‘এখনো আন্দোলন দেখেন নাই, খালেদা জিয়াকে ছাড়েন, ছাড়েন, ছেড়ে দেন’

0

সময় এখন ডেস্ক:

সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, কথা একটাই, যদি সোজা আঙুলে ঘি না ওঠে তাহলে আমরা আঙুলটা বাঁকা করব। আপনাদের আর বেশি সময় দেব না। এখনো সময় আছে, বলি মিথ্যা মামলায় কারাব’ন্দি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়েন, ছাড়েন, ছেড়ে দেন। অনুরোধ করছি।

এ সময় দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, আন্দোলনে রাজি আছেন? নেতাকর্মীরা হ্যাঁ সূচক উত্তর দেন।

দলের চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কারাব’ন্দির ২ বছর পূর্তি ও তার মুক্তির দাবিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশে তিনি ওসব কথা বলেন।

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ৩৫ হাজার মামলায় ২৭-৩৭ লাখ আসামি। গত ২০০ বছরের মধ্যে ব্রিটিশ পাকিস্থান এবং বাংলাদেশের ৪৮ বছরের মধ্যে এরকম ঘটনা নাই যে, গণতন্ত্রের রাষ্ট্রে ৩৫ হাজার মামলায় ২৭-৩৭ লাখ আসামি। নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা অভিযোগে জোর করে গায়ের জোরে জেলে রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, এখানে (সমাবেশস্থলে) ২ জন মেয়র, জনতার মেয়র আছেন। সমাবেশের এই জনতা স্বীকার করে নিচ্ছে তারা হচ্ছে জনতার মেয়র।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা আপনি তো বাইরে ছিলেন। ইলেকশনের দিনে ভোট দিতে গিয়ে আপনি নৌকায় ভোট চাইলেন। আর আমার নেত্রীকে জেলখানায় রেখেছেন।

এ সময় সমাবেশের জনগণ এই সরকারকে ভোট চোর, ভোট চোর বলে স্লোগান দেন। তখন দুদু বলেন, ভোট চোর ভোট চোর। টাকা চোর টাকা চোর। এরা হচ্ছে (আ.লীগ) লুটেরা।

সরকারের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, এখনো আন্দোলন দেখেন নাই। দরকার হলে পরে কারো কাছে আমরা আর আবেদন নিবেদন কিছুই করব না। জনতাকে সঙ্গে নিয়ে প্রয়োজন বোধ করলে বেগম জিয়াকে বের করে নিয়ে আসব। আমরা মওলানা ভাসানীর উত্তরসূরী, আমরা জিয়াউর রহমানের উত্তরসূরি, আমরা বেগম খালেদা জিয়ার উত্তরসূরি।

তিনি বলেন, আপনারা ইশরাকের সাথে পারেন না, তাবিধের সাথে পারেন না। পুলিশ বলে, সরকার বলে, প্রশাসন বলে, বিএনপি মাঠে ছিল না। বিএনপি সব জায়গায় ছিল, এখনও আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। কিন্তু ভোট কেন্দ্রে ছিল চোরেরা ডাকা’তরা। এখন এখান থেকে প্রতিজ্ঞা করে যাব, বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি না করে ঘরে ফিরে যাব না।

সমাবেশ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় দুপুর সোয়া ২টায় ওলামা দলের সদস্য সচিব হাফেজ মাওলানা নজরুল ইসলামের কোরআন তেলোয়াতের মধ্য দিয়ে। এর আগে বেলা ১১টা থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগ দেন বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শত শত নেতাকর্মী।।

দলের প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানীর সঞ্চালনায় সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, মো. শাজাহান, আব্দুল আউয়াল মিন্টু,

ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, নিতাই রায় চৌধুরী, আহমেদ আযম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, আব্দুস সালাম, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকনসহ অঙ্গ-সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক প্রমুখ।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!