হাজারো মুসল্লি সমবেত, নেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা || দিল্লির তাবলীগ পরিস্থিতির শ’ঙ্কা

0

সময় এখন ডেস্ক:

রাজধানীর মিরপুর পাইকপাড়ার শাহ সাহেব নগর জামে মসজিদের মাইকে ১২টার দিকে ঘোষণা দেওয়া হলো, ‌আজান হবে ১টায়, খুতবা শেষে জুমার নামাজ হবে ১টা ৪৫ মিনিটে। মুসল্লিরা যেন বাসায় ওযু করে, সুন্নত নামাজ পড়ে আসেন।

একই ঘোষণা বারবার জানানো হয় মসজিদের মাইকে। তবে এ ঘোষণার পরেও অনেক মুসল্লি সাড়ে ১২টা থেকেই মসজিদে আসা শুরু করেন। মসজিদেই ওযু করে সুন্নত নামাজ পড়েন তারা।

করোনা সংক্র’মণের ঝুঁ’কি কমাতে অনেক মসজিদেই এমন ঘোষণার পরেও তা মানেননি মুসল্লিরা। অন্যদিকে আলেমদের পরামর্শে ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা) বয়স্ক ও শিশুদের মসজিদে না আসার আহবান জানালেও তারও প্রতিফলন দেখা যায়নি। প্রায় সব মসজিদেই ছিল বৃদ্ধ ও শিশুদের উপস্থিতি। এমতাবস্থায় দিল্লির তাবলীগ জামাতের জনসমাগম থেকে যেভাবে হাজারো মানুষের দেহে করোনা সংক্র’মিত হয়েছে, বাংলাদেশেও তেমন দুর্যোগ নেমে আসতে পারে বলে মত সচেতন মহলের।

আলেমদের পরামর্শে ইসলামিক ফাউন্ডেশন জুমার নামাজ ও জামাতে মুসল্লিদের অংশগ্রহণ সীমিত করার কথা বললেও তা মানা হচ্ছে না। বরং অনেক মসজিদের ভেতরে মুসল্লিদের জায়গা না হওয়ায় রাস্তায় নামাজ পড়তেও দেখা গেছে। এছাড়া, জুমার বয়ান, খুতবা, জামাত ও দোয়া সংক্ষিপ্ত করা, জামাতের কাতারে পর্যাপ্ত ফাঁকা জায়গা রেখে দাঁড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হলেও তা মানা হচ্ছে না। তবে কোনও কোনও মসজিদের প্রবেশমুখে মুসল্লিদের হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিতে দেখা গেছে। কোথাও কোথাও ওযুখানায় সাবানও দেওয়া হয়।

রাজধানীর মিরপুর, শ্যামলী, শুক্রাবাদ, মগবাজার, সার্কিট রোড, পল্টন, বায়তুল মোকাররম, ধানমন্ডি, কলবাগান এলাকার মসজিদগুলো ঘুরে দেখা গেছে, অনেক বয়স্ক মানুষ জুমার জামাতে অংশ নিতে মসজিদে গিয়েছেন। অনেকেই সঙ্গে নিয়ে গেছেন শিশুদের। এছাড়া নামাজের আগে ও শেষে মুসল্লিদের অনেককেই জড়ো হয়ে গল্প করতেও দেখা গেছে। কোনও কোনও মসজিদের সামনে জড়ো হয়েছেন ভিক্ষুকরাও। মুসল্লিদের মধ্যে ইসলামিক ফাউনন্ডেশনের নির্দেশনা মানার আগ্রহ দেখা যায়নি।

রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে অন্যান্য দিনের তুলনায় শুক্রবার মুসল্লি কম ছিল। তবে সেখানেও বয়স্কদের উপস্থিতি ছিল বেশি। মোশাররফ হোসেন নামের এক বয়স্ক মুসল্লি বলেন, আমার বয়স হয়েছে ঠিকই, তবে আমি তো অসুস্থ না। আমি কেন মসজিদে আসবো না? আর আমি আল্লাহকে ভয় পাই, করোনাকে না। সরকার তো মসজিদ বন্ধ করেনি, তাহলে আমি আসলে সমস্যা তো নাই।

রাজধানীর হাইকোর্ট মাজার মসজিদের বাইরে দেখা গেছে সাহায্যের আশায় শতাধিক দরিদ্র মানুষ ভিড় করেছেন। কোনও রকম দূরত্ব বজায় না রেখেই তাদের ভিড় করতে দেখা যায়। অনেক মুসল্লি নামাজ শেষে তাদের সাহায্যও করেছেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ মার্চ ইসলামিক ফাউন্ডেশন দেশের খ্যাতনামা আলেমদের সঙ্গে করোনা ভাইরাস সংক্র’মণের কারণে বিরাজমান পরিস্থিতিতে জনগণের সুরক্ষা বিষয়ে বৈঠক করে। সেই বৈঠকে আলেমরা মসজিদগুলোতে জুমার নামাজ ও জামাতে মুসল্লিদের সীমিত রাখার পরামর্শ দেন। এরপর ২৯ মার্চ আলেমদের নিয়ে ফের বৈঠক করে ইফা।

পরে ইফার পক্ষ থেকে জানানো হয়, মসজিদে নিয়মিত আজান, ইকামত, জামাত ও জুমার নামাজ অ’ব্যাহত থাকবে। যারা জুমা ও জামাতে যাবেন তারা সবাই যেন যাবতীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা অবলম্বন করেন। ওযু করে নিজ নিজ ঘরে সুন্নাত ও নফল আদায় করবেন। শুধু জামাতের সময় মসজিদে যাবেন এবং ফরজ নামাজ শেষে দ্রুত ঘরে চলে আসবেন।

তবে এসবের কোনও প্রতিফলন দেখা না যাওয়ায় করোনা সংক্র’মণের ঝুঁ’কি থেকেই যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দিল্লিতে তাবলীগ থেকে যেভাবে করোনা ছড়িয়ে পড়েছে ভ’য়াবহ গতিতে, তেমন অবস্থা যেন এখানে না হয়, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে এখনই।

শেয়ার করুন !
  • 101
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!