চট্টগ্রামে মাঠখেকো ১১ কোটি টাকার সুইমিংপুল এখন গলার কাঁটা, অনিয়ম-দুর্নীতি সর্বত্র

0

সময় এখন ডেস্ক:

গেল বছরের সেপ্টেম্বরে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের হাত ধরে চট্টগ্রাম নগরের কাজির দেউড়িতে যাত্রা শুরু করে চট্টগ্রাম সুইমিং কমপ্লেক্স।

জনমতকে উ’পেক্ষা করে খেলার মাঠ গিলে গড়ে ওঠা এই সুইমিং কমপ্লেক্স নিয়ে শুরুতে আশা-প্রত্যাশার ফুলঝুরি ছড়ানো হলেও শুরুতেই অনেকটা মুখ থু’বড়ে পড়েছে সুইমিং কমপ্লেক্সটি। এর মধ্যেই বেরিয়ে এসেছে সুইমিংপুল নির্মাণে সীমাহীন অ’নিয়ম ও দুর্নীতির করুণ চিত্র।

উদ্বোধনের মাত্র ৫ মাস না যেতেই বেরিয়ে এসেছে প্রায় সাড়ে ১১ কোটি ব্যয়ে নির্মিত সুইমিংপুলটির যত ক্ষ’ত। একটু ঘুরে দেখলেই চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে, কী সীমাহীন অপ’চয় ও অ’নিয়ম হয়েছে সুইমিংপুলের নির্মাণ কাজে। কী অবলীলায় ব্যবহৃত হয়েছে নিম্নমানের সামগ্রী।

চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা পরিচালিত এই সুইমিং কমপ্লেক্সটির অ-ব্যবস্থাপনার ফলে শুরুতেই ছন্দপ’তন ঘটছে। এতে হ’তাশা ব্যক্ত করে সাঁতার সংশ্লিষ্টরা জানান, এসব সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে মুখ থু’বড়ে পড়তে পারে কথিত এই ‘স্বপ্নের সুইমিংপুল’।

রোববার (২৬ জানুয়ারি) সরেজমিনে দেখা যায়, মাত্র ৫ মাস ব্যবহারেই ‘আন্তর্জাতিক মানের’ সুইমিংপুলটির দুই পাশের দর্শক গ্যালারির ফ্লোর থেকে উঠে যাচ্ছে সিমেন্টের আস্তরণ। অল্প বৃষ্টিতেই দর্শক গ্যালারি এবং সিঁড়ির ছাদ থেকে ঝরে পানি। সুইমিংপুলের চারপাশে লাগানো গ্লাস থেকে খুলে পড়ছে পুটিং ও রাবার। এছাড়াও উদ্বোধনের ৫ মাস না যেতেই ভেঙে পড়েছে ভবনের এলইডি লাইটের প্রটেক্টর গ্লাস।

সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে সুইমিংপুলের সব এলইডি লাইট। অন্যদিকে সুইমিংপুলের ফ্লোর টাইলসে পুটিংয়ের বদলে সিমেন্ট গুঁজে দিয়ে ফিনিশিংয়ের কাজ করায় পুলে দ্রুত জমছে ময়লা। সব মিলিয়ে নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণে পথচলার শুরুতেই বে’হাল দশায় পড়েছে সুইমিংপুলটি।

অ-পরিকল্পিত নির্মাণে সুইমিংপুলে ময়লা জমার অভিযোগ করেছেন সুইমিংপুলে আসা প্রশিক্ষণার্থী ও অভিভাবকরা।

তবে সাঁতার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কম্পিটিশন পুলের আদলে তৈরি করা হয়েছে পুলটি। কিন্তু এই পুলেই চলছে প্রশিক্ষণসহ সাঁতার শেখানোর কাজ। ফলে শিক্ষানবিশ সাঁতারুদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে প্রশিক্ষণ চলাকালীন পুলটিতে দেওয়া হয় ৩ ফুট পরিমাণ পানি। কিন্তু এই পুলের ড্রেনেজ পয়েন্ট দেওয়া আছে ৭ ফুটে। তাই প্রশিক্ষণ চলাকালীন পরিস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না পুলটি। অথচ এ সমস্যা সমাধানে প্রয়োজন ছিল ভিন্ন ভিন্ন লার্নিং পুল ও কম্পিটিশন পুল।

প্রশিক্ষকদের অভিযোগ, অ-ব্যবস্থাপনায় সিজেকেএস সুইমিংপুলটি নির্মাণের পর ৪ জন কোচ, ৩ জন নিরাপত্তা প্রহরী, ২ জন ক্লিনার, ৩ জন অপারেটর সহ মোট ১৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছিল চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা (সিজেকেএস)। কিন্তু ১৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সমন্বয় সাধনের জন্য পুলটিতে নেই নিজস্ব কোনও সুপারভাইজার। ফলে পুলটিতে সমন্বয়হীনতার পাশাপাশি ঘটছে নানা অ’প্রীতিকর ঘটনা। অন্যদিকে প্রশিক্ষকদের বিরু’দ্ধে রয়েছে দুর্নীতি ও অর্থ আত্ম’সাতের অভিযোগও।

তবে প্রশিক্ষকরা বলছেন, এসব অভিযোগ ভিত্তি’হীন। কেননা সিজেকেএসের নির্দিষ্ট পরিচয়পত্র ছাড়া সাঁতার কাটার সুযোগ নেই। বরং এই নিয়মের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করতে গিয়েই কঠোর হতে হয় প্রশিক্ষকদের।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে সিজেকেএসের সহ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা আমীর হোসাইন জানান, পুলটি নির্মাণের অল্পদিনেই বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেওয়ার বিষয়টি সত্য। এসব বিষয় আমরা মেয়র মহোদয়কে জানিয়েছি।

সুইমিংপুলটির সার্বক্ষণিক সুপারভাইজারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, খুব শীঘ্রই সুইমিংপুলের জন্য একজন সুপারভাইজার নিয়োগের পরিককল্পনা আছে। নিয়োগ হয়ে গেলে পুলটিতে সার্বক্ষণিক সময় দেওয়া যাবে। এতে বিভিন্ন জটিলতার অবসান হবে।

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

শেয়ার করুন !
  • 341
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply