অবশেষে সেই সিন্ডিকেটের বিদায়!

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অ’নমনীয় অবস্থানের কারণে হেরে গেলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠকে চট্টগ্রামের মেয়র পদে মনোনয়ন চূড়ান্ত করার ঘটনায় সৃষ্ট চমকের পর সেটি মনে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই মেয়র পদের জন্য আ জ ম নাছিরের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। নাছিরকে কেন আবার মেয়র পদে মনোনয়ন দেওয়া উচিৎ, এ বিষয়ে অনেক যুক্তিও তিনি উপস্থাপন করেন। সেই সঙ্গে তার পক্ষে ছিলেন মনোনয়ন বোর্ডের অনেক সদস্যও। শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনা এ ব্যাপারে অ’নমনীয় অবস্থান গ্রহণ করেন। মনোনয়ন বোর্ডের সভায় তিনি বলেন, নাছিরকে মনোনয়ন দেওয়া হবে না, তার বদলে অন্য কারো নাম বলো।

এ নিয়ে বিভিন্ন বিভিন্ন যুক্তি উপস্থাপন করা হলেও শেখ হাসিনা তাঁর অবস্থানে অ’নড় ছিলেন। শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনার দৃঢ়তার কাছে থামতে হতে হয় ওবায়দুল কাদেরসহ কয়েকজনকে।

আরেকটি পক্ষ ছিল, যারা সাবেক সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামের পক্ষে। যেহেতু আবদুচ ছালাম টানা ১০ বছর সিডিএর দায়িত্বে ছিলেন, তার বিরু’দ্ধেও নানারকম অ’নিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তাই তিনিও আলোচনা থেকে বাদ পড়েন। শেষ পর্যন্ত নাটকীয়ভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রেজাউল করিমের কথা বলেন এবং তাকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরিস্থিতি তখন এমন ছিল যে, শেখ হাসিনার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো ছাড়া অন্য কারো কোনো উপায় ছিল না।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক দূরদৃষ্টি এবং চমক সৃষ্টির ক্ষেত্রে শেখ হাসিনা এক অসামান্য উচ্চতায় নিজেকে ধরে রেখেছেন। চসিকের মেয়র মনোনয়ন বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তারই আরেক ঝলক দেখলো আওয়ামী লীগ। এমনকি চট্টগ্রামের নেতাকর্মীরাও ভাবেননি আলোচনায় না থাকা প্রার্থী রেজাউল করিম দল থেকে মনোনয়ন পাবেন। কারণ ক’দিন আগেই তিনি জাতীয় নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৮ আসনের জন্য মনোনয়ন চেয়েও ব্যর্থ হন। এবারও মনোনয়ন পাবেন না ভেবেও মনোনয়নপত্র জমা দেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনীতি এমনই, কেউ দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করলে তাকে তিনি ভোলেন না, পুরস্কৃত করেন। শুধু প্রয়োজন ধৈর্য্য ধরে থাকা। রেজাউল করিম ধৈর্য্য ধরে ছিলেন বলেই এই পুরস্কার তিনি পেলেন।

আরেকটি বিষয়, আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য হলো তিনি কাউকে পুরস্কৃত করার আগে খোঁজ নেন যে তিনি আগে কিছু পেয়েছেন কি না। রেজাউল করিম গত ১১ বছর দলের ক্ষমতার মেয়াদে না পেয়েছেন মনোনয়ন, না পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় উচ্চ পদ। এ কারণেই তিনি এই মনোনয়ণ পেয়েছেন।

শেখ হাসিনা যে সবসময় ত্যাগী, পরীক্ষিত রাজনৈতিক কর্মীদের পক্ষে, এই মনোনয়নে তিনি সেটি আবার প্রমাণ করলেন। আওয়ামী লীগ সভাপতির এই সিদ্ধান্তের ফলে তৃণমূলে যারা হতা’শ হয়ে পড়েছিল এই ভেবে, তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী হবে, দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করে লাভ কী- এবার তারা আশার আলো দেখছেন।

কারণ তাদের একটি বদ্ধমূল ধারণা, এই মনোনয়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হলো, দলের জন্য যদি নিবেদিতভাবে কাজ করে, তা আওয়ামী লীগ সভাপতির দৃষ্টি এড়ায় না। দল অবশ্যই তাকে একদিন মূল্যায়ন করবে। রেজাউল করিমের মেয়র মনোনয়ন পদ তার একটি নতুন উদাহরণ।

শেয়ার করুন !
  • 2.6K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!