বাংলাদেশকে বদলে দিয়েছেন যে মহিয়সী নারীরা

0

ফিচার ডেস্ক:

শুধু নারী জাগরণ নয়, বাংলাদেশকে বদলে ফেলার ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা প্রশংসনীয় এবং অনুকরনীয়। আজকের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় বহু অগ্রগামী নারীর অবদান রয়েছে। তাদের অর্জনের খাতা এতটাই সমৃদ্ধ যে ছোট একটা কলামে সেসব তুলে ধরা বেশ কঠিন। তারপরও নারী দিবসে মহীয়সী এই নারীদের স্মরণ করতেই হয়।

বেগম রোকেয়া

খুব বেশি কাল আগের কথা নয়। এখন আমরা নারীরা যে অবাধে পড়াশুনার পাশাপাশি চাকরি করতে পারছি, ১৯ শতকের দিকে মেয়েরা যে বাড়ির বাইরে পা রাখবে, সেই কথাটাই কেউ চিন্তা করতে পারতো না! কিন্তু সময়ের সাথে সাথে মানুষের চিন্তাধারা বদলায়, সেই সাথে বদলে যায় সমাজব্যবস্থা। কিন্তু এই পরিবর্তন কি হঠাৎ করেই চলে আসে? নিশ্চয়ই না। সমাজে পরিবর্তন আনতে চাইলে প্রয়োজন একজন সমাজসংস্কারক। আর নারীদেরকে অন্ধকার কূপ থেকে টেনে আনতে যিনি সবার আগে নিজের হাত কূপের দিকে বাড়িয়েছিলেন, তিনি হলেন বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন, যাঁকে আমরা সবাই ‘বেগম রোকেয়া’ নামেই জানি।

নারীশিক্ষার প্রসারে বেগম রোকেয়া আমৃ’ত্যু কাজ করে গিয়েছেন। নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা, নারীর ক্ষমতায়ন, ভোটাধিকারের জন্য ল’ড়াইটা শুরু করেছিলেন বেগম রোকেয়া। বেগম রোকেয়া তার জীবন সংগ্রামের মাধ্যমে বুঝতে পেরেছিলেন যে শিক্ষা ছাড়া নারীর মুক্তি নেই। কেননা একমাত্র শিক্ষাই পারবে আমাদেরকে যুক্তির আলোয় নিয়ে আসতে নিজেদের প্রাপ্য সম্মান পাওয়ার জন্য শিক্ষার বিকল্প নেই। মেয়েদের জন্য বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে যেয়ে তাকে কম গ’ঞ্জনা শুনতে হয়নি। ঘরে ঘরে যেয়ে তিনি মেয়েদেরকে বিদ্যালয়ে আসতে অনুরোধ করতেন। কিন্তু তিনি থেমে যাননি। অমানুষিক ও নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা হাজারের দিকে যায়।

তার লেখায় মনে হত যেন আগুনের ফুলকি বের হচ্ছে। একেকটা কথা ছিল আগুনের গোলা। সেই আগুনের গোলাগুলো ছিল অবরো’ধবাসিনীদের আর্তচিৎকার৷ তিনি শুধু সমাজ পরিবর্তনের পরিকল্পনাই করেননি, তা বাস্তবায়নও করে দেখিয়েছেন। তিনিই প্রথম বাঙালি নারী, যিনি মেয়েদেরকে আলোর দিকে নিয়ে এসেছেন, তাদের অধিকার নিয়ে কাজ করেছেন এবং স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার পথ বাতলে দিয়েছেন।

ইলা মিত্র

দেশ মাতৃকার টানে ব্রিটিশ সামাজ্যবাদ, আধি’পত্যবাদের বিরু’দ্ধে শাসন থেকে মুক্ত করতে যেসব বিপ্লবী তাদের জীবন’বাজি রেখে ল’ড়াই-সংগ্রাম করেছেন, নারী ও দরিদ্র অ’সহায় কৃষকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন-সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদের অন্যতম নাচোলের রানী খ্যাত ইলা মিত্র। শত অত্যা’চার নির্যা’তনকে উ’পেক্ষা করে জমিদারের গৃহবধূ সাদামাটা জীবন কাটিয়েছেন। বঞ্চি’তদের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। শত শত বিঘা জমি দান করে গেছেন কৃষকদের নামে।

ইলা সেন লেখাপড়া করেছিলেন বেথুন স্কুল আর বেথুন কলেজে। তিনি কিন্তু ছোটবেলাতেই নিজের অসাধারণত্বের প্রমাণ রেখে চলেছিলেন। সাঁতার, বাস্কেটবল, ব্যাডমিন্টন- কীসে সেরা ছিলেন না তিনি? প্রথম বাঙালি মেয়ে হিসেবে ১৯৪০ সালের জাপান অলিম্পিকের জন্য নির্বাচিত হলেও, ২য় বিশ্বযু’দ্ধের কারণে সেবার আর অলিম্পিকের আসরই বসেনি। কিন্তু ঈশ্বর তার নিয়তি লিখেছিলেন রাজনীতিতে। হিন্দু কোড বিলের বিরু’দ্ধে কলকাতা মহিলা সমিতির সক্রিয় সদস্য হিসেবে আন্দোলন শুরু করেন। ১৮ বছর বয়সে কম্যুনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন।

১৯৪৫ সালে ইলা সেনের বিয়ে হয় রামেন্দ্র মিত্রের সাথে। জমিদার বংশের ছেলে হয়েও কম্যুনিস্ট পার্টির সদস্য ও দেশকর্মী ছিলেন রামেন্দ্র। ইলা মিত্র থেকে রানীমা হয়ে ওঠা কিন্তু একদিনের যাত্রা ছিল না। তখনকার দিনে নারীদের জন্য অবরো’ধ প্রথা ছিল ভ’য়ানক। জমিদার বাড়ির বউ হয়ে ইলা মিত্রকে অনেকগুলো দিন অন্দরমহলেই কাটাতে হয়েছিল। সেখান থেকে আস্তে আস্তে তিনি ইলা মিত্র হন। ব্রিটিশ সরকার থেকে তিনি পাকিস্থান সরকারের বিরু’দ্ধে আন্দোলন করেছেন। যার ফলে শাসকদের বহু অত্যা’চারও সহ্য করতে হয়েছে। জেলে গিয়ে অত্যা’চারে মৃ’ত্যুর দিকে ধাবিত হয়েছেন। কিন্ত ‍কখনো মাথা নত করেননি।

প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার

শৈশবে তাকে সবাই ডাকতো রাণী বলে। বিপ্লবী জীবনে তার ছদ্ম নাম ছিলো ফুলতার। তিনি ২১ বছর, ৪ মাস ১৯ দিনের একটি জীবনযাপন করে গেলেন। আর পৃথিবীর ইতিহাসে অমরত্বের ফলকে নিজের নামটি লিখে গেলেন।

একজন বাঙালী রমণী, যিনি ব্রিটিশবিরো’ধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম নারী মুক্তিযো’দ্ধা ও প্রথম বিপ্লবী মহিলা শহীদ। ব্রিটিশবিরো’ধী আন্দোলনের প্রথম আত্মা’হুতি দেয়া মহান বিপ্লবী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার। মাস্টারদা’র নেতৃত্বে ১৯৩২ সালের ২৩ মতান্তরে ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে চট্টগ্রামের ইউরোপীয়ান ক্লাব আক্র’মণে সফল হন প্রীতিলতাসহ বিপ্লবীরা। আক্র’মণ শেষে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সময় একজন অফিসারের গু’লিতে প্রীতিলতা আহত হন। প্রীতিলতা আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, ব্রিটিশদের হাত থেকে বাঁচতে ক্লাব আক্র’মণের পরেই তিনি আত্মহ’নন করবেন, আর তাই পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ক্লাব আক্র’মণ শেষে তিনি পটাশিয়াম সায়ানাইড গ্রহণ করেন।

ফজিলতুন্নেসা জোহা

নানা বিশেষণে বিশেষায়িত। তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মুসলিম ছাত্রী। এছাড়া বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গনের ইতিহাসে তিনিই প্রথম স্নাতক ডিগ্রিধারী। তিনি দেশের প্রথম নারী অধ্যক্ষ ছিলেন। দীর্ঘদিন ঢাকার ইডেন কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। ১৯৫২ সালে ইডেন কলেজের মেয়েরা রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে কলেজের অভ্যন্তর থেকে মিছিল বের করার প্রস্তুতি নিলে উর্দুভাষী এক দারোগা হোস্টেলে ঢুকে মেয়েদের ভ’য়ভীতি দেখাতে শুরু করে।

এক পর্যায়ে খবর পেয়ে বেগম ফজিলাতুন্নেছা কলেজে এসে তার বিনা অনুমতিতে কলেজ প্রাঙ্গণে ঢোকার জন্য দারোগাকে ভর্ৎসনা করে নিজের দৃঢ়তা ও প্রশাসনিক ক্ষমতার বলে হোস্টেল থেকে বের করে দেন। নারী শিক্ষা ও নারীমুক্তি সম্পর্কে সওগাতসহ অনেক পত্রিকায় তার বিভিন্ন প্রবন্ধ, গল্প প্রকাশিত হয়। বাংলার রক্ষণশীল সমাজ ব্যবস্থাকে ভ্রু’কুটি দেখিয়ে অসম সাহস ও উচ্চ শিক্ষা লাভের প্রবল আকাঙ্খায় বোরকা ছেড়েছেন, বহুবিধ অত্যা’চার সহ্য করে উওরসুরী মুসলিম মেয়েদের জন্য উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করেন ফজিলতুন্নেসা।

বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব

বঙ্গবন্ধু, বাঙালি ও বাংলাদেশ যেমন একই সূত্রে গ্রথিত, তেমনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবও (যিনি বঙ্গবন্ধুর প্রিয় রেণু) পরস্পর অবি’চ্ছেদ্য নাম। ফজিলাতুন্নেছার শৈশবের সঙ্গী শেখ মুজিবুর রহমান। তারা একই পারিবারিক পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন। জীবন চলার পথে একে অপরের অ’পরিহার্যতার প্রমাণ দিয়েছেন ১৫ আগস্টের কালরাত্রিতে। খোকা থেকে মুজিব, মুজিব থেকে মুজিব ভাই, মুজিব ভাই থেকে বঙ্গবন্ধু, বঙ্গবন্ধু থেকে জাতির পিতা হয়ে ওঠার পেছনে যার অবদান অন’স্বীকার্য, তিনি হচ্ছেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব।

বঙ্গবন্ধুর সঙ্গেই তার রাজনৈতিক আন্দোলন ও সংগ্রামে বঙ্গমাতা নিজেকে যুক্ত করেছেন। তিনি ছাত্রলীগকে সব ধরনের সহযোগিতা করেছেন। ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদ, আবদুর রাজ্জাকসহ অপরাপর ছাত্রনেতার সঙ্গে সব সময় যোগাযোগ ছিল। নিজের গহনা বিক্রি করে ছাত্রলীগের সম্মেলনে টাকা দিয়েছেন। উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পত্তি থেকে আয়কৃত টাকায় তিনি অনেক মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা করেছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের দুটি ঐতিহাসিক যুগসন্ধিক্ষণের সঙ্গে বঙ্গমাতা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ১৯৬৮ সালে পাকিস্থান সরকার কর্তৃক দায়ের করা আগরতলা ষড়’যন্ত্র মামলা সম্পর্কে আমরা সবাই জানি। বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামি করে ৩৫ জন বাঙালি নৌ ও সেনাবাহিনীর সদস্য এবং উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের বিরু’দ্ধে রাষ্ট্র্রদ্রোহের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করা হয়।

বঙ্গবন্ধু এ মামলায় বিচলিত না হয়ে আইনিভাবে মোকাবেলার প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য আইনজীবীদের অর্থ জোগানোর জন্য নানাভাবে চেষ্টা করেন। এ মামলায় বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করা হলে বঙ্গবন্ধুসহ সব রাজব’ন্দির মুক্তি দাবিতে বাঙালি রাস্তায় নামে। পূর্ব পাকিস্থানের রাজপথ বিক্ষো’ভে পরিণত হয়। পূর্ব পাকিস্থানে উ’ত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পাকিস্থান সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবকেও গ্রেপ্তারের হুম’কি দেয়। আন্দোলনের তোড়ে কার্যত তার সরকার পিছু হটে। পাকিস্থান সরকার এ সময় লাহোরে গোলটেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণের জন্য বঙ্গবন্ধুকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। প্যারোলে মুক্তির সিদ্ধান্তে বেঁকে বসেন ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। তিনি প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে জোরালো আ’পত্তি জানান।

পূর্ব পাকিস্থানে আন্দোলনের গতি-প্রকৃতি দেখে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, পাকিস্থান সরকার শেখ মুজিবকে প্যারোলে নয়; নিঃশর্ত মুক্তি দিতে বাধ্য হবে। তিনি কারাগা’রে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্যারোলে মুক্তি নিয়ে লাহোর বৈঠকে যেতে নি’ষেধ করেন। তিনি আরও বুঝতে পেরেছিলেন, শেখ মুজিবের ব্যাপারে বাঙালি ঐক্যবদ্ধ। পাকিস্থান সরকার আগরতলা ষড়’যন্ত্র মামলা প্র’ত্যাহার করতে বাধ্য হবে। ফজিলাতুন্নেছার পরামর্শে শেখ মুজিব অ’নড় থাকেন। প্যারোলে মুক্তির ক্ষেত্রে তিনি অ’সম্মতি প্রকাশ করেন।

ইতিমধ্যে শেখ মুজিবের মুক্তি আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা গণঅ’ভ্যুত্থানে রূপ নেয়। গণঅ’ভ্যুত্থানের মুখে শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মুক্তি লাভ করেন। পরদিন অর্থাৎ ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি বাঙালি তাদের অবি’সংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে `বঙ্গবন্ধু` উপাধি দিয়ে বরণ করে নেয়। বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে প্যারোলে মুক্তি না নেওয়ার শেখ ফজিলাতুন্নেছার এই সিদ্ধান্ত যে কোনো মাপকাঠিতে অনন্য হিসেবে স্বীকৃত।

বঙ্গমাতার অপর অনন্যসাধারণ সিদ্ধান্ত হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ। আমরা জেনেছি, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের নেপথ্যে বঙ্গমাতার সঠিক পরামর্শ ছিল। বঙ্গবন্ধুকে সেই সময় তাঁর সহচররা ৭ মার্চের ভাষণের ব্যাপারে নানা পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দিচ্ছিলেন। বঙ্গমাতা এ ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুকে যা মন থেকে বলতে ইচ্ছে করে, যা বলা উচিত, তা-ই বলার পরামর্শ দিয়েছিলেন। ‘এবারের সংগ্রাম- আমাদের মুক্তির সংগ্রাম; এবারের সংগ্রাম- স্বাধীনতার সংগ্রাম’ বলে বঙ্গবন্ধুর সেদিনের স্বাধীনতার ডাকে বঙ্গমাতার মনস্তাত্ত্বিক সমর্থন বঙ্গবন্ধুকে সাহস জুগিয়েছিল। বাঙালির স্বাধীনতা ও অধিকারের সংগ্রামে ওপরে বর্ণিত এ দুটি ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহে যদি বঙ্গমাতা প্রত্যক্ষ অবদান না রাখতেন, সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ইতিহাস অন্য রকম হতে পারত।

জোহরা তাজউদ্দীন

সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন নিজ যোগ্যতায় রাজনীতির মহীরুহ হওয়ার যোগ্যতা দেখিয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী, মুক্তিযু’দ্ধের অন্যতম কাণ্ডারি তাজউদ্দীন আহমদের স্ত্রী। বলা হয়, এক অ’সামান্য দম্পতি ছিলেন তারা। স্বামীর আদর্শের ধারক-বাহক হিসেবে সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীনের আত্ম’ত্যাগ ও অ’সামান্য সাহস ইতিহাসের উপাদান হিসেবেই বিবেচিত হবে। বিয়ের আগে থেকেই তিনি ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ রাজনৈতিক কর্মী। বিয়ের পর রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকলেও স্বামী তাজউদ্দীন আহমদকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি অনবদ্য ভূমিকা রেখেছেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এবং ৩ নভেম্বর কারাগা’রে তাজউদ্দীনসহ ৪ জাতীয় নেতাকে হ’ত্যা করা হয়। সেই দু’র্দিনেও শোককে সামাল দিয়ে তাকে শক্তিতে পরিণত করার সাহস দেখিয়েছেন তিনি। পঁচাত্তর-পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ পুনর্গঠনে অসামান্য ভূমিকা রেখেছেন এই মহীয়সী নেত্রী। অ’বৈধভাবে ক্ষমতা কু’ক্ষিগতকারীদের ষড়’যন্ত্রে যখন আওয়ামী লীগের ত্রিশঙ্কু অবস্থা, তখন সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন বঙ্গবন্ধু ও তার স্বামীসহ ৪ জাতীয় নেতার গড়া আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব নিজ হাতে তুলে নেন।

স্বামী তাজউদ্দীন আহমদের মতো সৈয়দা তাজউদ্দীনও ছিলেন নির্লোভ রাজনীতিকের প্রতিকৃতি। দেশের জন্য, দলের জন্য অসামান্য অবদানই শুধু তারা রেখেছেন। চারদিকে যখন ভোগবাদীদের দাপট তখনো তিনি এবং তার পরিবারের সদস্যরা সুনীতি ও সুবিবেচনাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। আজকের আওয়ামী লীগ টিকে থাকার পেছনে তার অসমান্য অবদান রয়েছে।

শেখ হাসিনা

বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে সব সূচকে অগ্রগতি, সাফল্য আর উন্নয়নের ফানুস উড়িয়েই ৪র্থ বার ক্ষমতায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার। এই সময়ে যু’দ্ধাপরাধীদের বিচার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীসহ বিভিন্ন খাতের উন্নয়ন দেশের ভেতর-বাইরে প্রশংসিত হয়েছে। বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ এখন শুধু উন্নয়নের রোল মডেলই নয়, একটি মানবিক রাষ্ট্র হিসেবেও প্রশংসিত।

কথিত তলাবিহীন ঝুড়ির বাংলাদেশ আজ ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ার পাশাপাশি খাদ্য, বস্ত্র-চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এ সবকিছুই সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়চেতা ও সাহসী নেতৃত্বের কারণে।

শেয়ার করুন !
  • 1.1K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!