চসিক নির্বাচন: কে হচ্ছেন নৌকার মাঝি

0

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

বাণিজ্যিক রাজধানীর নৌকার বৈঠা পেতে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনেছেন ১৫ জন। সম্ভাব্য কাউন্সিলর পদে ফরম কিনেছেন ৩৮৮ জন। তবে মেয়র প্রার্থী থেকে শুরু করে তাদের কর্মী সমর্থক সবাই উৎ’কণ্ঠায় আছেন। এমনকি দলের জ্যেষ্ঠ নেতারাও বলতে পারছেন না চসিক নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে কে মনোনয়ন পাচ্ছেন। তবে উৎ’কণ্ঠার অবসান হবে আগামীকাল শনিবার।

রাজনৈতিক শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতার সাথে আলাপকালে তারা জানান, চসিক নির্বাচনে নৌকার মাঝির পরিবর্তন আসছে কি না, নৌকার মাঝিতে নতুন কোনো মুখ আসছে কি না, সেটা শুধু শেখ হাসিনাই জানেন। এ ব্যাপারে তিনি কারো সঙ্গে কোনো আলোচনা করেননি বা কোনো ইঙ্গিতও দেননি।

সময় যত ঘনিয়ে আসছে উৎ’কণ্ঠা ততই বাড়ছে। চলছে নানা গুঞ্জন। ১৫ জন নৌকার বৈঠা পাওয়ার দৌড়ে সামিল হলেও আলোচনায় আছেন বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, সিডিএ’র সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, সাবেক মেয়র এম মনজুর আলম, নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন, সাবেক মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি।

তবে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের উদাহরণ টেনে কেউ কেউ বলছেন, শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের সক্রিয় রাজনীতিকদের মধ্যে কেউ মনোনয়ন পাবেন তার কোন নিশ্চয়তা নেই। আবার অনেকে বলছেন, হয়ত আওয়ামী পরিবারের যে কেউ পেয়ে যেতে পারেন দলীয় মনোনয়ন। তাই কারো উৎ’কণ্ঠার কমতি নেই।

মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন- নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, সহ-সভাপতি সাবেক মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি, এ কে এম বেলায়েত হোসেন, খোরশেদ আলম সুজন ও আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম চৌধুরী, সিডিএ’র সাবেক চেয়ারম্যান ও নগর কমিটির কোষাধ্যক্ষ আবদুচ ছালাম, সাবেক মেয়র এম মনজুর আলম, মুক্তিযু’দ্ধের বিজয় মেলা পরিষদের আহ্বায়ক মো. ইউনুস, সাবেক মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসির ছেলে মুজিবুর রহমান, সাবেক প্যানেল মেয়র রেখা আলম, মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম, সদ্যপ্রয়াত চট্টগ্রাম-৮ আসনের সাংসদ মাইনুদ্দিন খান বাদলের স্ত্রী সেলিনা খান, মরহুম জননেতা জহুর আহমদ চৌধুরীর পুত্র হেলাল উদ্দিন চৌধুরী তুফান এবং মো. ইনসান আলী।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম বিক্রির আগে থেকেই মেয়র পদের জন্য চলছে তদবির। প্রশাসনিক, রাজনৈতিক এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে যে যেভাবে পেরেছেন তদবির করেছেন। বিশেষ করে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন ইতিবাচক রাখার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। এরপর ছিল প্রশাসনিক তদবির।

প্রধানমন্ত্রীর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ হয় এমন কর্মকর্তাদের মন জয় করেও অনেকেই মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করছেন। আর রাজনৈতিক তদবির তো সেই শুরু থেকেই আছে। তাতেও কেউ আশ্বস্ত হতে পারছেন না। শেষ তদবির হিসেবে সবাই চেষ্টা করছেন দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎ করতে। ইতোমধ্যে কেউ কেউ প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতও পেয়েছেন।

একজন প্রার্থীর পক্ষে নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীসহ নগরের ৫ জ্যেষ্ঠ নেতা এবং কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়ে সুপারিশ করেছেন। অন্যান্য প্রার্থীরাও চেষ্টা করছেন প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করার।

সকালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, শুক্রবার হলেও মনোনয়ন ফরম বিক্রি এবং জমা নেয়া হবে। কাল শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় মেয়র এবং কাউন্সিলর প্রার্থীরা গণভবনে আসবেন। তারা সেখানে রাতের খাবারও খাবেন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী কে হচ্ছেন সেখানেই তা ঘোষণা হতে পারে।

শেয়ার করুন !
  • 50
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!