২০ দিনেও হদিস নাই ক্যাম্প থেকে নি’খোঁজ খ্রিস্টান রোহিঙ্গা পরিবারটির‍!

0

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে নিখোঁজ হওয়ার ২০ দিন পরও খ্রিস্টান রোহিঙ্গা তাহের ও তার পরিবারের খোঁজ মেলেনি। গত ২৭ জানুয়ারি নি’খোঁজ হওয়া এই পরিবারের পরিণতি নিয়ে উদ্বিগ্ন তার সম্প্রদায়ের আশ্রিতরা।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) ট্রানজিট সেন্টারে আশ্রয় নেওয়া খ্রিস্টান রোহিঙ্গা জোহার (২৮) বলেন, তাহের, মিজা ও তাদের পরিবারের ১৪ বছরের একটি মেয়েসহ কাউকেই আমরা এখনও খুঁজে পাইনি। পুলিশকে বলেছি, ক্যাম্প ইনচার্জকে জানিয়েছি, কিন্তু কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

তবে একইদিন কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক সমীর চন্দ্র সরকার বলেন, তদন্তে কোনো খ্রিস্টান রোহিঙ্গা নি’খোঁজ হওয়ার সতত্যা পাওয়া যায়নি। তবুও নি’খোঁজ পরিবারটির সন্ধান পেতে আমরা সাধ্যমত চেষ্টা করছি।

এর আগে গত ২৮ জানুয়ারি তাহেরের পরিবার নি’খোঁজ হওয়ার খবরটি জানান খ্রিস্টান রোহিঙ্গা সাইফুল ইসলাম পিটার। মিয়ানমারের মুসলিম জ’ঙ্গিগোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) সদস্যরা তাদের ধরে নিয়ে গেছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

পরে ২৯ জানুয়ারি কয়েকটি গণমাধ্যমকে খ্রিস্টান রোহিঙ্গা কমিউনিটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক ই-বার্তায়ও একই অভিযোগ করে জানানো হয়, নি’খোঁজ পরিবারের ৪ সদস্যের নাম- তাহের, খুরশিদা, মিজান এবং মরিয়ম। অপহ’রণকারীদের মুখ ঢাকা ছিল বলেও উল্লেখ করেন তারা।

তবে পুলিশ ও মুসলিম রোহিঙ্গাদের ভাষ্যমতে, গত ২৬ জানুয়ারি দিবাগত সাড়ে ১০টার দিকে কুতুপালং ক্যাম্পের খ্রিস্টান পল্লির ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় আবদুর শুক্কুর (২৫) নামের এক রোহিঙ্গাকে আরসা জ’ঙ্গি দাবি করে পিটারের নেতৃত্ব মা’রধর করা হয়। যার জেরে রাত ১২টার পর হাম’লা চালায় আরসা সদস্যরা। তবে শুরু থেকেই এ ঘটনার সাথে আরসার সংশ্লিষ্টতা অ’স্বীকার করে আসছে পুলিশ।

এদিকে গত ১১ ফেব্রুয়ারি আরসার টুইটার পাতায় সংগঠনের কমান্ডার ইন চিফ আবু আমর জুনুনির পক্ষ থেকে প্রচারিত এক অডিও বার্তায় দাবি করা হয় মিয়ানমারে নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য আরসা হিন্দু-মুসলিম-খ্রিস্টান সকল রোহিঙ্গার পক্ষে ল’ড়াই করে যাচ্ছে।

ওই অডিও বার্তায় বলা হয়- যদি কেউ মনে করে যে, আরসা শুধু মুসলিম রোহিঙ্গাদের জন্য সংগ্রাম করে তবে ভুল করা হবে, বরং আরসার ল’ড়াই সকল ধর্মের সকল রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায়ের জন্য। ধর্মের পার্থক্য থাকলেও সকল রোহিঙ্গা জাতিগতভাবে একই। তাই নিজেদের মধ্যে বি’ভেদ তৈরি না করে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানায় আরসা।

প্রসঙ্গত, সরকার বাংলাদেশে আরসার উপস্থিতি বরাবরই অ’স্বীকার করে থাকে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো শরণার্থী শিবিরে রোহিঙ্গাদের অপহ’রণ ও নির্যা’তনের অভিযোগে বিভিন্ন সময় আরসাকে দায়ী করেছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতে, ২০১৭ সালে রাখাইন রাজ্যে ১০০ হিন্দু রোহিঙ্গাকে হ’ত্যা করেছে এই আরসা।

ক্যাম্পে ফিরতে ‘না’

সাম্প্রদা’য়িক হাম’লার শি’কার হয়ে ট্রানজিট সেন্টারে আশ্রয় নেওয়া খ্রিস্টান পরিবারগুলোকে পুনরায় কুতুপালং ক্যাম্পের খ্রিস্টান পল্লিতে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে সেখানে পুনরায় মুসলিম রোহিঙ্গাদের হাতে অত্যা’চারিত হওয়ার ভ’য়ে খ্রিস্টানরা ফিরতে চাচ্ছেন না।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) কার্যালয়ের কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমান খান বলেন, খ্রিস্টানদের শিবিরে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য ইউএনএইচসিআর-এর সহায়তায় নতুন করে ঘর নির্মাণের কাজ চলছে।

এ ব্যাপারে ইউএনএইচসিআর মুখপাত্র মোস্তফা মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ট্রানজিট সেন্টারে আশ্রয় নেওয়া খ্রিস্টান শরণার্থীরা শিগগিরই তাদের শিবিরে ফিরে যাবেন। ইতিমধ্যে আমরা তাদের আশ্রয়কেন্দ্রগুলো পুনঃ নির্মাণ শুরু করেছি।

তবে ট্রানজিট ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া আনোয়ার (২০) নামের খ্রিস্টান রোহিঙ্গা বলেন, কুতুপালং শিবিরে খ্রিস্টান রোহিঙ্গারা অ’নিরাপদ। সেখানে বারবার আরসার রো’ষানলে পড়তে হবে।

তবে সরকারের পক্ষে থেকে সেখানে তাদের সেখানে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়া হবে- বলে জানান খলিলুর রহমান খান।

হাম’লার পরদিন ২৭ জানুয়ারি সকালে ১৭টি খ্রিস্টান পরিবারকে ইউএনএইচসিআর-এর ট্রানজিট সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে আরো ৫টি পরিবার সেখানে এসে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে সেখানে ২২টি পরিবারের ৮৭ জন খ্রিস্টান রয়েছেন।

গত ২৯ জানুয়ারি খ্রিস্টান রোহিঙ্গারা ৫৯ জন মুসলিম রোহিঙ্গাকে এবং মুসলমানরা ১৩ জন খ্রিস্টান রোহিঙ্গাকে অভিযুক্ত করে উখিয়া থানায় পাল্টা-পাল্টি মামলা করেন। মামলা দুটির তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক সমীর চন্দ্র সরকার।

তিনি জানান, খ্রিস্টান পল্লিতে হাম’লায় জড়িত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত ১৪ মুসলিম রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে।

শেয়ার করুন !
  • 342
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!