বিদেশ ভ্রমণে ‌এন্ডোর্স ছাড়াই সঙ্গে রাখা যাবে ১০ হাজার ডলার

0

অর্থনীতি ডেস্ক:

পাসপোর্টে এন্ডোর্সমেন্ট বা কোনো ঘোষণা ছাড়াই এখন থেকে বিদেশ যাত্রায় ১০ হাজার ডলার বহন করা যাবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলারে জানানো হয়, বৈদেশিক লেনদেন নীতিমালা সংশোধন করে ডলার বহনের অংক ৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার করা হয়েছে। এর ফলে, এখন থেকে যে কেউ বাংলাদেশে প্রবেশের সময় ১০ হাজার ডলার সঙ্গে নিতে পারবেন। আবার বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যাওয়ার সময়ও সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সঙ্গে নিতে পারবেন। আর এর জন্য কোনো ঘোষণা দিতে হবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, বাংলাদেশের যে কোনো নাগরিক ট্রাভেল কোটার আওতায় ১ বছরে ১২ হাজার ডলার পর্যন্ত খরচ করতে পারে। এ জন্য পাসপোর্টে প্রয়োজনীয় ঘোষণা দিতে হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে ১০ হাজার ডলার সঙ্গে নিয়ে যাওয়া যায়। আবার ১০ হাজার ডলার নিয়ে ওই দেশ থেকে বেরও হওয়া যায়। বাংলাদেশের সঙ্গে বহির্বিশ্বের সম্পর্ক দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশিরা সহজে যাতায়াত করছে। এ কারণেই এ সীমা বাড়ানো হয়েছে। তবে, এ সুবিধা মূলত যারা বিদেশ থেকে ডলার নিয়ে আসে তাদের জন্যই। যদিও এর অপ’ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

যে ২৫ ধরণের পণ্য শুল্কমুক্ত এবং শুল্কসহ যা আনতে পারবেন বিদেশ থেকে

বিদেশফেরত বা ঘুরতে গিয়ে দেশে ফেরার পথে যে কোনো যাত্রী ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার ও ২০০ গ্রাম রৌপ্যের অলংকার আনতে পারবেন। এই নির্দিষ্ট পরিমাণ অলংকার আনলে সরকারকে কোনো কর দিতে হবে না। তবে কোনো যাত্রী স্বর্ণবার আনতে চাইলেও সে সুযোগ রেখেছে রাজস্ব বোর্ড। একজন যাত্রী দেশে আসার সময় ২৩৪ গ্রাম স্বর্ণবার বা স্বর্ণপিণ্ড এবং রৌপ্যবার বা রৌপ্যপিণ্ড আনতে পারবেন। যার জন্য প্রতি ১১.৬৬ গ্রাম স্বর্ণে ৩ হাজার টাকা ও একই পরিমাণ রৌপ্যে ১১.৬৬ গ্রামে ৬ টাকা করে কর দিতে হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে জারি করা যাত্রী (অ’পর্যটক) ব্যাগেজ (আমদানি) বিধিমালায়-২০১৬ প্রজ্ঞাপনে এই সুযোগ রাখা হয়েছে। যাত্রীর পেশাগত কাজে ব্যবহার্য ও সহজে বহনযোগ্য যন্ত্রপাতি শুল্ক ছাড়াই আমদানি করতে পারবেন। আকাশ ও জলপথে আসা ১২ বছর বা তার চেয়ে বেশি বয়সের যাত্রীর সঙ্গে হাতব্যাগ, কেবিনব্যাগ ও অন্যবিধ উপায়ে আনীত ৬৫ কেজি ওজন পর্যন্ত ব্যাগেজ বহন করতে পারবে।

ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আকাশপথ, জলপথ বা স্থলপথে আগত একজন অসুস্থ, পঙ্গু অথবা বৃদ্ধ যাত্রীর ব্যবহার্য চিকিত্সা যন্ত্রপাতি ও হুইল চেয়ার শুল্ক ও কর পরিশোধ ব্যতীত খালাস করতে পারবেন। তবে সব যাত্রীকে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে তফলিস-১ বর্ণিত ফরম পূরণ করে ব্যাগেজ ঘোষণা দিতে হবে। বাণিজ্যিক ব্যাগেজ আমদানির ক্ষেত্রে পণ্যের বর্ণনা ও ব্যবহার সম্পর্কে লিখে ঘোষণা দিতে হবে।

বিনা শুল্কে আমদানি করা পণ্যের তালিকায় রয়েছে ২টি মোবাইল বা সেলুলার ফোনসেট। অর্থাৎ কেউ ২টি মোবাইল ফোন আনলে কোনো শুল্ক দিতে হবে না। ক্যাসেট প্লেয়ার/টু-ইন ওয়ান, ডিস্কম্যান/ ওয়াকম্যান (অডিও), বহনযোগ্য অডিও সিডি প্লেয়ার, একটি ইউপিএসসহ ডেস্কটপ/ ল্যাপটপ কম্পিউটার, কম্পিউটার স্ক্যানার, কম্পিউটার প্রিন্টার, ফ্যাক্স মেশিন, ভিডিও ক্যামেরা, স্টিল ক্যামেরা বা ডিজিটাল ক্যামেরা, সাধারণ/ পুশবাটন/ কর্ডলেস টেলিফোন সেট, সাধারণ বা ইলেকট্রিক ওভেন বা মাইক্রোওয়েভ ওভেন, বার্নারসহ রাইস কুকার, প্রেসার কুকার ও গ্যাস ওয়েন, টোস্টার, স্যান্ডউইচ মেকার, ব্লেন্ডার, ফুড প্রসেসর, জুসার ও কফিমেকার,

সাধারণ ও বৈদ্যুতিক টাইপরাইটার, বৈদ্যুতিক ও ম্যানুয়াল গৃহস্থালি সেলাই মেশিন, টেবিল, প্যাডেস্টাল ফ্যান ও গৃহস্থালি সিলিং ফ্যান, ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য স্পোর্টস সরঞ্জাম, ২০০ শলাকার ১ কার্টন সিগারেট, ২১ ইঞ্চি পর্যন্ত প্লাজমা, এলসিডি, টিএফটি ও এলইডি টিভি এবং ২৯ ইঞ্চি পর্যন্ত সিআরটি সাদা-কালো ও রঙিন টেলিভিশন, ভিসিআর ও ভিসিপি, সাধারণ সিপি ও দুটি স্পিকারসহ কম্পোন্যান্ট, ৪ স্পিকারসহ কম্পোন্যান্ট এবং ১৯ ইঞ্চি এলসিডি কম্পিউটার মনিটর আনতে পারবেন কর ছাড়াই।

২০১২ সালের প্রজ্ঞাপনে একজন ব্যক্তি ২০০ গ্রাম ওজনের স্বর্ণ বা রৌপ্য অলংকার আনতে পারতেন। কর প্রদান করে ২০০ গ্রাম পর্যন্ত স্বর্ণ ও রৌপ্য আনতে পারতেন। কিন্তু ২০১৬ সালের নতুন প্রজ্ঞাপনে এক ব্যক্তি ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার আনতে পারবেন। শুল্ক ছাড়া রৌপ্য আনতে পারবেন ২০০ গ্রাম পর্যন্ত। আর শুল্ক প্রদান সাপেক্ষে ২৩০ গ্রাম পর্যন্ত স্বর্ণ ও রৌপ্য আনতে পারবেন।

করযোগ্য পণ্যগুলোর তালিকায় রয়েছে— প্লাজমা, এলসিডি, টিএফটি ও এলইডি প্রযুক্তির ৩০-৩৬ ইঞ্চি পর্যন্ত কর দিতে হবে ১০ হাজার টাকা, ৩৭-৪২ ইঞ্চিতে কর ২০ হাজার টাকা, ৪৩-৪৬ ইঞ্চিতে ৩০ হাজার টাকা, ৪৭-৫২ ইঞ্চিতে ৫০ হাজার টাকা ও ৫৩ ইঞ্চির চেয়ে বেশিতে কর দিতে হবে ৭০ হাজার টাকা।

৪-এর বেশি সর্বোচ্চ ৮ স্পিকারসহ মিউজিক সেন্টার, স্পিকার নির্বিশেষ হোম থিয়েটারে কর ৮ হাজার টাকা। রেফ্রিজারেটর ও ডিপ ফ্রিজে কর ৫ হাজার টাকা, এয়ারকুলার ও এয়ারকন্ডিশনারের ক্ষেত্রে উইন্ডো টাইপে ৭ হাজার টাকা, স্প্লিট টাইপে (১৮০০০ বিটিইউ) ১৫ হাজার টাকা ও স্প্লিট টাইপে (১৮০০০ বিটিইউ বেশি) ২০ হাজার টাকা।

ডিশ অ্যান্টেনায় ৭ হাজার টাকা, স্বর্ণবার বা স্বর্ণপিণ্ড (সর্বোচ্চ ২৩৪ গ্রাম বা ২০ তোলায় প্রতি ১১.৬৬৪ গ্রামে ৩ হাজার টাকা, রৌপ্যবার বা রৌপ্যপিণ্ডে প্রতি ১১.৬৬৪ গ্রামে ৬ টাকা, এইডি ক্যাম, ডিভি ক্যাম, বিইটিএস ক্যাম ও প্রফেশনাল কাজে ব্যবহূত হয় এ রকম ক্যামেরায় ১৫ হাজার টাকা,

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে আনা এয়ারগান ও এয়ার রাইফেলে ৫ হাজার টাকা, ঝাড়বাতিতে কর ৩০০ টাকা, কার্পেট ১৫ বর্গমিটার পর্যন্ত ১৫০ টাকা (প্রতি বর্গমিটারে) ও ডিশ ওয়াশার, ওয়াশিং মেশিন ও ক্লথ ড্রাইয়ার ৩ হাজার টাকা কর দিতে হবে।

শেয়ার করুন !
  • 376
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!