আসামে মাদ্রাসা ও সংস্কৃত কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে স্কুলে রূপান্তর করা হচ্ছে

0

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ভারতের আসাম সরকার সেখানকার সরকারি মাদ্রাসা ও সংস্কৃত কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দিচ্ছে। আগামী ৬ মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাধারণ বিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হবে।

বিজেপির নেতৃত্বে থাকা রাজ্য সরকারের শিক্ষামন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এ খবর দিয়েছে। দশকের পর দশক ধরে চলে আসা ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এভাবে বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা চলছে নাগরিক সমাজে। তবে সাধুবাদ জানিয়েছেন প্রাগ্রসর চিন্তাশীল নাগরিকগণ।

শিক্ষামন্ত্রী হিমন্ত বিজেপি সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে বলেন, ধর্ম, ধর্মগ্রন্থ এবং আরবির মতো ভাষা শিশুদের শেখানো কোনো ধর্মনিরপেক্ষ সরকারের কাজ নয়।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম বলছে, ২০১৭ সালে মাদ্রাসার পাশাপাশি সংস্কৃত কেন্দ্র বোর্ডকে মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে একীভূত করা হয়েছিল। এবার তা পুরোপুরি বন্ধই করে দিচ্ছে বিজেপি সরকার।

শিক্ষামন্ত্রী হিমন্ত বলেন, এখানে কোনো স্বতন্ত্র বোর্ড ছাড়া প্রায় ১ হাজার ২০০ মাদ্রাসা ও ২০০ সংস্কৃত কেন্দ্র চলছে। এ প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীরাও ম্যাট্রিকুলেশন বা উচ্চ মাধ্যমিকের সমমানের সনদ পায় বলে অনেক সমস্যার তৈরি হয়। সেজন্য আমরা এসব মাদ্রাসা ও সংস্কৃত কেন্দ্রকে সাধারণ বিদ্যালয়ে রূপান্তর করছি।

আর এ রাজ্যে যে ২ হাজার বেসরকারি মাদ্রাসা আছে, সেগুলোকেও কড়া নিয়ম কানুনের আওতায় আনা হচ্ছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।

মাদ্রাসা বন্ধে বিজেপি সরকারের এ সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা চলছে আসামসহ ভারতের বিভিন্ন পরিসরে। সেখানকার সংখ্যা’লঘু সম্প্রদায়ের অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, মুসলিম বিদ্বে’ষী মানসিকতা থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এর আগে ভারতের প্রথম রাজ্য হিসেবে আসামে বি’তর্কিত নাগরিকপঞ্জি (এন আর সি) প্রকাশ করা হয়। কথিত ‘মূল জনগোষ্ঠী’ থেকে ‘অনু-প্রবেশকারীদের’ আলাদা করতে ওই তালিকা করা হয়। কিন্তু এ তালিকার বিরু’দ্ধে প্র’তিবাদ চলছে আসামসহ ভারতজুড়ে।

এ প্রসঙ্গে প্র’তিবাদকারীরা বলছেন, মুসলিমসহ অন্যান্য সংখ্যা’লঘুদের খেদানোর উদ্দেশ্যেই বিজেপি সরকার এ ধরনের সাম্প্রদা’য়িক তালিকা করেছে।

শেয়ার করুন !
  • 343
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply