ধ-র্ষণ বন্ধে এগিয়ে আসতে হবে পুরুষদেরকে: শেখ হাসিনা

0

সময় এখন ডেস্ক:

মহান মুক্তিযু’দ্ধে নারীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মহান মুক্তিযু’দ্ধে নারীদের অগ্রণী ভূমিকা ছিল। এছাড়া প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে নারীদের ভূমিকা প্রশংসা করার মতো। বর্তমানে দেশে এমন কোনো সেক্টর নেই, যেখানে নারীরা তাদের যোগ্যতার প্রমাণ দিচ্ছেন না।

আজ ৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা ধর্ষ-ণ করে তারা পশুর চেয়ে অধম। পাকিস্থানিরা ৭১ সালে মেয়েদের ওপর নির্যা’তন চালিয়েছিল। আমাদের দেশের কিছু দালাল মেয়েদের পাকিস্থানিদের হাতে তুলে দিয়েছিল। ধর্ষ-ণ ঠেকাতে তিনি পুরুষদের সহযোগিতার কথা বলেন। এ ক্ষেত্রে পুরুষদের এগিয়ে আসতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, আজকের এই দিনে মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়ার কথা মনে পড়ছে। বেগম রোকেয়া যদি নারীদের প্রতি পড়াশোনার উদ্যোগ না নিতেন, তাহলে আজ হয়তো নারীরা এ পর্যায়ে আসতে পারত না।

তিনি বলেন, আমার মা বাবাকে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছেন বলেই বাবা দেশের মানুষের সেবা করতে পেরেছেন। তিনি কোনোদিন সংসারের চাপ কাঁধে নেননি। ছেলে-মেয়েদের দেখাশোনা লেখাপড়ার দায়িত্ব ছিল মায়ের ওপরে। আমার বাবাকে গু’লি করে হ’ত্যা করার পরে মাকে বলা হয়েছিল তাদের সঙ্গে যাওয়ার জন্য। কিন্তু মা বলেছিলেন, তাকে যেহেতু গু’লি করে হ’ত্যা করেছো আমাকেও গু’লি করে হ’ত্যা করো। এরপর তারা আমার মাকে গু’লি করে হ’ত্যা করে। ৭৫-এর ১৫ আগস্ট শুধু আমার মা-বাবা, ভাই-বোন নয়, আমার মেজ ফুফু, সেজ ফুফুর বাসায়ও আক্র’মণ করা হয়।

চীন ভ্রমণের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু যখন চীন ভ্রমণ করেছেন তখন শুধু তিনি ভ্রমণই করেননি। সেখানে নারীর অধিকার কেমন ছিল, তারা কী করছে সে কথাও তিনি লিখে গেছেন তার ভ্রমণ কাহিনীতে।

মুক্তিযু’দ্ধের সময় নারীদের ধর্ষ-ণ এবং নির্যা’তনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্থানি হানাদার বাহিনী নারীদের ওপর নির্যা’তন এবং অত্যা’চার করেছিল। তার ফলে অনেকেই পরিবারে ফিরে যেতে পারেনি। অনেক বাবা-মা তাদের ফিরিয়ে নেয়নি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সুইজারল্যান্ড এবং ইংল্যান্ড থেকে ডাক্তার এনে তাদের চিকিৎসা করেছিলেন। তাদের অনেককে বীরাঙ্গনা উপাধি দেয়া হয়েছে।

আমার মা নিজে দায়িত্ব নিয়ে তাদের বিয়ে দিয়েছেন। কাবিননামায় যখন বাবার নামের কথা উল্লেখ করতে বলা হয়েছে, তখন বঙ্গবন্ধু বলেন- ‘লিখে দে বাবার নাম শেখ মুজিবুর রহমান, রোড নাম্বার ৩২, বাড়ির নাম্বার ৬৭৭’। পাকিস্থান শাসনামলে মেয়েরা বিচারক হতে পারতো না। বঙ্গবন্ধু সে আইন পরিবর্তন করেছিলেন। মেয়েরা আজ বিচারক হচ্ছে।

করোনা ভাইরাসের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা এখন একটা বড় সমস্যা। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দিক-নির্দেশনা দিচ্ছে। আপনারা সবাই সেই দিক-নির্দেশনা মেনে চলবেন। সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবেন। তাহলে যে কোনো সমস্যা আমরা সমাধান করতে পারব।

অনুষ্ঠানে ৫ জন মহীয়সী নারীকে জয়িতা পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরা।

শেয়ার করুন !
  • 313
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!