চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনারে সুতার বদলে মিলল বালির বস্তা!

0

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

চীন থেকে সুতা আমদানির ঘোষণা দিয়ে বস্তাভর্তি বালু আনলো নারায়ণগঞ্জের আমদানিকারক সোয়ারা ফ্যাশন। দুটি চালানেই কন্টেইনার খুলে বালি ধরা পড়লো চট্টগ্রাম কাস্টমস গোয়েন্দা দলের হাতে। প্রথম চালানটি শুক্রবার ধরা পড়ার পর আজ সোমবার ২য় চালানটি আটক করে চট্টগ্রাম বন্দরের জি’ম্মায় রাখা হয়েছে।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষের ধারণা, সুতা আমদানির আড়ালে বালু এনে অর্থ পা’চার করা হয়েছে। তদন্ত শেষে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই সংশ্লিষ্টদের বিরু’দ্ধে অর্থ পা’চার আইনে মামলা করা হবে।

আটকের বিষয় নিশ্চিত করে কাস্টমস গোয়েন্দা দল প্রধান ও সহকারী কমিশনার নুর এ হাসনা সানজিদা অনুসুয়া বলেন, প্রথম চালানটি শুক্রবার আটক করে কন্টেইনার খোলার পর বালু ধরা পড়ে। পরে খবর পাই একই আমদানিকারকের আরেকটি চালান রয়েছে; সেটিও পরীক্ষা করে একই ধরনের বালু পাওয়া যায়। দুটি চালান আটক করেছি।

কাস্টমস গোয়েন্দা দল প্রধান ও সহকারী কমিশনার আরও বলেন, এতে অর্থ পাচা’র হয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য ব্যাংক থেকে এলসির (লেটার অব ক্রেডিট বা ঋ’ণপত্র) টাকা পরিশো’ধ করা হয়েছে কি না সেটি তদন্ত করছি। একইসাথে বালুর কয়েকটা নমুনা নিয়ে রাসায়নিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে যাতে আমরা নিশ্চিত হই এই বালু সাধারণ নাকি কোনো খনিজ বালু। অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করার জন্য ডিক্লারেশন ছাড়া আনা হয়েছে কি না সেটাও বেরিয়ে আসবে। এসব নিশ্চিত হয়েই আমদানিকারকের বিরু’দ্ধে অর্থ পা’চার আইনে মামলা করা হবে।

কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, দুটি চালানের মোট ঘোষিত মূল্য ৪৯ হাজার ৬৯২ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৪৩ লাখ টাকা। এর ওপর পলিয়েস্টার ইয়ার্ন আমদানিতে শুল্কহার ৫৯ শতাংশ; সবমিলিয়ে প্রায় ৭০ লাখ টাকার মতো হবে চালানের মূল্য।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা উপজেলার বিসিক শিল্প এলাকায় অবস্থিত মেসার্স সোয়ারা ফ্যাশনের কারখানা। চীন থেকে ২ কন্টেইনার পলিয়েস্টার ইয়ার্ন বা সুতা আমদানির জন্য ঢাকার এক্সিম ব্যাংক লিমিটেড থেকে ঋ’ণপত্র খুলে। প্রথম ঋ’ণপত্রে ২৫ হাজার ৫০৫ মার্কিন ডলার ঋ’ণপত্রের মাধ্যমে চীন থেকে ২৩ হাজার ৪০ কেজি সুতা আমদানির ঘোষণা দেয়।

এরপর ২য় ঋ’ণপত্রে ২৪ হাজার ১৯২ মার্কিন ডলারে ২৩ টন পলিয়েস্টার ইয়ার্ন আমদানির ঘোষণা দেয়। দুটি চালানের বিল অব এন্ট্রি জমা পড়ে গত ২২ জানুয়ারি। দুটি চালানের রপ্তানিকারকও একই চীনের জিনতাই ইয়ামিঝি টেক্সটাইলস কোম্পানি। চালানটি জাহাজে করে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছার পর আমদানিকারকের নিয়োজিত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট চট্টগ্রামের ফকিরহাটে অবস্থিত তানসা ওভারসিজ গত ২২ জানুয়ারি চালানের বিল অব এন্ট্রি চট্টগ্রাম কাস্টমসে জমা দেন।

আগে থেকে এই বিষয়ে তথ্য থাকায় চালানটি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ছাড়ের আগে কাস্টমসের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমে লক বা বন্ধ করে দেন কাস্টমস গোয়েন্দা দল এআইআর শাখা। পরে নিয়মানুযায়ি চালানটি কন্টেইনার খুলে কায়িক পরীক্ষার পর সব বস্তাভর্তি বালু পাওয়া যায়।

চট্টগ্রাম কাস্টমসে মিথ্যা ঘোষণায় কোন চালান ধরা পড়লে কিংবা এক পণ্য ঘোষণা দিয়ে অন্য পণ্য চলে আসলে এবং তা কাস্টমসের হাতে ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এবং আমদানিকারক একটাই কথা বলে, সেটি হচ্ছে ‘সরবরাহকারী ভুল করে পাঠিয়েছে, ফলে এতে আমাদের কোন দোষ নেই’। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

কন্টেইনার খুলে কায়িক পরীক্ষায় উপস্থিত সোয়ারা ফ্যাশনের প্রতিনিধি মোহাম্মদ নাছির বলেন, চীন থেকে রপ্তানিকারক কোম্পানি হয়ত ভুল করে এটি আমাদের কাছে পাঠিয়েছে। আমরা এখনো ব্যাংক থেকে টাকা ছাড় দিইনি। সুতরাং এখানে অর্থ পা’চার হয়নি।

আর কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, প্রথম চালান ধরা পড়ার পর ২য় চালানের বিষয়ে আমদানিকারক নিয়োজিত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট তানসা ওভারসিজই তথ্য দেয় কাস্টমসকে। মূলত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট দায় এড়ানোর জন্যই এই কাজটি করা হয়েছে।

শেয়ার করুন !
  • 193
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply