রোহিঙ্গাদের নজরদারিতে বসছে কাঁটাতারের বেড়া, সিসি ক্যামেরা

0

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

দেশের বিভিন্ন জায়গায় রোহিঙ্গাদের ছড়িয়ে পড়া এবং নানাবিধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আশ্রয় শিবিরগুলোর চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এছাড়া ক্যাম্পের চারপাশে সিসি ক্যামেরা ও ওয়াচ টাওয়ারও স্থাপন করা হবে।

এ উপলক্ষ্যে আজ শনিবার কোস্টগার্ডের সদর দপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। কোস্টগার্ডের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের নজরদারিতে রাখতে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, আনসারসহ সকল বাহিনী কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে রোহিঙ্গা শিবিরে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। ইতিমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। মূল উদ্দেশ্য তারা যেন শিবির থেকে বের হয়ে আমাদের জনগোষ্ঠীর সঙ্গে মিশে না যায়। এছাড়া, রোহিঙ্গাদের ওপর নজরদারি আরও বাড়াতে ওয়াচ টাওয়ার ও সিসিটিভি স্থাপন করা হবে।

এদিকে এ সিদ্ধান্তকে শুধু স্থানীয়রা নয়, রোহিঙ্গারাও সাধুবাদ জানিয়েছে। আর এর ফলে সন্ত্রা’স, জ’ঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত হওয়ার ঝুঁ’কি কমার পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ার প্রবণতাও কমবে বলে মনে করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

রোহিঙ্গাদের ফেরার বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান খান বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা থেমে যায়নি, আলোচনা চলছে। আশা করছি, তারা রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবে।

এ সময় কোস্টগার্ড সদস্যদের সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান মন্ত্রী। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ২০ জনকে কোস্ট গার্ড পদক দেয়া হয়।

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ এলাকায় ছোট বড় পাহাড়ের ঢালে ১০ হাজার একর জায়গায় বসবাস করছে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। যাদের মধ্যে অনেকেই নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে। খু’ন, ধ-র্ষণ, মা’দক ব্যবসা, অপহ’রণ থেকে শুরু করে এমন কোনো অপরাধ নেই যা তারা করছে না।

যে কারণে রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবির নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য কাটাতাঁরের বেড়া নিমার্ণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। যার প্রেক্ষিতে ক্যাম্প তৈরির কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে পিলার বসানোর কাজ।

রোহিঙ্গারা বলেন, কাটাতাঁরের বেড়া নির্মাণে নিরাপদ হবে ক্যাম্প। আমাদের জন্য এটা খুব ভালো। খারাপ মানুষ আর যাওয়া আসা করতে পারবে না এখন।

দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় দারুণ খুশি কক্সবাজারের স্থানীয়রাও। তারা বলেন, আমাদের অনেক দিনের দাবী পূরণ হচ্ছে। এটা আমাদের জন্য ভালো ও নিরাপদ।

রোহিঙ্গা শিবিরগুলোকে কাঁটাতারের আওতায় এনে দ্রুত প্রত্যা’বাসনে কাজ শুরু করা প্রয়োজন বলে জানালেন রোহিঙ্গা প্রত্যা’বাসন ও সংগ্রাম পরিষদের এ নেতা মাহামুদুল হক চৌধুরী।

তিনি বলেন, কাঁটাতারের ফলে তাদের অনেক অ’বৈধ কাজ রোধ করা যাবে। একই সাথে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থাও করতে হবে।

আর কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন জানালেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্প কাঁটাতারের আওতায় আসলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ অনেকটা সহজ হবে। কাঁটাতারের প্র’ভাবে তারা মুক্তভাবে চলাচল করতে পারবে না। যা সবার জন্যই ভালো।

প্রসঙ্গত, গেল দু’বছরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে খু’ন হয়েছে ৪০ জনের মতো। আর মামলা হয়েছে ৪ শতাধিক।

শেয়ার করুন !
  • 913
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!