বিষে-বিষক্ষয়: ক্যান্সার সারাবে সাপের বিষ- জানালেন বিজ্ঞানীরা

0

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

সাপের বিষ স্তন ক্যান্সার ও কোলন ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহার করা যেতে পারে বলে মত দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, এই দুই ধরনের ক্যান্সারের কোষ দ্রুত ধ্বং’স করতে সক্ষম সাপের বিষ। তবে এখনই ক্যান্সার চিকিৎসায় সাপের বিষ ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এর যথাযথতা যাচাই করতে এখনও সময়ের দরকার আছে আছে জানিয়েছেন তারা।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ক্যান্সার চিকিৎসায় সাপের বিষ নিয়ে গবেষণা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নর্দান কলোরাডোর (ইউএনসি) একদল জীববিজ্ঞানী। তারা বলছেন, মানবরোগের চিকিৎসায় থেরাপি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে স্নেক ভেনম (সাপের বিষ) তবে এজন্য আরও গবেষণার দরকার রয়েছে।

স্নেক ভেনমে উচ্চমাত্রায় বিষ রয়েছে। এর একটিমাত্র কা’মড়ে মুহূর্তের মধ্যে কোনো প্রাণীর মৃ’ত্যু পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, কোনো ধরনের ঝুঁ’কি ছাড়াই ক্যান্সার কোষ ধ্বং’স করার শরীরে সরাসরি সাপের বিষের প্রয়োগ তাদের জন্য চ্যালেঞ্জের।

বিশ্বে যেসব রোগের কারণে সবচেয়ে বেশি মৃ’ত্যু হয়ে থাকে ক্যান্সার তাদের মধ্যে অন্যতম। রোগটির নতুন ভ্যাক্সিন তৈরির কাজটি এখনও চলমান। বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারের চিকিৎসা বিভিন্ন রকম। আবার শরীরে এর অবস্থান ভেদে চিকিৎসার প্রয়োগও আলাদা।

ভ্যাক্সিন তৈরিতে সাপের বিষ নিয়ে গবেষণার কারণও রয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সাপের বিষে প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন ও কেমিক্যাল রয়েছে। একটি সাপ থেকে যে পরিমাণ বিষ পাওয়া যায় তাতে কয়েক’শ উপাদান থাকে। আর পৃথিবীতে যেসব প্রজাতির প্রাণী রয়েছে যাদের শরীরে প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন পাওয়া যায়, তার ২৬টিই হলো সরীসৃপ গোত্রীয়।

উচ্চ রক্তচাপে ব্যবহৃত একটি ও’ষুধের নাম ক্যাপটোপ্রিল। এক ধরনের পেপটাইডের গঠনবিন্যাসের ওপর ভিত্তি করে ও’ষুধটি তৈরি করা হয়। গবেষকরা পেপটাইডটি সংগ্রহ করেন সাপের বিষ থেকে। ও’ষুধটি যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে প্রায় ৪০ বছর ধরে ব্যবহার হয়ে আসছে। আর এ কারণেই মূলত সাপের বিষ থেকে ও’ষুধ তৈরির জন্য নড়েচড়ে বসেছেন বিজ্ঞানীরা।

ইউনিভার্সিটি অব নর্দান কলোরাডোর একজন গবেষক ড. স্টিফেন ম্যাকেসি। তার গবেষণারটিই হবে প্রথম কোনো প্রতিষ্ঠান যেখানে ক্যান্সার চিকিৎসায় সাপের বিষ নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে।

সিবিএস ডেনভারকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যাকেসি বলেছেন, এখানে একটা জটিল বিষয় হলো এগুলো (সাপের বিষ) বস্তু বা প্রাণীর মৃ’ত্যুর কারণ… আবার স্বাভাবিক বিষয় হলো এগুলো বেঁচে থাকার ব্যবস্থাকে ধ্বং’স করে দেয়। সাপের বিষের এই বৈশিষ্ট্যই ও’ষুধ তৈরির পেছনে যৌক্তিক কারণ। কারণ গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক সাপের বিষ ক্যান্সার সেলকে নি’খুঁতভাবে ধ্বং’স করতে পারে।

বিভিন্ন প্রজাতির কয়েক’শ সাপের বিষ নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন ইউএনসির শিক্ষার্থীরা। এসব সাপের তালিকায় র‌্যাটল স্নেক থেকে শুরু করে ভাইপারও রয়েছে। সম্পূর্ণ নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাপের বিষ নিয়ে গবেষণা করছেন তারা।

তাদের মধ্যে ভাইপারের বিষ নিয়ে গবেষণা করছেন পিএইচডি ক্যান্ডিডেট ট্যানার হার্ভে। তিনি বলেন, মাত্র অল্প মাত্রায় স্তন ক্যান্সারের কোষ ধ্বং’সে দ্রুত কাজ করে ভাইপার ভেনম। কোলন ক্যান্সারের কোষ ধ্বং’সেও একইভাবে কাজ করে। তবে এটি মেলানোমা (ত্বকের ক্যান্সারের কোষ)। তবে অন্যান্য সাপের বিষ মেলানোমা ধ্বং’সে কাজ করে বলে তিনি জানান।

এখনও পর্যন্ত গবেষকরা তাদের ল্যাবেই ক্যান্সার কোষের ওপর ভেনমের প্রয়োগ ঘটিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে যেহেতু সাপের বিষ মানুষের জন্য প্রাণঘা’তী, তাই কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই মানবদেহে এর প্রয়োগ ঘটাতে আরও সময় লাগবে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

এ বিষয়ে গবেষক হার্ভে ম্যাকেসির ভাষ্য, ক্যান্সার চিকিৎসায় সাপের বিষ নিয়ে বর্তমান গবেষণা স্বর্ণ বাছাই করার প্যানের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে।

অর্থাৎ গোল্ড প্যানের সাহায্যে যেভাবে খাদ থেকে খাঁটি স্বর্ণ বের করে আনা হয়, তেমনিভাবে এর প্রয়োগিক বিষয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরাা।

শেয়ার করুন !
  • 243
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!