খাবারের মোড়কে বিক্রয়মূল্য না থাকায় ৬টি প্রতিষ্ঠানকে জরি’মানা

0

সময় এখন ডেস্ক:

ভোক্তা অধিকার আইন অনুযায়ী প্যাকেটজাত পণ্যের মোড়কে উৎপাদন, মেয়াদো;ত্তীর্ণের তারিখ এবং বিক্রয়মূল্য উল্লেখ থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু তারপরও তা মানছে না অনেক প্রতিষ্ঠান। এ অপরাধে ৬টি প্রতিষ্ঠানকে জরি’মানা করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং টিম।

মঙ্গলবার রাজধানীর ওয়ারী, পল্টন ও বায়তুল মোকাররম এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ জরি’মানা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মণ্ডল।

তিনি জানান, আজ রাজধানীর ওয়ারী, পল্টন ও বায়তুল মোকাররম এলাকায় বাজার তদারকিমূলক অভিযান চালানো হয়। ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের সহজে দৃশ্যমান কোন স্থানে পণ্যের মূল্যের তালিকা প্রদর্শন করার বিধান থাকলেও আদা, রসুন, পেঁয়াজসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য তালিকা সহজে দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করছে না।

এছাড়া কেক পাউরুটি ও বিস্কুটের প্যাকেটে উৎপাদন, মেয়াদো’ত্তীর্ণের তারিখ এবং বিক্রয় মূল্য লেখার নিয়ম রয়েছে তাও যথা নিয়মে পরিপালন করছে না। এসব অপরাধে ৬টি প্রতিষ্ঠানকে ৪১ হাজার টাকা জরি’মানা করা হয়। এর মধ্যে বাবলু স্টোরকে ১ হাজার টাকা, গ্রামীণ সুইট মিটকে ১০ হাজার টাকা, অলিম্পিয়া বেকারি অ্যান্ড কনফেকশনারীকে ১০ হাজার টাকা, মনোরম স্ন্যাক্সকে ১০ হাজার টাকা, স্বর্ণা স্ন্যাক্সকে ৫ হাজার টাকা এবং বেঙ্গল স্ন্যাক্সকে ৫ হাজার টাকা জরি’মানা করা হয়।

খাবারের প্যাকেটে স্ট্যাপলার পিন ব্যবহার করলে ৩ লাখ টাকা জরি’মানা

খাবারের প্যাকেটে স্ট্যাপলার পিন বা ধাতব কোনো বস্তু ব্যবহার করা যাবে না। একই সঙ্গে চা/কফি বা গরম খাবার/পানীয় পরিবেশনের ক্ষেত্রে নিম্নমানের ও রিসাইকেলড প্লাস্টিক কাপ/বক্স/পাত্র ব্যবহার করা যাবে না। পাশাপাশি নিম্নমানের রিসাইকেলড পলিথিন বা খবরের কাগজ; খাবারের মোড়ক হিসেবে ব্যবহার না করতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এসব ব্যবহার করলে সর্বনিম্ন ৩ লাখ টাকা জরি’মানা করা হবে।

মঙ্গলবার বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় এ-সংক্রান্ত গণবিজ্ঞপ্তি দিয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে প্রণীত নিরাপদ খাদ্য আইন মেনে চলার জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে সংস্থাটি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এতদ্বারা সংশ্লিষ্ট সবার জ্ঞাতার্থে জানানো যাচ্ছে যে, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ কর্তৃক খাদ্যস্পর্শক প্রবিধানমালা, ২০১৯ (এস,আর,ও নং ২৫৭-আইন/২০১৯) প্রকাশিত হয়েছে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট খাদ্যস্পর্শক ব্যবসায়ী, খাদ্য ব্যবসায়ী ও জনগণকে এ বিধিমালা সম্পর্কে অবহিত হওয়ার জন্য অনুরো’ধ করা যাচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে খাদ্যের নিরাপদ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় খাদ্যস্পর্শক প্রস্তুতকারী ও ব্যবসায়ী, খাদ্য মোড়কজাতকারী প্রতিষ্ঠান, খাদ্য ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।

নির্দেশনার মধ্যে আছে- খাদ্যস্পর্শক ও খাদ্যের মোড়ক উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল স্বাস্থ্যসম্মত ও যথাযথ মানসম্পন্ন (Food Grade) হতে হবে, খাদ্যের মোড়ক/প্যাকেটে ধাতব স্ট্যাপলার/পিন/সেফটি পিন বা ধাতব বস্তু ব্যবহার করা যাবে না, ঐ খাদ্যের মোড়ক হিসেবে নিম্নমানের ও রিসাইকেলড পলিথিন, পুরনো খবরের কাগজ অথবা লিখিত কাগজ ইত্যাদি ব্যবহার করা যাবে না। চা/কফি বা গরম খাবার/পানীয় পরিবেশনের ক্ষেত্রে নিম্নমানের ও রিসাইকেলড প্লাস্টিক কাপ/বক্স/পাত্র ব্যবহার করা যাবে না।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ এবং এর অধীন প্রণীত বিধিমালাসমূহ মেনে চলুন এবং স্বাস্থ্যসম্মত নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করুন। নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ এর ল’ঙ্ঘন শা’স্তিযোগ্য অপরাধ। এ শা’স্তি সর্বোচ্চ ৫ (পাঁচ) বছর পর্যন্ত কারাদ’ণ্ড বা ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরি’মানা হতে পারে।

শেয়ার করুন !
  • 52
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!