যার-তার সাথে ছবি তুলে বি’পাকে নেতারা, আসছে নির্দেশনা

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

পাপিয়াকান্ডে এখন আওয়ামী লীগের মধ্যে নানা রকম আলোচনা চলছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের অনেক বড় বড় নেতার সঙ্গে পাপিয়ার সেলফি-ছবি দলটিকে বিব্র’তকর অবস্থার মধ্যে ফেলছে। যদিও দলের অধিকাংশ সিনিয়র নেতারা, যাদের সঙ্গে পাপিয়ার ছবি উঠেছে, তারা বলছেন, তারা এই পাপিয়াকে চিনতেনই না! কেউ যদি তাদের সাথে এসে ছবি তোলে তাহলে তারা কী করবেন?

দেখা গেছে, রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতার সঙ্গে পাপিয়ার ছবি। প্রশ্ন উঠেছে, পাপিয়া এতদূর গেলেন কীভাবে? কীভাবে তাদের কাছে পৌঁছালেন? উত্তরে অবশ্য আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেছেন, যেহেতু পাপিয়া নরসিংদী বাংলাদেশ মহিলা যুবলীগের নগর সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, সেহেতু কোন নেতার কাছে যাওয়া তার জন্য তেমন কোন বড় ব্যাপার ছিল না।

কিন্তু দেখা গেছে, নেতারা এখন যতই বলুক যে তারা তাকে চেনেন না কিংবা জানতেন না, শুধুমাত্র পাপিয়ার পদবীর কারণেই তারা ছবি তুলেছেন। কিন্তু সারা বাংলাদেশে ৬৪টি জেলা রয়েছে। কয়টি জেলার সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে এরকম ছবি তোলার সুযোগ হয়? এর উত্তরে আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, যেহেতু পাপিয়ার উদ্দেশ্য ছিল, রাজনীতিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা এবং রাজনৈতিক পরিচয়কে ব্যবহার করে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের উপর প্রভাব বিস্তার করা। সে কারনেই তিনি উদ্দেশ্যপ্রণেদিতভাবে ছবি তুলেছেন। আর এভাবে যদি কেউ সুকৌশলে স্বার্থ হাসিলের জন্য প্ল্যান করে ছবি তোলে তাহলে কার কী করার আছে?

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক মহলে বিষয়টি আলোচনা হয়েছে। আওয়ামী লীগের অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতাই মেয়েদের সঙ্গে সখ্যতা রাখতে পছন্দ করেন, ফেসবুকে তাদের একাধিক নারীবন্ধু রয়েছে এবং পুরুষ কর্মীদের সাথে যতটা ভাবগাম্ভীর্য রাখেন, নারী কর্মীদের সামনে ততটাই উদারতা এবং হাস্যরসে মেতে থাকেন। এটি দলের জন্য বিব্র’তকর। সাম্প্রতিক সময়ে পাপিয়া কেলে’ঙ্কারির পর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা এ ব্যাপারে নড়েচড়ে বসেছেন। নারী কর্মীরা এলে তাদেরকে ঠিকভাবে না চিনেই একসাথে ছবি তোলা উচিৎ কি না, এই বিত’র্কটি এখন আওয়ামী লীগে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রী নিজেই যার-তার সাথে ছবি না তুলতে পরামর্শ দিয়েছেন। যাদেরকে চেনেন না, তাদের সাথে ছবি তুলে নিজের ইমেজ এবং ব্যক্তিত্ব ন’ষ্ট না করাটাই উত্তম বলে প্রধানমন্ত্রী দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতাকে পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই একসাথে ছবি তুললেও অনেকেই পাপিয়াকে চেনেন না। কখনো দেখা হয়েছে কি না তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। তাহলে রাজনৈতিক অঙ্গনে যাকে আপনি চেনেন না, যাকে আপনি আবার দেখলে মনেও করতে পারবেন না, তার সাথে ছবি তোলা কেন? রাজনীতিতে এখন অনেক দু’র্বৃত্তায়ন, অনেক সুযোগসন্ধানী, অনেক বহিরাগতদের অনু-প্রবেশ ঘটেছে। তাই এইসময় সবাইকে অনেক সত’র্ক থাকা উচিৎ বলে মনে করেন দলের নীতিনির্ধারকরা।

বিশেষ করে অপরিচিত যারা দলে উড়ে এসে জুড়ে বসেছেন, তারাই ছবি তোলার ব্যাপারে আগ্রহী, আওয়ামী লীগের যারা পোড় খাওয়া, ত্যাগী, দুর্দিনের কর্মী- তারা কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে ছবি বা সেলফি তোলায় আগ্রহী নয়। এ ব্যাপারে সত’র্কতা আসছে কেন্দ্রীয় নেতাদের থেকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, খুব শীগ্রই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, সেই বৈঠকে আরো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা আসতে পারে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে, কয়েকজন নেতার নারী কর্মীদের ব্যাপারে ‘অতি উদারতা’ তাদেরকে বিপদে ফেলতে পারে। ইতিমধ্যে তাদেরকে নিয়ে নানারকম হাস্যরস শুরু হয়েছে।

এই বিষয়টি মাথায় রেখে, শুধু নারী নয়, নারী-পুরুষসহ যে কোনো কর্মীর সঙ্গে ছবি তোলার আগে যাচাই-বাছাই করা উচিৎ বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের পোড় খাওয়া নেতারা। আর এই ব্যাপারে কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে নির্দেশনা না আসলেও বিষয়টি নিয়ে যে কেন্দ্রীয় কমিটিতে আলোচনা হবে- সেটা নিশ্চিত।

বাংলাইনসাইডার

শেয়ার করুন !
  • 315
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!