাংলাদেশি জানতে পারলে কাজকর্মও পাবে না, তাই হিন্দু সেজেই সেখানে থেকে যায়।

জহির আরো জানান, প্রথমে কলকাতায় একটি আশ্রমে অবস্থান নেয় মনির। তার কাছে পাসপোর্ট না থাকায় দেশে আসতে পারেনি। কলকাতায় থাকতে গিয়ে লোকজনের কাছে হিন্দু পরিচয় দেয়। সেখানে এক হিন্দু মেয়েকে বিয়ে করে। তার ঘরে সন্তানও হয়। পরে শ্যালিকাকেও সে বিয়ে করে। দুই স্ত্রীর ঘরে তার ছেলে মেয়ে আছে মোট ৮ জন।

২০১৬ সালে মনির বাড়িতে আসার পর আমরা যখন জানলাম সে হিন্দু নাম নিয়েছে। হিন্দু রীতিতে চলে, হিন্দুর রান্না খায়, তখন ২ দিনের বেশি আমাদের বাড়িতে তাকে থাকতে দেইনি। ও চলে গেছিল আবার কলকাতায়, জানালেন মনিরের ছোট ভাই জহির।

রোববার জহির উদ্দিন বলেন, ভারতে আসাম ও অন্য জায়গায় নাগরিকত্ব নিয়ে ঝামেলা শুরু হলে মনির ৬/৭ মাস আগে সিদ্ধান্ত নিয়ে পরিবারের সবাইকে নিয়ে বাংলাদেশে চলে আসে। আত্মীয়দেরকে জানায় তার স্ত্রী-সন্তানদের মুসলমান বানাবে। এতে আমরা খুশি হই এবং তাদেরকে মেনে নিই।

এরপরই গত সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে স্থানীয় একটি ওয়াজ মাহফিলে (যেখানে মিজানুর রহমান আজহারী অতিথি ছিলেন) ইসলাম গ্রহণ করেন।

এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর জেলার এসপি এ এইচ এম কামরুজ্জামান জানান, মনির হোসেন নামে যিনি ধর্মান্ত’রিত হয়েছেন তার কাছে আমরা ভারতীয় বৈধ পাসপোর্ট পেয়েছি, যাতে তার নাম শঙ্কর অধিকারী। তার সাথে অন্য যারা আছেন তাদের সবার বৈধ ভারতীয় পাসপোর্ট আছে। তারা গত বছরের ১৪ আগস্ট ২ মাসের ভিসা নিয়ে বেনাপোল দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিলেন। ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরও তারা বাংলাদেশে অবস্থান করছিলেন।

এসপি আরও জানান, বর্তমানে তাদেরকে অ’বৈধ অভিবাসী হিসেবে গ্রেপ্তার করে থানায় রাখা হয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদেরকে ভারতে ফেরত পাঠানো হবে।

এসপি কামরুজ্জামান বলেন, আমরা শঙ্কর অধিকারীর কাছে বৈধ ভারতীয় পাসপোর্ট পেয়েছি। ফলে তিনি ভারতীয় নাগরিক। ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নামে গত ডিসেম্বর মাসে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে জন্ম নিবন্ধন সনদ করা হয়েছে।

শেয়ার করুন !
  • 171
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!