করোনা ভাইরাস: বাংলাদেশে দাম কমছে যে জিনিসের

0

অর্থনীতি ডেস্ক:

চীন নিজেদের ব্যবহারের জন্য যেসব পণ্য আমদানি করে সেগুলোর দাম বিশ্বজুড়ে কমছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, চীনের জনসংখ্যা ১৪৩ কোটি। তারা যদি কোনো পণ্যের ব্যবহার কমিয়ে দেয়, তাহলে বৈশ্বিক বাজারও টালমাটাল হবে।

সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে ভোজ্যতেলের দামে। বিশ্বে ভোজ্যতেল আমদানিকারকের তালিকায় চীন শীর্ষে। ভাইরাসের প্রভাবে সেখানে আমদানি ব্যা’হত হওয়ার শ’ঙ্কায় ইতিমধ্যে পাম তেল ও সয়াবিন তেলের দাম প্রতি টনে ৯০ ডলার বা কেজিতে সাড়ে ৭ টাকা কমেছে। মালয়েশিয়ার পাম তেলের দাম টনে ৮১৫ ডলার থেকে কমে ৭২০ ডলারে নেমেছে। একইভাবে সয়াবিনের দাম ৯০০ ডলার থেকে কমে ৮১০ ডলারে নেমেছে।

বিশ্ববাজারে দাম কমতে থাকায় পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে কেজিতে ১২ টাকা কমে পাম তেল বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে সয়াবিন তেল ৯ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে। দাম কমায় সাময়িকভাবে ভোক্তাদের স্বস্তি হলেও ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে বিপুল ক্ষ’তির মুখে পড়ছেন।

করোনা ভাইরাস: বাংলাদেশে বাড়বে যেসব পণ্যের দাম

সব দেশের বাণিজ্য ও শিল্পখাত অন্য এক বা একাধিক দেশের ওপর নির্ভর করে টিকে থাকে। দেখা যায়, সরাসরি পণ্য আমদানি বা রপ্তানির জন্য না হলেও পণ্যের কাঁচামালের জন্য এই নির্ভরতাটা তৈরি হয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই নির্ভরতার সবচেয়ে বড় জায়গাটা হলো চীন। আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে যেসব পণ্যের দরকার হয় সেগুলো তো বটেই, রপ্তানিপণ্যেরও প্রায় ৯০ শতাংশ কাঁচামালের যোগান দেয় চীন।

করোনা ভাইরাসের কারনে বাংলাদেশের এই পরম নির্ভরতার জায়গা চীন এখন একেবারেই একঘরে হয়ে পড়েছে। চীন থেকে পণ্য আমদানি একপ্রকার বন্ধই বলা চলে। এ অবস্থায় চরম সং’কটের মুখে পড়তে পারে বাংলাদেশও। কারণ যে কোনো পণ্যের দামের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করে কাঁচামাল। সেই কাঁচামালের যোগানই বন্ধ থাকায় দেশের বাজারে বাড়তে পারে বেশকিছু পণ্যের দাম।

ও’ষুধ

করোনা ভাইরাসের কারণে চীন থেকে ও’ষুধ তৈরির বিভিন্ন কাঁচামাল আসা বন্ধ হয়ে গেছে। আর সপ্তাহখানেক যদি এ অবস্থা চলে তাহলে ইউরোপের কোনো দেশ বা অন্য কোথাও থেকে আনতে হবে এসব কাঁচামাল। সেক্ষেত্রে উৎপাদন খরচ হবে দ্বিগুণের বেশি। যার প্রভাব পড়বে খুচরা বাজারে ও’ষুধের দামের ওপর।

গার্মেন্টস

বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাত এত এগিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হলো সস্তা শ্রমবাজার। পাশাপাশি চীন থেকে আসা সস্তা কাঁচামালও আমাদের গার্মেন্টস খাত এগিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ। বোতাম, সুতা থেকে শুরু করে আমাদের গার্মেন্টস শিল্পের ৯৯ শতাংশ কাঁচামাল এবং মেশিনারিজ আছে চীন থেকে। বর্তমানে প্রতিদ্ব’ন্দ্বিতাপূর্ণ বাজার এবং বৈশ্বিক ও আন্তর্জাতিক নানা চাপের কারণে আমাদের গার্মেন্টস শিল্পের একটা খারাপ সময় চলছে। এমন পরিস্থিতিতে চীন থেকে কাঁচামাল আসা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে ভ’য়াবহ অবস্থা তৈরি হবে এই খাতে।

ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য

আমাদের দেশে যত ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য আছে, প্রায় সবগুলোরই উৎস চীন। এমনকি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইলেক্টনিক্স পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালটনের টিভি, ফ্রিজসহ যাবতীয় সকল পণ্যের কিছু কিছু ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশও চীন থেকে আনা হয়। এরপর দেশের কারখানায় অ্যাসেম্বলিং করা হয়। চীন থেকে এই যন্ত্রাংশ আসা বন্ধ থাকায় দেশিয় কোম্পানিগুলো বড় সং’কটের আশ’ঙ্কা করছে। বাংলাদেশের ইলেক্ট্রনিক্স বাজারের ৬০ শতাংশেরই দখ’ল এই ওয়ালটনের হাতে। একই অবস্থা দেশের অন্য ব্র্যান্ডগুলোরও। মাসখানেক চীন থেকে পণ্য আসা বন্ধ থাকলে টিভি ফ্রিজসহ বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক্স পণ্যের দাম কয়েকগুণ বেড়ে যেতে পারে বলে আশ’ঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

খেলনা

বাংলাদেশের খেলানার বাজারের ৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে চীন। চীন থেকে যদি এই খেলনা আসা মাসখানেক বন্ধ থাকে তাহলে চাপে পড়ে যাবেন ব্যবসায়ীরা। ফলে খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়বে ধরে নেয়া যায়।

ফার্নিচার

বর্তমানে বাংলাদেশের ফার্নিচারের বাজারও চীন নির্ভর হয়ে পড়েছে। চীন থেকে আসা ফার্নিচার অনেক সস্তা ও টেকসই হওয়ায় ক্রেতাদের মাঝে চীনা ফার্নিচারের চাহিদা বেশি। কিন্তু গত ২৬ জানুয়ারি থেকে চীন থেকে ফার্নিচার আসা বন্ধ হয়ে গেছে। এ অবস্থা আরও দু’এক সপ্তাহ স্থায়ী হলে দেশের ফার্নিচারের বাজারেও যে ঝড় উঠবে সেটা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।

শেয়ার করুন !
  • 13
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply