মৃ’ত্যুহারে ইউরোপ-আমেরিকাকে ছাড়িয়ে যাবে ভারত, চিকিৎসকরা নিরুপায়!

0

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

করোনার এপিসেন্টার এখন ইউরোপ ও আমেরিকা। মৃ’ত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে ইতালি, স্পেন, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রিটেনসহ ইউরোপের অনেক দেশ। তবে প্রাণঘা’তী এই ভাইরাসের পরবর্তী এপিসেন্টার হয়ে উঠতে পারে ভারত।

মুম্বাইয়ে এশিয়ার বৃহত্তম ধারাবি বস্তিতে করোনায় আক্রা’ন্ত হয়ে একজন মা’রা যাওয়ার পর দেশটির শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসকরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, করোনা ভাইরাসের সম্ভাব্য ব্যাপক সংক্র’মণ ঠেকানোর জন্য ভারতকে অবশ্যই প্রস্তুতি নিতে হবে। যথাযথ পদক্ষেপ না নেয়া হলে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভে’ঙে পড়ার পাশাপাশি করোনায় মৃ’ত্যুপুরী ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যেতে পারে ভারত।

ধারাবি বস্তিতে বুধবার করোনায় আক্রা’ন্ত ৫৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তি মা’রা যান। মুম্বাইয়ের ব্রিহানমুম্বাই পৌর কর্পোরেশনের (বিএমসি) এক কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেছেন, মৃ’ত ব্যক্তির বিদেশ ভ্রমণের কোনো ইতিহাস ছিল না। স্থানীয় কিরণ দিগাভকর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল তাকে। সেখানে করোনা পরীক্ষায় পজিটিভ ফল আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মা’রা যান তিনি।

পরে ওই ব্যক্তির পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যের করোনা পরীক্ষা করা হয় এবং তাদের সবাইকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এই ব্যক্তি বস্তির যে ব্লকে থাকতেন সেখানে ৩০০ ঘর ও ৯০টি দোকান রয়েছে। করোনার বিস্তার ঠেকাতে ব্যাপক ঘনবসতিপূর্ণ সেই ব্লক বর্তমানে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ব্রিহানমুম্বাই পৌর কর্পোরেশনের ৫২ বছর বয়সী এক পরিচ্ছন্নকর্মীর করোনা পরীক্ষার ফল পজিটিভ এসেছে। এশিয়ার বৃহত্তম মুম্বাইয়ের ধারাবি বস্তিতে ১০ লাখের বেশি মানুষের বসবাস। এই বস্তির প্রতি বর্গকিলোমিটারে মানুষের ঘনত্ব ২ লাখ ৮০ হাজার; যা যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের চেয়ে ৩ গুণ বেশি।

দেশটির চিকিৎসকরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ভারতের অসংখ্য বস্তির একটিতেও যদি করোনার স্থায়ী প্রা’দুর্ভাব শুরু হয়; তাহলে পরিস্থিতি একেবারে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। কারণ ভারতের অধিকাংশ বস্তিতে স্যানিটেশন এবং বিশুদ্ধ পানির সুব্যবস্থা নেই। এছাড়া হাজার হাজার মানুষ গাদাগাদি করে সেখানে জীবন-যাপন করেন। এসব বস্তিতে সামাজিক দূরত্ব শারীরিক কিংবা অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখা প্রায় অসম্ভব।

ভারতে প্রা’দুর্ভাব শুরু হওয়ার পর মুম্বাইয়ের ওই বস্তিতে করোনায় এটি ২য় মৃ’ত্যু বলে নিশ্চিত করেছেন ব্রিহানমুম্বাই পৌর কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা। মালবানি বস্তির ৬৩ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের শরীরে গত মঙ্গলবার করোনা সংক্র’মণ ধরা পড়ে। করোনা পরীক্ষায় পজিটিভ ফল আসার পর ওইদিন সন্ধ্যায় তিনি মা’রা যান।

রাজধানী নয়াদিল্লির কাছের গুরুগ্রামের মেডান্টা-দ্য মেডিসিটি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যান চিকিৎসক নরেশ ত্রিহান বলেন, কোনো বস্তিতে করোনার বিস্তার ঘটছে কি না তা কর্তৃপক্ষের জানাটা গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যখন জানলাম যে একটি বস্তিতে করোনা পাওয়া গেছে এবং আমরা সেটি লকডাউন করে দিলাম। আমরা প্রত্যেককে খাবার দিচ্ছি এবং তাদেরকে ২ সপ্তাহের জন্য আইসোলেট করেছি। আমরা যদি তাদের পর্যাপ্ত খাবার দিতে পারি, তাহলে এটি ফলপ্রসূ হবে। আমরা শুধুমাত্র আশ’ঙ্কাজনক লোকদের অবস্থা জানতে পারছি। কিন্তু যার মৃদু উপসর্গ আছে, তাদেরকে বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনে রাখা যেতে পারে। তাই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর ওপর নজরদারি করতে হবে।

ভারতে বস্তিতে করোনার হানার এই খবর এমন এক সময় এল, যখন দেশটিতে মাত্র ৪ দিনের ব্যবধানে সংক্র’মণ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। তাদের অনেকের সঙ্গে দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজে তাবলিগ জামাতের একটি ধর্মীয় জমায়েতের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। সেখান থেকে হাজারো মানুষের মাঝে করোনা সংক্র’মণ ছড়িয়ে পড়েছে।

শুক্রবার ভারতে নতুন করে ২৩০ জনের বেশি মানুষের শরীরে করোনার উপস্থিতি ধরা পড়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে মোট আক্রা’ন্তের সংখ্যা ৩ হাজার ৮২ জন এবং মৃ’ত্যু হয়েছে ৮৬ জনের। দেশটির চিকিৎসকরা বলছেন, ব্যাপক মাত্রায় করোনার কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের জন্য ভারতকে প্রস্তুতি নেয়া দরকার। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত সপ্তাহে যে ২১ দিনের লকডাউন ঘোষণা করেছেন, সেটিও বাধ্যতামূলক মেনে চলা উচিত।

চিকিৎসক নরেশ ত্রিহান বলেন, আমরা ইতিমধ্যে কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের আলামত পেয়েছি। কিন্তু এটা কীভাবে ছড়াচ্ছে সেটা অজানা। আমরা যে ধরনের প্রস্তুতিই নিই না কেন, যখন এটি একেবারে চূড়ান্ত মাত্রায় সংক্র’মণ ঘটাবে তখন কী ঘটবে সেটা ভেবেই আঁতকে উঠি। আমাদের কাছে প্রয়োজনীয় শয্যা, ভেন্টিলেটর, পিপিইর এক চতুর্থাংশও নেই। এসব কিছুই দরকার।

১৩০ কোটি মানুষের চলাচল ও প্রাত্যহিক জীবন-যাপনে কড়াকড়ি আরোপে ভারত সরকারের নেয়া নজিরবিহীন সিদ্ধান্তই দেশটিতে করোনার হট স্পট শনাক্ত করার সবচেয়ে ভালো সুযোগ তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সামগ্রী এবং ভেন্টিলেটর উৎপাদনের মূল্যবান সময় দেয়া হয়েছে।

ভারতীয় এই চিকিৎসক বলেন, ঈশ্বরের দিব্যি, আমরা যদি ইউরোপ-আমেরিকার মতো পরিস্থিতিতে পৌঁছাই, তাহলে আমরা এটিকে কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবো না।

ভারতে পরীক্ষা বাড়ানোর দরকার উল্লেখ করে ত্রিহান বলেন, এই মুহূর্তে পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানো দরকার। এটা কীভাবে ছড়িয়ে যাচ্ছে সেটি জানার জন্য আমাদের পরীক্ষা বৃদ্ধি করা দরকার। আমরা যদি হট স্পট সম্পর্কে জানতে না পারি, আমরা যদি এই ভাইরাস সংক্র’মণের পকেটগুলো জানতে না পারি, তাহলে এই দেশ তো বিশাল; অসংখ্য মানুষ আছেন; তাদেরকে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হবে না।

সূত্র-সিএনএন।

শেয়ার করুন !
  • 453
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply