এবার আমিরাতেও ছড়িয়ে পড়ল করোনা ভাইরাস!

0

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

চীনের প্রাণঘা’তী করোনা ভাইরাস একের পর এক ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। এবার সংযুক্ত আরব আমিরাতেও একটি পরিবারের সদস্যদের শরীরে শনাক্ত হলো এই ভাইরাস। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন থেকে আরব আমিরাতে যাওয়া একটি পরিবারের সদস্যরা করোনা ভাইরাসে সংক্র’মিত হয়েছে।

তবে ঠিক কতজন এই ভাইরাসে আক্রা’ন্ত, তা এখনো জানা যায়নি। এ বিষয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে জানতে চাইলেও আমিরাতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং দেশটির কমিউনিকেশন অফিস আর কোনো মন্তব্য করেনি।

দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বার্তা সংস্থা ডব্লিউএএমকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, করোনা ভাইরাস আক্রা’ন্তরা এখন স্থিতিশীল অবস্থায় আছেন এবং তারা চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

তবে তারা কোন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন-তা বলা হয়নি ওই বিবৃতিতে।

প্রসঙ্গত, চীনে করোনা ভাইরাসে আক্রা’ন্ত হয়ে মৃ’তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। আজ বুধবার পর্যন্ত মর’ণঘাতী এ ভাইরাসে ১৩২ জনের প্রাণ গেছে। এ ছাড়া বুধবার পর্যন্ত ৫ হাজার ৯৭৪ জন এই ভাইরাসে আক্রা’ন্ত হয়েছে বলেও জানা গেছে।

পদ্মাসেতু প্রকল্পে কর্মরত চীনা কর্মীদের দেশে যাতায়াতে বাধা

করোনা ভাইরাসের কারণে পদ্মাসেতু প্রকল্পে কর্মরত চীনা কর্মীদের মধ্যে যারা ছুটি কাটাতে দেশে গেছেন, আপাতত তাদের বাংলাদেশে যাতায়াতে নিষে’ধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যারা প্রকল্প এলাকায় রয়েছেন তাদের কেউ যেন চীনে যেতে না পারেন সে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) পদ্মাসেতু প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প ব্যবস্থাপক দেওয়ান আবদুল কাদের এ খবর নিশ্চিত করেছেন।

দেওয়ান আবদুল কাদের বলেন, করোনা ভাইরাস নিয়ে আত’ঙ্কিত নই। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে চীনা কর্মীদের দেশে যাওয়া আসায় নিষে’ধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। আমরা খুব সতর্ক অবস্থায় আছি, যেন কোনো ঝামেলা না হয়।

পদ্মাসেতু প্রকল্পে অনেক চীনা প্রকৌশলী ও কর্মী রয়েছেন। তবে দেশি-বিদেশি কোনো কর্মী এখনও করোনা ভাইরাসে আক্রা’ন্ত হননি বলে নিশ্চিত করেছেন প্রকল্পের সিনিয়র অক্যুপেশনাল অ্যান্ড হেলথ স্পেশালিস্ট মাহমুদ হোসেন ফারুক।

তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসে পদ্মাসেতু প্রকল্পের কোনো কর্মী এখনও আক্রা’ন্ত হননি। তবে এই ভাইরাসের যেহেতু কোনো ভ্যাক্সিন নেই, তাই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা যেগুলো নিতে হয় সেগুলো নেওয়া হচ্ছে। যেমন− স্টাফদের নিয়ে পর্যায়ক্রমে সচেতনতামূলক প্রোগ্রাম করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও হাইজিন ব্যবস্থা ও মাস্ক পরিধান করা, সময়ে সময়ে আইইডিসিআর (ইনস্টিটিউট অব এপিডেমিওলজি ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ) এর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা। তারাও (আইইডিসিআর) বিষয়গুলো মনিটর করছে।

এ সময় তিনি আরও বলেন, চীনা কর্মকর্তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা আলাদা। যারা তাদের সার্ভ করেন তারা যেন সব সময় সেফটি ড্রেস (মাস্ক ও গ্লাভস) পরে থাকেন, সেগুলোতে জোর দেওয়া হচ্ছে।

চীনা কর্মীদের জন্য আলাদা ক্যাম্প রয়েছে। তারা যেন অন্যদের সঙ্গে অতিরিক্ত মেলামেশা না করেন, সে বিষয়গুলো দেখা হচ্ছে বলে জানান মাহমুদ হোসেন ফারুক।

শেয়ার করুন !
  • 104
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply