বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে ঘর পেলেন ৮০ বছরের অন্ধ বৃদ্ধা

0

কুমিল্লা প্রতিনিধি:

দীর্ঘদিন আগেই স্বামী শহর আলী গত হয়েছেন। স্বামীর মৃ’ত্যুর পর থেকেই ৮০ বছর বয়সী বিধবা বানেছা বানু একমাত্র ছেলে ৩ মেয়ে, নাতি, নাতবউ ও তাদের সন্তান নিয়ে থাকেন বুড়িচং উপজেলার সদর ইউনিয়ের হরিপুর কলোনিপাড়ায়।

জরাজীর্ণ ভাঙাঘরে সবাইকে নিয়ে জড়সড় হয়ে কোনো রকমে রাতযাপন করতেন। সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের জমিতে কোনো রকমে ছনের তৈরি ঘরটিতে শীতে কিংবা রোদবৃষ্টি-ঝড়ে থাকতে হয়েছে এভাবেই। মাঝে মাঝে বৃষ্টির রাতে আশপাশের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিতেন গরুর ঘর কিংবা অন্যের বারান্দায়।

আকাশকুসুম কল্পনা বা স্বপ্ন নয়, বাস্তবেই বৃদ্ধা বানেছা বানু পেলেন নতুন ঘর। যেমন ঘর বানেছা বানু চেয়েছিলেন, তার চেয়েও ভালো ঘরই পেয়েছেন বানেছা।

১ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ঘরটি একেবারে বিনামূল্যে পেয়ে আবেগে কেঁদে ফেলেন তিনি। শুধু কি ঘর? না ঘরই নয়, বুড়িচংয়ের ইউএনও ইমরুল হাসানের তাৎক্ষণিক চেষ্টায় একদিনেই দেয়া হয় বিদ্যুৎ সংযোগও।

জানা যায়, পরের জমিতে শ্রম বিক্রি করা ছেলে ও তার দৃষ্টিপ্রতিব’ন্ধী নাতি নিজের সংসারই চালাতে পারেন না। কোনো দিন কাজ থাকে, তো কোনো দিন নেই। অ’সহায় বানেছা বানু ভিক্ষা করতেন বিভিন্ন রেলস্টেশনে কিংবা ট্রেনে ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে।

অনেক সময় ট্রেন করে ভিক্ষা করতে করতে চলে যান ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও সিলেটে। পেট চালানোই দায় যেখানে, সেখানে নতুন ঘর করা বানেছা বানুর জন্য আকাশকুসুম কল্পনা ছাড়া আর কিইবা হতে পারে। চোখে না দেখলেও একটি নতুন ঘরের স্বপ্ন দেখতেন হত’দরিদ্র বানেছা বানু।

সেই ঘরে নাতি নাতবউ মেয়েকে নিয়ে থাকবেন আনন্দ আর একটু আরামে। এখন আর বৃষ্টি এলে বা ঝড়ের রাতে পরের ঘরে আশ্রয় নিতে হবে না। নিজের ঘরেই থাকতে পারবেন বানেছা বানু।

তার ঘরে তাৎক্ষণিক চেষ্টায় একদিনেই দেয়া হয় বিদ্যুৎ সংযোগ ও। আলো-আধাঁরের পার্থক্য অন্ধ বানেছা বানু না বুঝলেও নাতি-নাতবউ আর মেয়ের আনন্দ-উল্লাস দেখে তার মুখে তৃপ্তি আর আনন্দের ছাপ স্পষ্টই বোঝা যায়। চোখে না দেখলেও বেড়ার জায়গায় হাতড়ে দেখেন টিন আর পায়ের নিচে মাটির বদলে সমতল পাকা মেঝে তো ঠিকই উপলব্ধি করতে পারছেন তিনি।

কাপড়ের আঁচলে চোখের আনন্দাশ্রু মুছে দোয়া করেন দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বুড়িচং উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরুল হাসান ও প্রকল্প কর্মকর্তা মোস্তফা মাইদুল মুরাদের জন্য।

আবেগাপ্লুত বানেছা বলেন, আল্লাহ তুমি শেখ হাসিনারে আমার মতো আরও যারা অ’সহায় আছে, তাদেরকে ঘর দেয়ার শক্তিসামর্থ্য দেও। আল্লাহ যেন সবাইরে সুখে শান্তিতে রাখে দোয়া করি। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে গৃহহীনদের জন্য দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন কর্মসূচি ও প্রকল্পের আওতায় বুড়িচংয়ে ২০৬টি ঘর প্রদান করা হয়।

বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরুল হাসান বলেন, বানেছা বানু কিছু দিন আগে উপজেলা অফিসে গিয়ে নিজের গৃহ সমস্যার কথা জানান। পরে তার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে তাকে একটি ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়। তাছাড়া একটি ঘর তার খুবই প্রয়োজন ছিল।

বানেছা বানুর মতো উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের পীরযাত্রাপুর গ্রামের আবদুল হান্নান, রুফিয়া খাতুন স্বামী বাবুল মিয়া, কামাল হোসেন, নাছিমা আক্তার ময়নামতি ইউনিয়নের বাজেহোরা গ্রামের প্রতিবন্ধী সোহেল মিয়া, রামপাল গ্রমের মৃ’ত বীর মুক্তিযো’দ্ধা নরেশ চন্দ্র, রাজাপুর ইউনিয়নের চড়ানল গ্রামের মুক্তিযো’দ্ধা আবুল কাশেম মাস্টার, বুড়িচং সদর পশ্চিমপাড়ার নূরজাহানসহ আরও অনেককে ঘর দেয়া হয়েছে।

যাদের জমি আছে ঘর নাই, তাদের জন্য ১ লাখ টাকা এবং গৃহহীনদের জন্য ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন এলাকায় ২০৬টি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর ও দুর্যোগ সহনীয় বাড়ি হস্তান্তর করা হয়।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে ১৭ মার্চ সকালে তাদের অনেকের মাঝেই আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর ও দুর্যোগ সহনীয় এসব গৃহ হস্তান্তর করা হয়। বর্তমান সরকার গৃহীত এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

শেয়ার করুন !
  • 1K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!