নুরুদের মোদিবিরো’ধী আন্দোলনের নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছেন তারেক!

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পত’ন ঘটানোর চিন্তায় বিভোর বিএনপি নানা পরিকল্পনাতে ব্যস্ত সব সময়। দেশে উদ্ভূত যে কোনো জটলা, সমাবেশ, আন্দোলন, দাবীর সাথে তারা একাত্মতা ঘোষণা করে। তাতে কমন কয়েকটি ইস্যু জুড়ে দেন দলের নেতাকর্মীরা। তার মধ্যে থাকে- বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি, তারেক রহমানের মামলা প্র’ত্যাহার এবং অবশ্যই সরকারের পদত্যাগ।

বিগত কয়েকটা বছর এভাবেই চলছে। তাতে দেখা গেছে, বিভিন্ন দাবী নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, পরিবহন শ্রমিকদের বিক্ষো’ভ কর্মসূচি, গ্যাস বা বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি নিয়ে আন্দোলনসহ নানাবিধ ইস্যুতে বিএনপি তাদের নিজস্ব দাবিগুলো জুড়ে সংহতি প্রকাশ করেছে। আর এসব আন্দোলনে দলীয় নেতাকর্মীদেরকে সম্পৃক্ত করতে খরচাপাতি ও দিক নির্দেশনাগুলো আসে লন্ডন থেকেই। এমনটাই জানা গেছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর হাতে আসা তথ্য থেকে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে হ’ত্যা ও ধ-র্ষণের গুজব সৃষ্টি করে অ’স্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরীতে কাজ করেছিল বিএনপির নিয়ন্ত্রণাধীন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের কিছু পেজ ও গ্রুপ থেকে। গুজব সৃষ্টিকারী পেজগুলোকে অর্থের মাধ্যমে প্রমোট করা হয়েছিল লন্ডন থেকেই। যা পরে পুলিশের সাইবার ইউনিটের অনুসন্ধানে জানা যায়। এ কাজে সক্রিয় একটি বিশেষ সিন্ডিকেট। বিভিন্ন সময় সরকারবিরোধী অপ’প্রচারগুলোও একইভাবে চালানো হয়। কিছুদিন আগেই ব্যাংক বন্ধ হয়ে গেলে আমানতকারীরা অর্থ ফিরে পাবে না বলে আরেকটি গুজব ছড়ায় সিন্ডিকেটটি।

কিন্তু সরকারের দায়িত্বশীল সংস্থাগুলো এসব গুজব ও অপ’প্রচারের জবাব দিয়ে যাচ্ছে পত্র-পত্রিকায় বিবৃতি ও কর্মকর্তাদের বক্তব্যের মাধ্যমে। সম্প্রতি এনআরসি ও সিএএ নিয়ে সৃষ্ট সহিং’সতায় অ’স্থিতিশীল হয়ে ওঠে ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ। আর তাতে প্রাণ হারান অনেক নাগরিক। এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে সক্রিয় ভারতবি’দ্বেষী একটি অংশ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ডাকসু ভিপি নুরু ও তার সঙ্গীরা, হেফাজতে ইসলামসহ কয়েকটি রাজনৈতিক সংগঠন চালিয়ে যাচ্ছে নরেন্দ্র মোদিবিরো’ধী প্রচারনা। আর এই আন্দোলনের নেপথ্যে আবারো কলকাঠি নাড়তে শুরু করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান। লন্ডন থেকে এমনটিই জানিয়েছে স্থানীয় প্রবাসী সাংবাদিকরা।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে নরেন্দ্র মোদির আগমনকে প্র’তিহত করার লক্ষ্য ডাকসু ভিপি নুরু গত বুধবার ঢাবির রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত প্র’তিবাদ সমাবেশে হুম’কি দিয়ে বলেন, মোদির মতো সাম্প্র’দায়িক ব্যক্তিকে কখনোই বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর মতো মহৎ অনুষ্ঠানে আমরা অংশগ্রহণ করতে দেব না। মোদি বাংলাদেশে এলে ছাত্রসমাজ র’ক্তগঙ্গা বইয়ে দেবে।

বঙ্গবন্ধুকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে নুরু বলেন, বঙ্গবন্ধু কোনো দলের নেতা নন। তিনি বাংলার সমস্ত শ্রেণি-পেশার মানুষের নেতা। তিনি বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের নেতা। তার জন্মদিনে কখনোই মোদি আসতে পারে না। মোদির মতো স্বীকৃত সাম্প্র’দায়িক কেউ জাতির জনক শেখ মুজিবের জন্মবার্ষিকীতে আসে তাহলে বাংলাদেশের মানুষ তা মেনে নেবে না।

নুরু আরও বলেন, মুজিববর্ষের অনুষ্ঠান একটি পবিত্র অনুষ্ঠান। এটি বাঙালির আশা-আকাঙ্খার দিন। আমরা যে যেই রাজনৈতিক দল করি না কেন মানুষের মুক্তি সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর অবদানকে অ’স্বীকার করতে পারি না। বঙ্গবন্ধুর প্রতি আমাদের হক রয়েছে। তাই বঙ্গবন্ধুর অনুষ্ঠানকে মোদিকে এনে আমরা কল’ঙ্কিত করতে দেব না।

ডাকসু ভিপির এমন বক্তব্যের পর তার সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে দেশের বিভিন্ন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘা’পটি মে’রে থাকা নিবন্ধন হারানো সংগঠন জামায়াত শিবিরের কর্মীরা। তারা বাংলাদেশের সাধারণ মুসলমানদের ধর্মীয় ভাবাবেগকে কাজে লাগিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় মিছিল সমাবেশের ডাক দেয়। আর এর পেছনে অর্থায়ন করা হয়েছে লন্ডন থেকে। কয়েকটি বিশ্বস্তু সূত্রে জানা গেছে বিষয়টি। ইতিপূর্বে ভিপি নুরুর সাথে তারেক রহমানের যোগযোগ ও আর্থিক লেনদেরন বিষয়টি কয়েকটি গণমাধ্যমে উঠে এসেছিল। যেখানে সম্পৃক্ত হয়েছিল নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার নামও।

তারেক রহমানের ইন্ধনের বিষয়ে অনেকের মনে কিছুটা খট্‌কা থাকলেও আজ তা পরিষ্কার করে দিয়েছেন বিএনপির সাবেক এমপি মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। আজ তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেয়া এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, মোদিবিরো’ধী ইস্যুটি গুরুত্বের সঙ্গে নিতে পারলে দেশমাতার মুক্তি সহজেই অর্জন করা সম্ভব। সুযোগ হাতছাড়া হলে মুক্তি দীর্ঘায়িত হবে। মোদিবিরো’ধী আন্দোলন সফলভাবে ব্যবহার করতে পারলে সরকার পত’ন অনেক সহজ হয়ে যাবে।

মেজর আখতার আরও বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে মোদিবিরো’ধী আন্দোলন গড়ে তোলা উচিত। এতে আন্দোলনের প্রথম অবস্থানে তারেক রহমান চলে আসবে; যার ফলে নেতৃত্ব তারেক রহমান দেবেন এবং দায় এবং সুবিধা দুটিই তিনিই ভোগ করবেন।

এতেই স্পষ্ট হয়, মোদিবিরো’ধী এই আন্দোলনটা আসলে বিএনপির সৃষ্ট একটি হুজুগ। যাতে তারেক রহমান তার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করতে পারেন। ক্ষমতাসীন সরকারকে বি’পাকে ফেলা ও খালেদা জিয়ার মুক্তির পথ সুগম করা- এসব কিছুই একসূত্রে গাঁথা। তাই রাজনীতি বিশ্লেষকদের ধারণা, মোদিবিরো’ধী আন্দোলনের লক্ষ্য উদ্দেশ্য যা-ই হোক না কেন, ফায়দা নেয়ার সুযোগ শতভাগ তারেক রহমানের।

শেয়ার করুন !
  • 1.3K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!