আর কোনো যৌ’নকর্মীর জানাজা পড়াবেন না, বললেন সেই ইমাম

0

রাজবাড়ী প্রতিনিধি:

চলতি মাসের ২ ফেব্রুয়ারি প্রথা ভেঙে দৌলতদিয়ার একজন যৌ’নকর্মীর জানাজা পড়িয়ে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছিলেন মসজিদের ইমাম। দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে সারা বিশ্বের বড় বড় গণমাধ্যমগুলোতে যাকে নিয়ে প্রশংসা হয়েছে, এবার তিনি বলছেন, ভবিষ্যতে আর কখনও কোনো যৌ’নকর্মীর জানাজা পড়াবেন না।

দৌলতদিয়া রেলস্টেশন মসজিদের ইমাম গোলাম মোস্তফা বলেন, হামিদা বেগমের জানাজা পড়ানোর পর তিনি স্থানীয়ভাবে সমালোচনার মুখে পড়েছেন।

যদিও যৌ’নকর্মীদের জানাজা বা দাফনের ব্যাপারে কোনো ধর্মীয় বিধিনি’ষেধ আছে কি না, তেমন কিছু উল্লেখ করছেন না মোস্তফা, কিন্তু তিনি বলছেন তিনি এই জানাজা পড়াতে রাজি ছিলেন না, স্থানীয় পুলিশের কর্মকর্তাদের অনুরোধে তিনি পড়িয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, এইখানে তো সমালোচনা হচ্ছে। গ্রামের লোক, দোকানদার সবাই আমার সমালোচনা করছে। এতদিন জানাজা হয়নি, আমি কেন হঠাৎ করে জানাজা পড়ালাম?

ভবিষ্যতে আর জানাজা পড়ানোর নিয়ত নেই। বিভিন্ন আলেমের সঙ্গেও কথা বলছি। তারাও নিষে’ধ করছে। পল্লীর লোকেরা অন্য কাউকে দিয়ে জানাজা, দাফন করাইতে পারে। কিন্তু আমাকে পাবে না।

থানার সেই ওসি লিখলেন, ‘স্যার ডাকবেন না’

যৌ’নকর্মীর জানাজা পড়ানোর জন্য উদ্যোগ নিয়েছিলেন যে পুলিশ কর্মকর্তা, তিনি হলেন রাজবাড়ীর গোয়ালন্দঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমান, পিপিএম।

দৌলতদিয়া যৌ’নপল্লীর এক কর্মীর জানাজা-দাফন ও কুলখানি করে বিশ্ব মিডিয়ায় আলোচনায় আসেন তিনি। বড় বড় আন্তর্জাতিক মিডিয়া এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে; কারণ ওই যৌ’নপল্লীর কর্মীদের কখনো দাফন-কাফন করা হতো না। এবার তিনি নিজ কার্যালয়ের সামনে একটি ব্যানার টানিয়ে ব্যাপকভাবে আলোচনায় এসেছেন।

মুজিববর্ষে পুলিশের স্লোগান ছিল, ‘মুজিববর্ষের অঙ্গীকার, পুলিশ হবে জনতার’। আশিকুর রহমান যেন বিষয়টিকে বাস্তবে পরিণত করলেন। গোয়ালন্দঘাট থানার ফেসবুক আইডিতে নিজের অফিস কক্ষের দরজার সামনে টাঙানো একটি ব্যানারের ছবি পোস্ট করেন ওসি আশিকুর। যাতে লেখা রয়েছে, ‘মুজিব বর্ষের অঙ্গীকার, পুলিশ হবে জনতার। ইহা একজন গণকর্মচারীর অফিস। যে কোনো প্রয়োজনে এ অফিসে ঢুকতে অনুমতির প্রয়োজন নেই। সরাসরি রুমে ঢুকুন। ওসি’কে স্যার বলার দরকার নাই।’

এ বিষয়ে ওসি আশিকুর বলেন, আমি তো প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। আমি তো বলব এটাই হওয়া উচিত। জনগনের ট্যাক্সের টাকায় আমাদের বেতন হয়। সুতরাং, জনগনকে সেবা করাই আমাদের কাজ।

এদিকে আশিকুর রহমানের পোস্ট করা সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গেছে। আজকের যুগে পুলিশের প্রতি মানুষের যে বি’রূপ একটি মনোভাব রয়েছে, তা আশিকুর রহমানের মতো কর্মকর্তাদের জন্য অনেকটাই দূর হয়ে যাবে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ।

তারা এমন একটি জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ নেওয়ার জন্য আশিকুর রহমানকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন।

শেয়ার করুন !
  • 235
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!