উন্নয়নের ধারাবাহিকতার প্রত্যাশায় ঢাকার দুই প্রান্তে নৌকার জয়

0

সময় এখন ডেস্ক:

গত কয়েকটি নির্বাচনে ভোটারদের অ’নাগ্রহের প্রেক্ষাপটে এবার ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের বড় বিজ্ঞাপন ছিল ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)। অনেক বিত’র্কের মধ্যেও ইভিএমের প্রতি আগ্রহী হয়ে ভোটাররা কেন্দ্রে আসবে বলে আশায় ছিল ইসি; কিন্তু সেই আশার গুড়েও পড়েছে বালি।

ভোটার নিয়ে দিনভর হা-পিত্যেশের মধ্যে রাজধানীজুড়ে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের দুই মেয়র প্রার্থীই বড় ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন।

ঢাকা দক্ষিণে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস জয়ী হয়েছেন পৌনে ২ লাখ ভোটের ব্যবধানে; তিনি পেয়েছেন ৪ লাখ ২৪ হাজার ৫৯৫ ভোট, তার প্রতিদ্ব’ন্দ্বী বিএনপির ইশরাক হোসেন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ২ লাখ ৩৬ হাজার ৫১২ ভোট।

ঢাকা উত্তরেও পৌনে ২ লাখ ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম; নৌকায় তার ৪ লাখ ৪৭ হাজার ২১১ ভোটের বিপরীতে বিএনপির তাবিথ আউয়াল ধানের শীষে পেয়েছেন ২ লাখ ৬৪ হাজার ১৬১ ভোট।

দক্ষিণে মোট ২৪ লাখ ৫৩ হাজার ভোটারের মধ্যে মাত্র ২৯ শতাংশ ভোট দিয়েছেন। উত্তরে ভোটের হার আরও কম ২৫.৩ শতাংশ।

উত্তর ও দক্ষিণ মিলিয়ে ২৪শ‘র বেশি কেন্দ্রের বাইরে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ক্ষমতাসীন দল সমর্থিত প্রার্থীদের সরব উপস্থিতির মধ্যে কেন্দ্রের ভেতরে ভোটারের জন্য হাহা’কার।

২০১৪ সালে অধিকাংশ দলের বর্জনের মধ্যে ১০ম সংসদ নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পর থেকে বিভিন্ন নির্বাচনে ভোটের হার কমতে থাকে, যাকে গণতন্ত্রের জন্য ‘অশনি সঙ্কেত’ মনে করছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের মতো অনেকে।

৫ বছর আগে ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকার দুই সিটি ও চট্টগ্রাম সিটিতে একদিনেই ভোট হয়েছিল। তাতে ব্যালট পেপারে গড়ে ভোট পড়েছিল ৪৩%।

সেবার ঢাকা উত্তর সিটিতে ভোটার উপস্থিতির হার ছিল ৩৭ শতাংশ; দক্ষিণ সিটিতে ৪৮ শতাংশ। আর ২০১৯ সালে ঢাকা উত্তরের মেয়র পদের উপ নির্বাচনে ৩১ শতাংশ ভোট পড়ে।

কে এম নূরুল হুদা কমিশন যোগ দেওয়ার ২ বছরের মাথায় একাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটের হার ছিল ৪০ শতাংশ, তা নিয়েও রয়েছে অনেক অভিযোগ।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম-৮ আসনে উপ-নির্বাচনে মাত্র ২২ শতাংশ ভোট গ্রহণ ইসির মাথায় চিন্তার ভাঁজ ফেললেও তাদের জন্য উৎসাহের উপলক্ষ ছিল তার আগে বিভিন্ন পৌরসভায় ইভিএমে ৮০ শতাংশের উপরে ভোটের হার।

ক্ষমতাসীন দলের আবার ভোটার কম উপস্থিতির জন্য নানা কারণ দেখিয়েছেন। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও প্রবীণ রাজনীতিক আমির হোসেন আমু দায়ী করেছেন শহরে যান চলাচল বন্ধ করাকে; যদিও বরাবরই তা করা হয়ে থাকে।

উত্তরে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম আবার সাপ্তাহিক ছুটিকে কারণ দেখিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ছুটির কারণে অনেকে ঢাকার বাইরে চলে গেছেন বলে ভোট দিতে পারেননি।

অন্যদিকে বিএনপি বলছে, তাদের ভোটারদের কেন্দ্রে যেতেই দেওয়া হয়নি, বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া হয়েছে, দেখানো হয়েছে ভ’য়-ভী’তি। সিপিবিও বলেছে, ক্ষমতাসীনরা ভী’তির সঞ্চার করেছে বলে অধিকাংশ সাধারণ মানুষ ভোট দিতে পারেননি।

তবে ভোট পর্যবেক্ষণ সংস্থা জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক পরিষদের (জানিপপ) চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর মতে, এবার ইভিএমে জাল ভোটের সুযোগ না থাকা ভোটের হারে প্রভাব ফেলেছে।

তিনি বলেন, যারা ভোট দেওয়ার তারা দিয়েছে। জালিয়াতি বা কারচুপির সুযোগ এখানে ছিল না। জাল ভোট না থাকায় উপস্থিতি কমে গেছে।

ইভিএমে ভোটার উপস্থিতি কম হওয়া নিয়ে ‘বিচলিত’ হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে মনে করেন জানিপপ চেয়ারম্যান।

আর শেষ বিচারে ইসিও তা নিয়ে বিচলিত নয়। নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বলছেন, ভোটের হার বিষয় নয়। এক্ষেত্রে ভোটের প্রক্রিয়া যদি প্রশ্নবি’দ্ধ না হয় এবং আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যদি নিয়ন্ত্রণে থাকে তবেই তা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন।

শেয়ার করুন !
  • 65
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply