বাংলাদেশে বসে যেভাবে এস্তোনিয়ার ই-রেসিডেন্ট হবেন

0

প্রবাস ডেস্ক:

এস্তোনিয়া উত্তর-পূর্ব ইউরোপের একটি রাষ্ট্র। রাজধানীর নাম তাল্লিন। তাল্লিন একটি গুরুত্বপূর্ণ বাল্টিক সমুদ্রবন্দর এবং দেশের বৃহত্তম শহর। দেশটিতে মাত্র ১২ লাখ মানুষের বসবাস। ২০০৪ সালের ১ মে এস্তোনিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের পূর্ণ সদস্যপদ লাভ করে এবং একই বছরের ২৯ মার্চ থেকে দেশটি ন্যাটোজোটভুক্ত।

এস্তোনিয়া পৃথিবীর প্রথম ই-কান্ট্রি। ভোট দেয়া থেকে শুরু করে সিগনেচার পর্যন্ত সবকিছুই ডিজিটাল সেবা। এমনকি দেশটির ই-রেসিডেন্ট পর্যন্ত হয়ে যেতে পারবেন বাংলাদেশে বসেই। এই দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন বিশ্বের যে কোনো জায়গা থেকে।

এস্তোনিয়ার ই-রেসিডেন্স পেতে শুরুতে তাদের ওয়েবসাইটে গিয়ে ফর্ম পূরণ করতে হবে। ফর্ম পূরণের সময় নামের সঙ্গে আপনার ছবি আপলোড করতে হবে। কী উদ্দেশ্যে আবেদন করছেন সেটাও উল্লেখ করতে হবে। এরপর ১০০ ইউরো ফি প্রদান করার পর আপনার আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

আইডি কার্ড আপনি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা ৩৮টি এস্তোনিয়ান দূতাবাস থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন। ফর্ম পূরণের সময় উল্লেখ করে দিতে হবে কোন জায়গা থেকে আপনি কার্ডটি গ্রহণ করতে চান। যেমন, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নিকটবর্তী সংগ্রহের স্থান হলো নয়াদিল্লি এস্তোনিয়া দূতাবাস।

সাধারণত ২ থেকে ৪ সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগে পুরো প্রক্রিয়া শেষ হয়ে কার্ড হাতে পেতে। সশরীরে কার্ড সংগ্রহ করতে গেলে ওই সময় আপনাকে আপনার নিজ দেশের নাগরিকত্বের প্রমাণ স্বরূপ পাসপোর্ট দেখাতে হবে এবং ডাটাবেজে আপনার আঙ্গুলের ছাপ প্রদান করতে হবে। এরপর আপনাকে একটা খাম দেয়া হবে যার ভেতর থাকবে আপনার ই-রেসিডেন্সি কার্ড, একটা কার্ড রিডার আর কিছু কাগজপত্র। কার্ড হাতে পাওয়া মাত্রই আপনি একজন এস্তোনিয়ার ডিজিটাল নাগরিক!

এখন কথা হলো এস্তোনিয়ার ডিজিটাল কার্ড দিয়ে কী হবে?

এই কার্ড আপনার ডিজিটাল নাগরিকত্বের পরিচয়পত্র। এর মাধ্যমে আপনি যে কোনো দেশে বসবাস করে এস্তোনিয়াতে ব্যবসা করতে পারবেন, দরকারি কাগজপত্রের কাজ সারতে পারবেন এবং নিরাপদ আর্থিক লেনদেন করতে পারবেন।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, একজন বাংলাদেশি ব্যবসায়িক উদ্যোক্তা এস্তোনিয়াতে একটা ‘স্টার্ট আপ’ অথবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলতে চান যেটা কিনা ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত সব দেশে তার সেবা বা সার্ভিস দিতে পারবে। এই ডিজিটাল নাগরিকত্বের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশে বসেই অনলাইনেই এস্তোনিয়াতে কোম্পানি খুলে ফেলতে পারবেন কোনো কাগজপত্রের ঝামেলা ছাড়াই, সশরীরে না থেকেও।

এ ছাড়া বিশ্বের একমাত্র বিশুদ্ধ বায়ুর দেশও বলা হয় এস্তোনিয়াকে। সেই সঙ্গে মুক্তমত কিংবা সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতার ক্ষেত্রেও দেশটি পৃথিবী সেরা। যে কোনো ধরনের মতামত জানানোর সুযোগ রয়েছে। এজন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কাউকে জেলে দেবে না, এমনকি কাউকে অযথা হয়রা’নিও করবে না।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশটি সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে স্বাধীন হয়েছে ১৯৯১ সালে। স্বাধীনতার মাত্র ২৬ বছরের মাথায় সফলতার শীর্ষে পৌঁছে গেছে।

জনসংখ্যা কম হওয়ার কারণেই এস্তোনিয়ার পক্ষে তার পুরো সরকার ব্যবস্থাই অনলাইনে চালানো সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু বেশি জনসংখ্যার এবং জটিল সরকার ব্যবস্থা ও বড় দেশগুলোতে এভাবে শুধু অনলাইনের মাধ্যমেই সরকারি সেবা দেওয়া সম্ভব কিনা এ বিষয়ে নিশ্চিত নয় বিশেষজ্ঞরা।

প্রতিবেদক: এ. এম. আমান উল্লাহ ভূঁঞা রাজিব/জেনেভা, সুইজারল্যান্ড

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!