ওয়াজ মাহফিল থেকে উপার্জিত অর্থ কেন করের আওতায় নয়?

0

মুক্তমঞ্চ ডেস্ক:

শুধুমাত্র সুনির্দিষ্ট আইন ও নজরদারির অভাবে সরকার ওয়াজ মাহফিল থেকে বছরে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব বা কর প্রাপ্তি থেকে ব’ঞ্চিত হচ্ছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের দেশে বিষয়টিকে স্পর্শকা’তর বলে মনে করায় সরকারও বিষয়টিতে তেমন একটা নজর দিচ্ছে না। অথচ এসব ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রেখে ‘হাদিয়া’, ‘উপঢৌকন’ বা ‘নজরানা’ হিসেবে বছরে কোটি কোটি টাকা আয় করছেন মুষ্টিমেয় কিছু আলেম। ওয়াজের সঙ্গে সম্পৃক্ত একদল আলেম বিষয়টিকে করের আওতায় আনার পক্ষে মত প্রকাশ করলেও অন্য পক্ষ আবার একে ‘লিল্লাহ ও সদকাহ’ হিসেবে দেখারও পরামর্শ দিচ্ছেন।

আলেমদের আয়কর দেওয়ার পক্ষে মত দিয়ে শোলাকিয়া ঈদগাহের খতিব মাওলানা ফরিদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, ইসলামের শরিয়তে সরাসরি সাংঘর্ষিক না হলে রাষ্ট্রের নিয়ম মানা উচিৎ। কারণ, যে দেশে কেউ বাস করবেন, সে দেশের নিয়ম মানা প্রতিটি নাগরিকের কর্তব্য। আলেমদের অনেকেই আয়করের বিষয়টি না জানায় এ বিষয়ে তাদের সচেতন করতে হবে। আলেমদের অবশ্যই কর দেওয়া উচিৎ। কর দিলেই তাদের ভূমিকা আরও পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন হবে।

একইরকম মত দিয়েছেন বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া সহ সভাপতি মাওলানা আশরাফ আলী। তিনি বলেন, আয়কর তো দিতে হবে। দেওয়া উচিৎ। আলেমরা যদি এমন রুজি করেন, যে নিয়ম মতে কর দিতে হবে, তাহলে কর দিতে সমস্যা কোথায়?

তবে ওয়াজ করে আয় রোজগার করেন এমন অনেক আলেম কর দেওয়ার বিষয়টা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। এ বিষয়ে কিতাব (বই) দেখে পরে মত দেবেন বলেও জানিয়েছেন অনেকে।

মুসলমান অধ্যুষিত বাংলাদেশের গ্রাম-গঞ্জে শত শত বছর ধরেই ধর্মভীরু মানুষদের ধর্মের বাণী শোনানোর জন্য ওয়াজ মাহফিলের প্রচলন রয়েছে। সিরাত, মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল, বিভিন্ন সামাজিক ও যুবসংগঠনের ব্যানারসহ নানা বিষয়ে এসব মাহফিলে বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকতেন আলেম-ওলামারা। অতীতে শুধুমাত্র ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে সাধারণত এ ধরনের ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন হতো দেশজুড়ে। সে সময় গ্রামের মানুষেরা ওয়াজ মাহফিলে আমন্ত্রিতদের আপ্যায়নের বিষয়টিকে প্রাধান্য দিলেও পরবর্তীতে ওয়াজকারী ব্যক্তিদের নজরানার বিষয়টিও এ ধরনের অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।

তবে ওয়াজকারী বা ওয়ায়েজরা এজন্য নিজেদের সম্মানী ধার্য করার রেওয়াজ চালু করেছেন অনেক পরে। মানবতাবিরো’ধী অপরাধে আমৃ’ত্যু কারাদ’ণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের নায়েবে আমির রাজাকার দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী কারাব’ন্দী হওয়ার আগে দেশজুড়ে ওয়াজ করতেন। সে সময় তার সম্মানী বা নজরানার বিষয়টি ব্যাপক আলোচিত ছিল।

ওয়াজ মাহফিল আয়োজক সংগঠন ও বিভিন্ন মাদ্রাসার আলেমদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওয়াজ করেন এমন আলেমদের মধ্যে অর্থ আয়ের বিভা’জন রয়েছে। এদের মধ্যে একদল আলেম ওয়াজকে পুরোপুরি পেশা হিসেবে নিয়েছেন। সারা বছর তারা দেশে-বিদেশে মাহফিল করেন। সুনির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে (হাদিয়া তাদের ভাষায়) তারা ওয়াজ করেন এবং আগাম সম্মানী গ্রহণ করে ওয়াজের তারিখ নির্ধারণ করেন। এদের সংখ্যা প্রচুর। দ্বিতীয় দলে আছেন যারা তাদের বিনিময় বা হাদিয়া সুনির্দিষ্ট নয়। এন্তেজামিয়া কমিটি দেখে তারা সন্মানী নির্ধারণ করেন। তৃতীয় দলটি হচ্ছে, যারা দাওয়াত পেলে মাহফিলে যোগ দেন এবং তাদের হাতে হাদিয়া বা বিনিময় যে পরিমাণ দেওয়া হয় তাই গ্রহণ করেন।

ওয়াজ করে কারা কতো নিচ্ছেন:

প্রচলিত অর্থে সুন্নি ও ওয়াহাবি এই দুই মতের আলেমরাই বেশি সক্রিয় ওয়াজ মাহফিলে। এর মধ্যে জামায়াত ঘরানার আলেম আছেন অনেকেই। জামায়াতের কারাব’ন্দী রাজাকার দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ছাড়াও তারেক মনোয়ার, মিজানুর রহমান আজহারীসহ অনেকেই আছেন, যারা ওয়াজের ফাঁক ফোকরে জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়নের কাজ করেন। জামায়াত-শিবির পরিচালিত সাইমুম শিল্পী গোষ্ঠীর কণ্ঠশিল্পী তারেক মনোয়ারকে বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে ‘আল্লামা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

পেশাদার ওয়াজকারীরা মাহফিল প্রতি ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত গ্রহণ করে থাকেন। বছরে শীতের সময় ছাড়াও শুকনো মৌসুমে তারা সারাদেশে ওয়াজ মাহফিল নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। অ্যাডভান্স ছাড়া তারা দাওয়াত গ্রহণ করেন না। মাওলানা হাবিবুর রহমান যুক্তিবাদী, মাওলানা হাফিজুর রহমান সিদ্দিকী (কুয়াকাটা), মুফতী কাজী ইব্রাহিম, আমির হামজা, মিজানুর রহমান আজহারী, তারেক মনোয়ার, নাজমুল ইসলাম মুজাহেদী, ক্বারী আমানুল্লাহ, গিয়াসউদ্দীন তাহেরী, মাওলানা ইলিয়াসুর রহমান জিহাদী, মাওলানা গোলাম রাব্বানী প্রমুখ এই তালিকায় রয়েছেন।

অ্যাডভান্সের ৫০ হাজার টাকার জায়গায় ১০ হাজার টাকা দেয়ায় কথা দিয়েও পরে মাহফিলে না যাওয়ার উদাহরণও আছে চর্মনাই ঘরানার মাওলানা হাফিজুর রহমান সিদ্দিকী (কুয়াকাটা) হুজুরের। অ্যাডভান্সের ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর হিসেবে পরিচিত জামায়াতপন্থী তারেক মনোয়ার এবং মিজানুর রহমান আজহারীও। সম্প্রতি একটি অনলাইন টেলিভিশন চ্যানেলে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মিজানুর রহমান আজহারীকে জনৈক দর্শক ফোনে প্রশ্ন করেন, ওয়াজ করে অর্থ নেয়ার রেওয়াজ যেহেতু নবী রাসূলদের সময় ছিল না এবং একইসাথে কোরআনে ধর্মীয় বিষয়ের বিনিময়ে অর্থ নেয়ার ব্যাপারেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, সেহেতু হুজুররা যে অর্থ নেন, তা কতটা জায়েজ? এর উত্তরে মিজানুর রহমান আজহারী নিজস্ব যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে দেন, এই অর্থ নেয়া জায়েজ!

এছাড়াও আলোচিত বক্তা হিসেবে আছেন মাওলানা সেলিম হোসেন আযাদী। খেলাফত মজলিসের ঢাকা মহানগরের এ নেতা হাবিবুর রহমান যুক্তিবাদীর মেয়েজামাই। সুন্নি ঘরানায় জনপ্রিয় হচ্ছেন মাওলানা তফাজ্জল হোসেন (ছুন্নি)। তিনি তার সম্মানী আগে থেকে নিশ্চিত করেন এবং অ্যাডভান্স গ্রহণ করেন। এছাড়া পেশাদার ওয়ায়েজদের মধ্যে রয়েছেন কওমী ঘরানার মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবীও।

এছাড়াও আরেক ধরনের ওয়াজ বক্তা রয়েছেন যারা পেশাদার কিন্তু, তাদের সম্মানী বা হাদিয়া নির্দিষ্ট নয়। এদের মধ্যে রয়েছেন সিলেটের মাওলানা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী। কওমি ঘরানায় সবচেয়ে আলোচিত ও জনপ্রিয় আলেম ওলিপুরী। সারা বাংলাদেশে তিনি ওয়াজ করে বেড়ান। তার ভক্ত ও অনুরাগীদের সংখ্যা প্রচুর। ওয়াজ মাহফিলভেদে তিনি ৫০-৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত গ্রহণ করেন। এছাড়াও তিনি দিনে ৩/৪টি স্থানে ওয়াজ করেন বলেও শোনা যায়। শীতের সময় ছাড়া মাঝে মাঝে তিনি বিদেশে ওয়াজ করতে যান বলেও জানা গেছে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা জুবায়ের আহমদ আনসারীও বছরের প্রায় দিন মাহফিলে অংশ নেন। সিলেট অঞ্চলে তিনি জনপ্রিয় বক্তা। তিনিও ওয়াজ প্রতি ৫০/৬০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। এ তালিকায় থাকা অন্য বক্তারা হচ্ছেন- দারুল আরকাম মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা সাজিদুর রহমান, মিরপুর ১৩ নম্বর মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মুফতী ইমরান মাজহারী, হেফাজতে ইসলামের ঢাকা মহানগর সদস্য সচিব মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মজলিসে দাওয়াতুল হকের আমির, যাত্রাবাড়ি মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মাহমুদুল হাসান প্রমুখ।

এছাড়াও চুক্তি ছাড়াই যে কোনও রকম সম্মানীতে (কমপক্ষে ৫০-৬০ হাজার টাকা) যারা ওয়াজ করে থাকেন তাদের মধ্যে রয়েছেন শায়খুল হাদীস আল্লামা তাফাজ্জুল হক (হবিগঞ্জী), মাওলানা রশীদুর রহমান ফারুক (বরুনার পীর), আল্লামা ফরিদউদ্দীন মাসউদ (ইমাম, শোলাকিয়া ঈদগাহ), মুফতি আবদুল মালেক সাহেব (মারকাযুদ্দাওয়াহ), শায়খুল হাদীস আব্দুল কুদ্দুস, মাওলানা ড. আ ফ ম খালিদ হুসাইন (চট্টগ্রাম), শায়খুল হাদীস শামসুল হক (ব্রাহ্মণবাড়ীয়া), মাওলানা আবদুল মতিন বিন হুসাইন, শায়খুল হাদিস মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতী মিজানুর রহমান সাঈদ (ঢাকা), চরমোনাই পীর মুফতী সৈয়দ রেজাউল করীম প্রমুখ।

বিভিন্ন স্থানের মাহফিল এন্তেজামিয়া কমিটি (আয়োজক) সূত্রে জানা গেছে, এদের সময়সূচী পেতে হলে সহকারী বা খাদেমদের মোবাইলে ১০ হাজার থেকে শুরু করে ১৫ হাজার পর্যন্ত টাকা বিকাশ করে দিতে হয়। তবেই তাদেরকে বুকিং কনফার্ম করা হয়। তবে তারা নিজেরা নিজেদের সম্মানী নিয়ে সরাসরি কথা বলেন কম।

আয়কর নিয়ে আলেমদের মিশ্রভাবনা:

সারা বছর ওয়াজ করে অর্থ রোজগার করেন সে হিসেবে সরকারকে প্রযোজ্য আয়কর দেওয়া উচিৎ কি না- এ বিষয়ে প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকজন ওয়াজকারী বক্তা বা তার প্রতিনিধির মতামত জানতে চাওয়া হয়। এসব মতামত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে ওয়াজকারীদের বেশিরভাগেরই আয়করের ব্যাপারে আগ্রহ নেই। অনেকেই বিষয়টা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়িয়ে সরকার কর পেলে তা দেওয়া উচিৎ বলেও মত দিয়েছেন কয়েকজন।

দেশের আইন মানা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব সেই হিসেবে আয়কর দেওয়ার মতো উপার্জন করলে সবার আয়কর দেওয়া উচিত বলে মনে করেন জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মুফতি মাহফুযুল হক।

তিনি বলেন, নাগরিক হিসেবে সবার আয়কর দেওয়া উচিত। তিনি আলেম হন, আর অন্য যে পেশার হন। আমাদের দেশের সব আলেমরা আয়কর দেন না, বিষয়টি এমন নয়। কিছু কিছু আলেম আয়কর দেন বলে শুনেছি। তবে কেউ ঝামেলা এড়াতে, আবার কেউ আয়কর সম্পর্কে জানেন না বলে দেন না। আমাদের দেশের আলেমরা আয়কর সম্পর্কে জানেন কম। তাছাড়া এটাই তাদের বড় ধরনের আয়ের উৎস। তাই আয়কর নিয়ে তারা মাথা ঘামান না।

আলেমদের আয়কর দেওয়া উচিত কি না- জানতে চাইলে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি আল্লামা সুলতান যওক নদভী মুফতী আবদুল হালিম বোখারী। আরেক মুফতী, যিনি ওয়াজ প্রতি ৭০ হাজার টাকা নেন, ইমরান মাজহারী এ ব্যাপারে বলেন, আমি অসুস্থ, এই বিষয়ে কিতাব (বই) না দেখে সরাসরি মন্তব্য করা যাবে না। তবে কোনও মাদ্রাসার ফতোয়া বিভাগে হাদিস-কোরান দেখে সঠিক জবাব দিতে পারবে।

শোলাকিয়া ঈদগাহের খতিব মাওলানা ফরিদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, ইসলামের শরিয়তে সরাসরি সাং’ঘর্ষিক না হলে রাষ্ট্রের নিয়ম মানা উচিৎ। তিনি জানান, মূলত আয়করের বিষয়ে সচেতনতা না থাকার কারণেই আলেমরা আয়কর দেন না। আয়কর বিভাগের উচিৎ আলেমদের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা শুরু করা। এছাড়াও মাদ্রাসার বেতন খুব কম হওয়ায় ও তা নিয়মিত না হওয়ায় বিকল্প আয়ের পথ হিসেবেই অনেকে ওয়াজ মাহফিলে বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও আলেমদের বিষয় হওয়ায় স্পর্শকা’তর এ বিষয়টিতে কর নির্ধারণে সরকারের মধ্যে ভয় কাজ করে। তবে ইসলাম ধর্মের আলোকেই বিষয়টিকে আলেমদের কাছে উপস্থাপন করে কর আদায় করা যেতে পারে।

স্পর্শকা’তর, তাই সরকার নীরব

আলেমদের কাছ থেকে কর আদায়ের বিষয়টিকে স্পর্শকা’তর হিসেবে দেখছে শীর্ষ আলেমদের পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব বোর্ডও। তাদের মতে, যেহেতু বাংলাদেশে আলেমদের বিষয়ে এক ধরনের সমীহ কাজ করে সাধারণ মানুষের মধ্যে, সেহেতু বিষয়টিকে ইস্যু করে তোলার চেষ্টা থাকবে বিরো’ধী রাজনৈতিক দলগুলোর। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী প্রভাবিত ধর্মভিত্তিক দলগুলো বিষয়টিকে সহজভাবে গ্রহণ না করে আন্দোলনের ইস্যু বানানোর চেষ্টা করবে।

রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বলেন, বিষয়টি সরকারের দৃষ্টিতে রয়েছে। ওয়াজ-মাহফিল ধর্ম প্রচারের একটি বিষয়। মূলত আলেমরা ওয়াজ-মাহফিল করে বিনিময়ে উপহার পায়। তাদের এই অর্জিত সম্পদ করের অন্তর্ভুক্ত হবে কি না এ বিষয়ে সরকার এখনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। এই বিষয়ে আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছি।

তবে আয়কর যোগ্য আয় হলেই কর দিতে হবে বলে মত প্রকাশ করেছেন সুপ্রিম কোটের আয়কর আইনজীবী মাসুম দিদার। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, করযোগ্য উপার্জন করলেই আয়কর দিতে হবে। আয়কর আইনে এমন কোনও নিয়ম নেই যে ওয়াজ-মাহফিল থেকে অর্জিত অর্থের কর দিতে হবে না। প্রাপ্ত অর্থ যদি উপহার হিসেবে দেখা হয়, তবে এটা একটা হবে একটা ব্যাড প্র্যাকটিস। তখন বিভিন্ন পেশার মানুষও এভাবে কর দেয়া এড়াতে চাইবে।

এ প্রসঙ্গে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক ইকবাল মাহমুদ বলেন, আয়কর দেয়া আলেমদের জন্য বাধ্যতামূলক হলে দেশে ওয়াজের মাধ্যমে ধর্মীয় উ’স্কানি, সংখ্যা-লঘুদের প্রতি বিষো’দ্গার এবং জ’ঙ্গীবাদে প্ররোচনা দেয়া বন্ধ হয়ে যাবে। তখন নজরদারী থাকায় আলেমরা সাবধান হয়ে যাবে এসব করতে গিয়ে।

লেখক: ক্বারী ইকরামুল্লাহ মেহেদী
পরিচিতি: শিক্ষক ও গণমাধ্যম কর্মী
পেকুয়া, কক্সবাজার

শেয়ার করুন !
  • 437
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!