আশ্রয়দাতাদের মে’রে রোহিঙ্গাদের উল্লাস, স্থানীয়রা কোণ’ঠাসা!

0

কক্সবাজার সংবাদদাতা:

সারা বিশ্বের কাছে মানবতার এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে। কিন্তু তাঁর সেই মানবতাবোধ এবং স্থানীয়দের সৌহার্দ্য সম্প্রীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যাচ্ছে সেই রোহিঙ্গারা।

স্থানীয়দের ওপর আক্র’মণ, নির্যা’তন তো করছেই, এমনকি তাদের দ্বারা খু’নও হয়েছে অনেক। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে গিয়ে অনেকেই হারিয়েছে সহায়-সম্বল, ফসলি জমি। এমনকি ভিটে বাড়ির উঠানও।

মিয়ানমার থেকে আসা এই রোহিঙ্গাদের জন্য এক সময় চোখের পানি ফেলা স্থানীয় বাসিন্দারা আজ রোহিঙ্গাদের কাছে অ’সহায়।

স্থানীয়দের দাবি, তাদের স্কুলপড়ুয়া শিশুদেরকে পর্যন্ত কারণে অকারণে রোহিঙ্গারা দলবেঁধে এসে মা’রধর করে প্রায়ই। স্থানীয় শিশুরা খেলাধুলা করতে পারে না। ক্যাম্পের আশপাশে তাদের খেলতে দেখলে মা’রধর করে তাড়িয়ে দেয়াটা যেন রোহিঙ্গাদের জন্য এক ধরনের গৌরব! তাদের মাঝে দখ’লদারিত্বের মনোভাব ফুটে উঠেছে স্পষ্টভাবে। যেন রোহিঙ্গারা আশ্রিত নয়, স্থানীয়রাই উল্টো এখানে তাদের দয়া দাক্ষিণ্যে বেঁচে আছে!

প্র’তিবাদ করলে রোহিঙ্গারা দলবেঁধে স্থানীয়দের ওপর চ’ড়াও হয়। তুচ্ছ কারণে হাম’লা করে বসে। তাদের কারণে বাড়ছে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। সুখ-শান্তি হারাম হয়েছে স্থানীয়দের।

রোহিঙ্গা আশ্রিত এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছে, তারা নিজেদের লোকদেরও হ’ত্যা করছে, চাঁদা’বাজি করছে। মা’দক, দেহ-ব্যবসাসহ নানা অ’পকর্মের আখড়া ক্যাম্পগুলো। যতই দিন যাচ্ছে রোহিঙ্গার আরো বেশি বেপ’রোয়া হয়ে উঠছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সাবেক সেনা কর্মকর্তা আবুল কালাম বলেন, রোহিঙ্গারা পৃথিবীর সবচেয়ে অ’কৃতজ্ঞ জাতি। ১৯৯২ সালে একবার রোহিঙ্গারা এক সাথে অ’স্ত্রসহ স্থানীয়দের উপরে পাকিস্থানিদের মত ঝাঁ’পিয়ে পড়েছিল। সে সময় রোহিঙ্গারা উখিয়া-টেকনাফকে তাদের রাজ্য দাবি করে স্থানীয়দের ৩ দিনের মধ্যে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে আল্টিমেটাম দিয়েছিল। তাদের অত্যা’চারে স্থানীয়রা একদিন পালিয়ে যেতে বাধ্য হবে।

আমেনা বেগম নামের এক বায়োবৃদ্ধা নারী বলেন, জান্নাত পাবার আশায় সহায় সম্বল যা ছিলো তার সবই মোসলমান রোহিঙ্গাদের দান করে দিয়েছি। যাদেরকে দান করেছি, তারাই এখন আমার ভিটেমাটি দখ’ল করে ওপাড় থেকে নিজেদের আত্মীয়দের নিয়ে এসেছে। এখন মনে হচ্ছে চরম ভুল করেছি, তারা আসলে অ’মানুষ ও অ’কৃতজ্ঞ।

স্থানীয় দোকানদার মো. হাশেম বলেন, এদেরকে দেখে বুঝলাম মগদের আসলেই কোন দোষ নেই, রোহিঙ্গারা এমন এক জাতি, যে দেশে তাদের আশ্রয় দেয়া হবে, সে দেশটি তারা ধ্বং’স করে দেবে। স্থানীয়দের কথা না হয় বাদ দিলাম। প্রতিদিন রোহিঙ্গারা নিজেদের মধ্যে শতাধিক মা’রামারির ঘটনা ঘটাচ্ছে। এদের কারনে সুষ্ঠুভাবে ব্যবসা পর্যন্ত করতে পারছি না। বাকি দিতে দিতে ব্যবসার মূলধন পর্যন্ত শুন্য হয়ে গেছে আমার।

এ ব্যাপারে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল খায়ের জানান, রোহিঙ্গারা সংখ্যায় অনেক বেশি হওয়ার কারণে অনেক সময় অপরাধ করেও চিহ্নিত করতে না পারলে পার পেয়ে যায়। তবে পুলিশ সবসময় সজাগ দৃষ্টি রাখছে বলেও জানান তিনি।

বি’শৃঙ্খলা করলে সহ্য করা হবে না জানিয়ে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবি এম মাসুদ হোসেন বলেন, রোহিঙ্গাদের কোন ধরনের বি’শৃঙ্খলা বা নিজেদের ভিতরে মা’রামারি করলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি স্থানীয়দের প্রশংসা করে বলেন, আশা করি স্থানীয় জনগণ যেভাবে সবসময় রোহিঙ্গা বিষয়ে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করেছেন। তা অ’ব্যাহত রাখবে দেশের স্বার্থে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন জানান, রোহিঙ্গা সমস্যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। স্থানীয়দের সমস্যাটি সমাধানের চেষ্টা চলছে।

প্রসঙ্গত, সেনাবাহিনী ক্যাম্পগুলোর চারপাশে কাঁটাতার নির্মাণের কাজ করছে। যেন তারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে না পারে। এছাড়া র‌্যাব এবং অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও নিয়মিত তদারকি করছে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু রোহিঙ্গা সন্ত্রা’সী গ্রুপের সদস্যদের আটক করা হয়েছে, ক্রসফায়ারে নিহ’ত হয়েছে কয়েকজন। একই সাথে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল অ’স্ত্র ও মা’দক।

শেয়ার করুন !
  • 1.5K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!