মাতাল হয়ে বারে ছাত্রলীগ ও ছাত্রমৈত্রী নেতার তা’ণ্ডব!

0

রাজশাহী প্রতিনিধি:

রাজশাহীতে পর্যটন মোটেলের বারে ড্রিংক করতে গিয়ে ভা’ঙচুরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় দুই ছাত্রলীগ ও ছাত্রমৈত্রী নেতার বিরু’দ্ধে।

সোমবার দিবাগত গভীর রাতে তারা বে’সামাল হয়ে অন্য খদ্দেরদের গা’লাগাল ও বারে ভা’ঙচুর চালান। পরে নগরীর রাজপাড়া থানা পুলিশ ২ ছাত্রনেতাসহ ৪ জনকে আটক করে।

তারা হলেন- নগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও নগরীর লক্ষ্মীপুর ভাটাপাড়া এলাকার একতার হোসেনের ছেলে জনি এবং নগর ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি ও নগরীর উপরভদ্রা এলাকার মোসলেম উদ্দিনের ছেলে জুয়েল। এদের মধ্যে জুয়েলের ড্রিংক করার পারমিট রয়েছে।

এ ঘটনায় এ দুই ছাত্রনেতার ২ সহযোগীকেও ঘটনাস্থল থেকেই পুলিশ আটক করেছে। তারা হলেন- নগরীর লক্ষ্মীপুর ভাটাপাড়া এলাকার আবদুল হামিদের ছেলে জসিম ও একই এলাকার মাহবুবুর রহমানের ছেলে তারেক। ঘটনাটি আড়াল করার চেষ্টা করে একটি মহল। কিন্তু বুধবার বিষয়টি জানাজানি হয়।

রাজপাড়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, গত সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে নগরীর শ্রীরামপুর এলাকায় রাজশাহী পর্যটন মোটেলে মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি জনি এবং মহানগর ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি জুয়েল একসাথে ড্রিংক করতে যান। এক পারমিটে দুই দলের দুই নেতা ড্রিংক নেন। এরপর তারা বে’সামাল হয়ে অপর এক খদ্দেরের সঙ্গে ত’র্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতা-হাতি শুরু হয়। এ সময় বারের কর্মচারীরা তাদের নি’বৃত করার চেষ্টা করেন। এ সুযোগে ওই খদ্দের বার থেকে চলে যান। তখন এ দুই নেতা মোটরসাইকেল নিয়ে তাকে ধাওয়া করেন। কিন্তু ধরতে না পেরে তারা ফিরে এসে বারের কর্মচারীদের ওপর ভীষণ ক্ষি’প্ত হন।

এ সময় ওই দুই নেতা বলেন, বারের কর্মচারীদের কারণেই বাইরের লোকেরা তাদের মুখের ওপর কথা বলে চলে যেতে পেরেছেন। এরপর ওই দুই নেতা বারের কর্মচারীদের ওপরে চ’ড়াও হওয়ার চেষ্টা করলে তারাও সরে পড়েন। তখন এ নেতারা ফোন করে আরও ১০-১২ জন কর্মীকে ডেকে আনেন। তারা এসে একযোগে বারের দরজা জানালা ও পানীয়ের গ্লাস ভা’ঙচুর করেন।

অবস্থা বে’গতিক দেখে বারের ব্যবস্থাপক আবদুর রাজ্জাক নিকটবর্তী রাজপাড়া থানায় ফোন করেন। কিন্তু পুলিশ ফোন ধরতে দেরি করায় তিনি সরাসরি রাজপাড়া থানায় গিয়ে পুলিশ নিয়ে আসেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দুই নেতাসহ ৪ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

এ ঘটনায় বারের ব্যবস্থাপক আবদুর রাজ্জাক বাদী হয়ে ওই থানায় দুটি মামলা করেন। একটি মামলা মাতলামির অভিযোগে মা’দকদ্রব্য আইনে এবং অপরটি ভা’ঙচুর করার অভিযোগে দায়ের করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাজশাহী নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান রাজিব কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ছাত্রমৈত্রীর মহানগর শাখার সাবেক সভাপতি ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মতিউর রহমান বলেন, ছাত্রমৈত্রীর মহানগর শাখার সভাপতির মাতলামির ঘটনাটি শুনেছি। এটি একটি দুঃখজনক ঘটনা। এটা জাতির জন্যও দুঃখজনক।

পারমিট ছাড়া ছাত্রলীগ নেতা কীভাবে ড্রিংক নিলেন- জানতে চাইলে বারের ব্যবস্থাপক আবদুর রাজ্জাক বলেন, পারমিটধারী একজন আরেকজনকে সঙ্গে নিয়ে ড্রিংক করতে পারেন।

তবে রাজশাহী মা’দকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক লুৎফর রহমান জানিয়েছেন, বারে গিয়ে ড্রিংক করতে হলে প্রত্যেকেরই ‘পারমিট’ থাকতে হবে।

এ ব্যাপারে রাজপাড়া থানা পুলিশের ওসি শাহাদাত হোসেন খান জানান, তারা দুই নেতার পরিচয় জানতে পেরেছেন। অন্যদের রাজনৈতিক পরিচয় আছে কি না জানতে পারেননি। দুটি মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

শেয়ার করুন !
  • 148
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply