২৪ বছর পর সালমানে শাহ্‌র মৃ’ত্যু রহস্য উন্মোচিত হলো পিবিআই’র হাতে

0

সময় এখন ডেস্ক:

নব্বই দশকের বাংলা চলচ্চিত্রের তুমুল জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ্ খু’ন হননি, তিনি আত্মহ’ত্যা করেছেন বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন পিবিআই।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডির পিবিআই হেড কোয়ার্টার্সে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান সংস্থাটির প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার।

তিনি বলেন, ৩ বছর ২ মাসের তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে চিত্রনায়ক সালমান শাহ্ খু’ন হননি, তিনি আত্মহ’ত্যা করেছেন।

আত্মহ’ত্যার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, সালমান শাহ্ ও চিত্রনায়িকা শাবনূরের অতিরিক্ত অন্তরঙ্গতা, স্ত্রী সামিরার সঙ্গে দাম্পত্য-কলহ, মাত্রাধিক আবেগ প্রবণতার কারণে একাধিকবার আত্মহ’ত্যার চেষ্টা, মায়ের প্রতি অসীম ভালোবাসা, জটিল সম্পের্কর বেড়াজালে পড়ে পুঞ্জিভূত অভিমানে রূপ নেওয়া এবং সন্তান না হওয়ায় দাম্পত্য জীবনে অ’পূর্ণতা।

বনজ কুমার বলেন, পিবিআইয়ের তদন্তের ঘটনার সময় উপস্থিত ঘটনা সংশ্লিষ্ট ৪৪ জন সাক্ষীর স্টেটমেন্ট ১৬১ ধারায় লিপিবদ্ধ করা হয়। মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়া হবে।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মা’রা যান চলচ্চিত্র নায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ্। সে সময় এ বিষয়ে অপমৃ’ত্যুর মামলা দায়ের করেছিলেন তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী।

এরপর ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হ’ত্যা করা হয়েছে অভিযোগ এনে মামলাটিকে হ’ত্যা মামলায় রূপান্তরিত করার আবেদন জানান তিনি। ওই সময় অপমৃ’ত্যুর মামলার সঙ্গে হ’ত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে থানা পুলিশের পরিবর্তে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত।

তদন্তের পর ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহ্’র মৃ’ত্যুকে আত্মহ’ত্যা বলে উল্লেখ করে সংস্থাটি। ওই মাসের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে প্রতিবেদনটি গৃহীত হয়। কিন্তু সিআইডির প্রতিবেদন প্র’ত্যাখ্যান করে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা দায়ের করেন। এর ফলে ২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠায় আদালত। এরপর প্রায় ১৫ বছরে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে ছিল।

পরে ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট ঢাকার সিএমএম আদালতের বিচারক বিকাশ কুমার সাহার কাছে বিচার বিভাগীয় তদন্তের প্রতিবেদন দাখিল করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক। ওই প্রতিবেদনেও সালমান শাহ্’র মৃ’ত্যুকে আত্মহ’ত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। আবারও ২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর সালমান শাহ্‌’র মা নীলা চৌধুরী ছেলের মৃ’ত্যুতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন প্র’ত্যাখ্যান করেন এবং বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের বিরু’দ্ধে না-রাজি দেবেন বলে আবেদন করেন।

২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নীলা চৌধুরী ঢাকা মহানগর হাকিম জাহাঙ্গীর হোসেনের আদালতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের না-রাজির আবেদন দাখিল করেন। না-রাজি আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ ১১ জন তার ছেলে সালমান শাহ্’র হ’ত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন।

পরে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় র‌্যাবকে। কিন্তু র‌্যাবের তদন্ত চলাকালে বেশ কয়েকবার শুনানি নিয়ে ২০১৬ সালের ১৯ মে মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লা বি’ব্রত বোধ করে ঢাকার ৬ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে মামলার নথি পাঠিয়ে দেন। এ আদালতের বিচারক মো. ইমরুল কায়েস ওই বছরেরই ২১ আগস্ট র‌্যাবের মাধ্যমে পুনঃতদন্তের (অধিকতর) আদেশ আইনসম্মত হয়নি উল্লেখ করে বিষয়টি আবারও শুনানি নেওয়ার জন্য ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমকে দায়িত্ব দেন।

এর ধারাবাহিকতায় মহানগর হাকিম লস্কর সোহেল রানা না-রাজি আবেদনের ওপর আবারও শুনানি নেন। পরে ৭ ডিসেম্বর শুনানির পর সালমান শাহর মৃ’ত্যুর ঘটনা হ’ত্যা না আত্মহ’ত্যা— তা নির্ধারণের জন্য র‌্যাবের বদলে পিবিআইকে দায়িত্ব দেন।

এরপর সবশেষ গত ২ ফেব্রুয়ারি আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় নির্ধারণ ছিল। কিন্তু ওই দিন প্রতিবেদন দাখিল না করে পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা পুনরায় সময় চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত আগামী ৩০ মার্চ তারিখে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

শেয়ার করুন !
  • 211
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply